সুমনের ‘রইদ’–এর সঙ্গে ‘দিল্লি ক্রাইম’–এর প্রযোজনা সংস্থা
নেদারল্যান্ডসের রটারড্যামে চলছে রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। এবারের উৎসবে টাইগার কম্পিটিশন বিভাগে লড়ছে বাংলাদেশের সিনেমা ‘রইদ’। উৎসবের মাঝেই সিনেমাটি নিয়ে জানা গেল নতুন খবর। মেজবাউর রহমান সুমনের সিনেমাটির সঙ্গে নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হলো ইন্টারন্যাশনাল এমি অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী প্রযোজক অপূর্ব বকশির প্রযোজনা সংস্থা উইডিশাস অরিজিনালস।
২০২২ সালের ব্যাপক সাফল্য পাওয়া ‘হাওয়া’ সিনেমার পর সুমনের এটি দ্বিতীয় সিনেমা। মুক্তির পর ‘হাওয়া’ বাংলাদেশি চলচ্চিত্র হিসেবে প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রের বক্স অফিসে স্থান করে নিয়েছিল, বাংলাদেশ থেকে অস্কারে মনোনয়নও পেয়েছিল।
‘রইদ’ সিনেমাটি বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলে এক যুগলের প্রায় নিভৃত জীবনকে কেন্দ্র করে আবেগ, আকর্ষণ ও সম্পর্কের গভীরতা অনুসন্ধান করে। গল্পের মূল চরিত্র, লাজুক এক পুরুষ, তার অস্থির স্ত্রীকে বারবার অজানা জায়গায় ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করে; কিন্তু প্রতিবারই স্ত্রী ফিরে আসে।
অপূর্ব বকশি ভ্যারাইটিকে বলেন, ‘মেজবাউরের “রইদ” শক্তিশালী, পৌরাণিক ও মানবিক—এটি আবেগকে একধরনের প্রাকৃতিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করে। ছবিটির মৌলিক বার্তা হলো—জীবন নিজেই নিজের জন্য আকাঙ্ক্ষিত। এমন দার্শনিক সাহসিকতা খুব কম সিনেমায় দেখা যায় এবং এটি আমাদের গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।’
সিনেমাটি নিয়ে সুমন ভ্যারাইটিকে বলেন, ‘এই সিনেমা একটি সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত। আমার মা আমাকে বলেছিলেন এমন একটি গল্পের কথা, যেখানে এক দম্পতি আমার দাদার বাড়িতে কাজ করতেন। স্বামী বারবার স্ত্রীকে ছেড়ে দিত, কিন্তু তিনি প্রতিবারই ফিরে আসতেন। এই পুনরাবৃত্তি আমাকে প্রাথমিক কোনো বন্ধনের অনুভূতি দিয়েছে, যা যুক্তি ছাড়িয়ে মানুষের মধ্যে গভীর সম্পর্ককে বোঝায়।’
এই প্রকল্পের সহপ্রযোজক হিসেবে আছেন মুশফিকুর রহমান ও তানভীর আহমেদ, শিমুল চন্দ্র বিশ্বাস, তানভীর হোসেন ও সুমন।
মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘সুমন একজন ভিশনারি পরিচালক। “হাওয়া” থেকে “রইদ” তার স্বপ্ন ও দৃষ্টিভঙ্গি অনন্য। আমরা গর্বিত যে একটি সিনেমা তৈরি করেছি, যা দর্শকদের মুগ্ধ করবে।’
‘রইদ’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, নাজিফা তুষি, গাজী রাকায়েত। চিত্রগ্রহণে জহির মুসাভীর। ‘রইদ’ ২০২৪ সালে ভারতের ফিল্ম বাজারে কোপ্রোডাকশন মার্কেটে নির্বাচিত হয়।
অপূর্ব বকশি ২০২০ সালে মনিশা থ্যাগারাজানের সঙ্গে যৌথভাবে উইডিশাস অরিজিনালস প্রতিষ্ঠা করেন। কোম্পানিটি তাদের যাত্রা শুরু করে এমি বিজয়ী নেটফ্লিক্সের সিরিজ ‘দিল্লি ক্রাইম’ দিয়ে। এরপর বানিয়েছে ‘দ্য হান্ট ফর ভীরাপ্পন’, ‘ডব্লিউওএমবি (উইমেন অব মাই বিলিয়ন’, ‘দ্য গ্লাসওয়ার্কার’–এর মতো প্রশংসিত প্রকল্প।
ভ্যারাইটি অবলম্বনে