‘সবাইকে বলব একবার এখানে ঘুরে যাওয়া উচিত’, ‘আলো’ প্রদর্শনী দেখে জয়া আহসান
সংঘবদ্ধ উগ্রবাদীদের হামলার শিকার প্রথম আলোর ভবন নিয়ে আয়োজিত শিল্পী মাহ্বুবুর রহমানের তৈরি করা ‘আলো’ শীর্ষক প্রদর্শনী দেখতে এসেছিলেন সরকারের প্রতিমন্ত্রী, খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী, কূটনীতিক, অভিনয়শিল্পীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষেরা। পুড়ে যাওয়া কম্পিউটার, যন্ত্রাংশ, ভাঙা আসবাব ও বইপত্রের ধ্বংসাবশেষ দেখে অনেকেই আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। প্রদর্শনী দেখতে আজ বুধবার দুপুরে এসেছিলেন অভিনেত্রী জয়া আহসান। অভিনেত্রীর মতে, এটি সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর দেখা সেরা প্রদর্শনী। সঙ্গে এখানে দ্রুত কর্মচাঞ্চল্য ফেরার আশাও ব্যক্ত করেছেন তিনি।
জয়া আহসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এর আগে হিরোশিমা পিস মেমোরিয়াল মিউজিয়ামে গিয়ে খুব কষ্ট পেয়েছিলাম, এখানে এসেও অনেক খারাপ লাগছে। এ প্রদর্শনীর মাঝে কেমন যেন সেটার ছায়া খুঁজে পাচ্ছি। যে জায়গাটা একসময় কর্মচঞ্চলতায় মুখর ছিল, সে জায়গাটা এ রকম কঙ্কালসার হয়ে গেছে। এটাকে নেওয়ার মতো আসলে খুব সাহস হয়নি বলে এর আগে আমি আসিনি।’
প্রদর্শনীর প্রতিটি শিল্পকর্ম ঘুরে দেখেন জয়া। বিভিন্ন বিষয়ে জানতেও চান। এ ভবনে নিজের স্মৃতিও তখন তুলে ধরেন তিনি। প্রদর্শনীতে সে রাতের বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ দেখে তাঁকে আবেগতাড়িত হতে দেখা যায়।
সবশেষে সেখানে পুনরায় স্বাভাবিক জীবন ফিরে আসার প্রত্যাশা করেন জয়া। অভিনেত্রী বলেন, ‘সত্যটাকে মেনে নিয়ে, আবার তা থেকে জীবন খোঁজা অসাধারণ একটা থিম মনে হয়েছে। সবাইকে বলব একবার করে এসে এই প্রদর্শনী ঘুরে যাওয়া উচিত। সাম্প্রতিক কালে আমি যেসব প্রদর্শনী দেখেছি, এর মাঝে এটিকে দুর্দান্ত আইডিয়া মনে হয়েছে। চাই, এখানে আবার কর্মচঞ্চলতা ফিরুক। সব স্বাভাবিক হোক।’
শিল্পী মাহ্বুবুর রহমানের তৈরি করা ‘আলো’ শীর্ষক এই প্রদর্শনী শুরু হয় ১৮ ফেব্রুয়ারি। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অগ্নিদগ্ধ ভবনটিতে প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ১টা এবং বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে। এই প্রদর্শনী চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।