মৌসুমী–ওমর সানীর প্রেম শুরুর গোপন কাহিনি! ৩০ বছর আগের অপ্রকাশিত ছবি
কয়েক দিন আগে একজন শুভাকাঙ্ক্ষী ওমর সানীকে একটি ছবি পাঠান। চিত্রনায়িকা স্ত্রী মৌসুমীর সঙ্গের সেই দুর্লভ ছবিটি পেয়ে স্মৃতিকাতর হন ওমর সানী। আজ বৃহস্পতিবার ফেসবুকে ছবিটি পোস্ট করেছেন এই ঢালিউড তারকা।
ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘ফিরে দেখা, একদিন বর্তমানও পিছনে ফিরে দেখবে।’ ছবিটি বিয়ের আগে তোলা হলেও সময়, স্থান এবং পরিস্থিতি নিয়ে সানী কিছুই মনে করতে পারছিলেন না। ফেসবুকে পোস্টের পর খুঁজে পান ছবিটি, যাঁর ক্যামেরায় ধারণ করা হয় তাঁকে।
ফটোগ্রাফার শিবেন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের পর জানা যায়, ছবিটি ৩০ বছর আগে শুটিংয়ের ফাঁকে এফডিসিতে তোলা হয়েছিল, জসীম ফ্লোরের সেটে। তবে কোন ছবির শুটিং, তা তিনিও মনে করতে পারলেন না।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৩২ বছর চলচ্চিত্রে অভিনয় করা ওমর সানী এখন নিয়মিত অভিনয় করেন না। নিজের রেস্টুরেন্ট ব্যবসার পাশাপাশি আবাসন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে মৌসুমী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। ওমর সানী আরও বলেন, ‘ছবিটা বিয়ের আগে তোলা হয়েছিল। মৌসুমীর পরনের টি–শার্টটাও আমার। তখন সবে আমাদের প্রেমের সম্পর্কের শুরু। মনে মনে একরকম ভালো লাগা তৈরি হয়। তখনকার মুহূর্তগুলো মনে পড়ে, মনে হয় যেন সময় থেমে গেছে। এমন স্মৃতি আজও আমাদের আনন্দ দেয়।’ ফেসবুকে প্রকাশিত এই ছবিটিও সেই পুরোনো দিনের স্মৃতিকে জীবন্ত করে তুলেছে বলে মনে করছেন ওমর সানী।
‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মহরতে মৌসুমী আর ওমর সানীর প্রথম দেখা। তত দিনে ওমর সানীর প্রথম সিনেমা মুক্তি পেলেও মৌসুমীর তখনো শুটিংই শুরু হয়নি। তাঁদের প্রথম কথা হয় মৌসুমীর বাসায়, তা–ও ১৯৯২ সালের ঘটনা। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবিটি তখনো মুক্তি হয়নি। নতুন একটি সিনেমায় ওমর সানীর বিপরীতে মৌসুমীকে নিতে চাইলেন পরিচালক শেখ নজরুল ইসলাম। সে বিষয়ে কথা বলতেই সানীকে নিয়ে মৌসুমীর বাসায় হাজির হলেন পরিচালক। মৌসুমীরা তখন ঢাকার মোহাম্মদপুরের হুমায়ুন রোডে থাকেন। ড্রয়িংরুমে বসার ২০ মিনিট পর মৌসুমী এসে বসলেন।
সানীর উদ্দেশে সেদিন মৌসুমী বলেছিলেন, ‘সানী ভাই, আপনার “চাঁদের আলো” তো আমরা সবাই দেখলাম। বেশ ভালো করেছেন। কিন্তু আমি তো এই ছবিটা করতে পারছি না। অন্য কমিটমেন্ট আছে।’ মন খারাপ করে বাসায় ফিরে যান ওমর সানী। ১৯৯৩ সালে মুক্তি পায় ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর ওমর সানী ও মৌসুমীকে নিয়ে একটি সিনেমা বানানোর পরিকল্পনা করেন চার-পাঁচজন প্রোডাকশন ম্যানেজার। মোহাম্মদপুরে একটি শুটিং স্পটে ওমর সানীর সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা। বললেন, ‘আমরা একটা সিনেমা বানাব, ‘দোলা’। নাম শুনেই ওমর সানী বললেন, ‘না না। নারীপ্রধান ছবি করব না।’ ওমর সানীর চার-পাঁচটি ছবি তখন সুপারহিট। না বলার পরও গল্পটা শুনে ভালো লাগল, রাজি হয়ে গেলেন সানী।
‘দোলা’ সিনেমা দিয়ে জুটি গড়লেন মৌসুমী-সানী। সিলেটে আউটডোরে শুটিং করতে গিয়ে দুজনের মনোমালিন্য হলো। কাজ শেষ করে ঢাকায় ফিরলেন তাঁরা। ওমর সানী বলেন, ‘এরপর কেন জানি মেয়েটার জন্য মায়াই লাগল। যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা দিয়েছিল, সেটা ওর (মৌসুমী) ব্যক্তিত্ব। ওই সময় অন্য যাঁরা কাজ করতেন, তাঁদের থেকে আলাদা। তাঁর বাবাও ছিলেন খুব স্মার্ট ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন। পুরো পরিবারের প্রতি আলাদা একটা শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হলো। ভেতরে-ভেতরে হয়তো ভালোবাসাও জন্মে গেল।’
পরে রায়হান মুজিব পরিচালিত ‘আত্ম অহংকার’–এর মুক্তি উপলক্ষে একটি ম্যাগাজিনে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ওমর সানী মুখ ফসকে বলে ফেলেন, ‘আমি ওকে (মৌসুমী) ভালোবাসি। ও আমাকে ভালোবাসে কি না জানি না।’ ওমর সানীর সাক্ষাৎকার পড়ে মৌসুমী অবাক। সানীকে বললেন, ‘এটা বলা কি আপনার ঠিক হলো?’
সানীর উত্তর, ‘বলেছি তো বলেছিই। ঠিক হইছে কি না, জানিটানি না। কইয়াই তো ফালাইছি। ভালোবাসা না হইলে যাও, তুমি তোমার মতো কাজ করো, আমি আমার মতো। মানুষ যদি কিছু বলে আমারে বলবে।’ এরপর প্রেম–ভালোবাসা ও বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে বেশি দিন লাগেনি। ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ মৌসুমী–ওমর সানী বিয়ে করেন। তবে দুজনের বিয়ের খবর কেউ জানতেন না। ওমর সানী জানালেন, বিয়ের পর দুজনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম কাজ চালিয়ে যাবেন, তাই কাউকে জানাননি। বিয়ের পর তাঁরা একসঙ্গে সিনেমায় অভিনয় করেছেন। উপহার দিয়েছেন ব্যবসাসফল সিনেমাও।