অনুদানের সিনেমা জমার জন্য সময় বাড়ল, বাড়বে কি প্রতিযোগিতা

সরকারি অনুদানে তৈরি কয়েকটি সিনেমার দৃশ্যকোলাজ

যাঁরা সরকারি অনদুান নিয়ে ছবি বানাতে আগ্রহী, তাঁদের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি অনুদানে পূর্ণদৈর্ঘ্য ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য প্রস্তাব জমাদানের সময়সীমা আবার এক মাস বাড়াতে যাচ্ছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগ্রহী নির্মাতারা আগামী ১ এপ্রিল পর্যন্ত তাঁদের পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ প্রস্তাব জমা দিতে পারবেন। এর আগে কাহিনি, চিত্রনাট্য ও চলচ্চিত্র নির্মাণের সার্বিক পরিকল্পনা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ১ মার্চ। সময় বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মাহফুজা আখতার।

সরকারি অনুদানে সিনেমা ‘দেবী’তে জয়া আহসান ও অনিমেষ আইচ
ছবি : সংগৃহীত

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি অনুদানে চলচ্চিত্র নির্মাণের লক্ষ্যে কাহিনি ও চিত্রনাট্য বাছাইয়ের জন্য এর আগে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রযোজক, পরিচালক, চলচ্চিত্র নির্মাতা, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পেশাদার প্রতিষ্ঠান, লেখক ও চিত্রনাট্যকারদের কাছ থেকে প্যাকেজ প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত ৩ দফায় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ১৮৯টি এবং স্বল্পদৈর্ঘ্যের ১৪০টি প্রস্তাব জমা পড়েছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রত্যাশা, এবারই শেষ, এরপর আর মেয়াদ বাড়ানো হবে না। আশা করা হচ্ছে, এই সময়ের মধ্যে পূর্ণদৈর্ঘ্য ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রস্তাবনা প্রত্যাশিত যা, তা জমা পড়বে।

সরকারি অনুদানের সিনেমা ‘গলুই’ এ অভিনয় করেছেন শাকিব খান
ছবি: সংগৃহীত

চলচ্চিত্র শিল্পের প্রসার এবং মেধা ও সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আগামী অর্থবছরে সর্বোচ্চ ১২টি পূর্ণদৈর্ঘ্য এবং ২০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য—মোট ৩২টি চলচ্চিত্রে সরকারি অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। যাঁরা ছবির প্রস্তাবনা দিতে আগ্রহী, তাঁদের পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্য ১টি মূল কপিসহ ১২ সেট এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রেও ১টি মূল কপিসহ ১২ সেট পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ প্রস্তাব জমা দিতে হবে।

সময় বাড়ানোর ফলে অনুদান পাওয়ার প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, অতিরিক্ত সময় কাজে লাগিয়ে নির্মাতা ও প্রযোজকেরা আরও পরিপূর্ণ ও পরিকল্পিত প্রস্তাব জমা দেবেন। এতে করে এবার অনুদানের জন্য জমা পড়া প্রস্তাবের মান যেমন বাড়বে, তেমনি চূড়ান্ত নির্বাচনের প্রক্রিয়াও হয়ে উঠতে পারে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।