রায়হান রাফি সম্পর্কে এই পরিচালক লিখেছেন, ‘ছেলেটা মাদ্রাসায় পড়ছে, ভালো ইংরেজি বলে না, আমাদের হাই সোসাইটির সদস্য না বা ওর ছবিতে একটা র (স্বভাবগত) ব্যাপার থাকে, সেই জন্যে ওকে নিয়ে সুশীল সমাজ খুব একটা টগবগায় না। কিন্তু ওর প্রথম শর্ট ফিল্ম দেখার পরেই আমার মনে হয়েছিল, রাফি অডিও-ভিজ্যুয়াল ল্যাঙ্গুয়েজটা বোঝে। এমন না যে সে একটা ফিনিশড প্রোডাক্ট।’

‘দামাল’ ছবিটিকে ফারুকী স্মার্ট মূলধারার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। স্মার্ট মূলধারার অনন্য উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বললেন ‘মনপুরা’ ও ‘আয়নাবাজি’ ছবির কথা। রায়হান রাফির ছবিটি নিয়ে ফারুকী বলেন, ‘“দামাল” স্মার্ট মূলধারার মধ্যে একটা বড় উদাহরণ হয়ে থাকল। “দামাল”-এর স্ট্রাকচার লিনিয়ার, কোনো সহজ স্ট্রাকচার নয়। আবার একই সঙ্গে “দামাল” অ্যাবসলিউটলি অরিজিনাল কিছু নিয়ে ডিল করেনি। এ ধরনের ছবিকে যদি আপনাকে আকৃষ্ট করতে হয়, তাহলে ছবিটার স্ক্রিপটিং, ফিল্মিং, এডিটিং, মিউজিক স্কিল ফুললি করতে হয়। রায়হান রাফি ও তার টিম কাজটি সফলভাবে করতে পেরেছে।’

‘দামাল’ ছবিতে যে কোনো ভুল নেই, তা কিন্তু ফারুকী বলছেন না। প্রসঙ্গটি উল্লেখ করে তিনি বললেন, ‘“দামাল”-এ কোনো ডাউন সাইড নেই? নিশ্চয়ই আছে। কোথায় থাকে না? সেই ডাউন সাইড আমার বলারও প্রয়োজন নেই। সেটা রাফি নিজ দায়িত্বেই বুঝে পরের ছবিতে খেয়াল রাখবে। আমার শুধু বলা প্রয়োজন, “গুড জব, রাফি। কিপ ইট আপ।” সামনে আরও ভালো কাজ দেখার অপেক্ষায়।’

তবে ‘দামাল’ নিয়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ভীষণ আশাবাদী। তিনি মনে করেন, ছবিটি ব্যবসাসফল হবে। আর হলে এটা বাংলাদেশের সিনেমার জন্য দারুণ খবর হবে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের গড়ে ওঠার ইতিহাসের ‘নির্যাস’ নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘দামাল’।

ইতিহাসের আঁচড়ে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ফুটবল ও প্রেমকে উপজীব্য করে সিনেমার গল্প লিখেছেন শিশুসাহিত্যিক ও ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর। যৌথভাবে এর চিত্রনাট্য করেছেন রায়হান রাফি ও নাজিম উদ দৌলা। ‘দামাল’-এ অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মিম, শরীফুল রাজ, সিয়াম আহমেদ, সুমিত, রাশেদ অপু, সাঈদ বাবু, শাহনাজ সুমি, বৃষ্টি, অথৈ, পূজা প্রমুখ।