এফডিসি থেকে ফেরার পথে ছিনতাইকারীর কবলে কান ছিঁড়ে গেল নায়িকার

ছিনতাইকারীর কবলে অভিনেত্রী রঞ্জিতা কনা। ছবি: কোলাজ

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন ঘিরে এখন সরগরম বিএফডিসির (বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন) চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির অফিস। সেই নির্বাচনের পরিবেশ দেখতে গতকাল রোববার সমিতির অফিসে এসেছিলেন অভিনেত্রী রঞ্জিতা কনা। দীর্ঘদিন পর সহকর্মীদের সঙ্গে নির্বাচনসহ নানা বিষয়ে আড্ডা জমে যায়। কিন্তু ফেরার পথে রামপুরা এলাকায় এই অভিনেত্রীর সঙ্গে ঘটে ছিনতাইয়ের মতো দুর্ঘটনা। এতে অভিনেত্রীর কান ছিঁড়ে যায়। পরে সাতটি সেলাই লাগে।

এমন ঘটনায় বেশ ভয়ে পেয়ে যান ‘ঢাকা ৮৬’–র নায়িকা রঞ্জিতা। পরে তাঁকে অভিনয়শিল্পী সমিতির সদস্যদের সহায়তায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতেই তাঁকে দেখতে ভিড় করতে থাকেন সহকর্মীরা। এ ঘটনা প্রসঙ্গে অভিনেত্রী এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘শিল্পী সমিতির নির্বাচন আমাদের কাছে সব সময় উৎসবমুখর। সেটা দেখার জন্য আমি এফডিসিতে গিয়েছিলাম। রাতের দিকে বাসার ফেরার সময় হঠাৎ কেউ আমাকে অনুসরণ করছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেই ছিনতাইকারী আমার কানের দুল ধরে টান দেয়।’

হাসপাতালে তাঁকে দেখতে যান সহকর্মীরা। ছবি: ফেসবুক থেকে

এ ঘটনায় চিৎকার করারও সময় পাননি রঞ্জিতা। ভয়ে কোনো কথাও বলতে পারছিলেন না। তিনি লক্ষ করেন, কান থেকে তাঁর দুল টান দিয়ে ছিনতাইকারী পালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি প্রচণ্ড ভয় পেয়ে গেছি। পরে চিৎকার করি। তখন দেখি কান থেকে রক্ত ঝরছে। আমার কানে দুল নাই। ছিনতাইকারী দুল টান দেওয়ায় কানটা ছিঁড়ে গেছে। আমার কান দুই ভাগ হয়ে গেছে।’

পরে এই অভিনেত্রী শিল্পী সমিতির সদস্যদের ফোন দিয়ে সহায়তা চান। এ সময় রঞ্জিতা জানান, অনেকেই তাঁকে সহায়তা করেননি। পরে জয় চৌধুরীকে ফোন দিলে সঙ্গে সঙ্গে চলে আসেন। রঞ্জিতা বলেন, ‘জয়সহ কয়েকজন আমাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করায়। আমার কানে সাতটি সেলাই দিতে হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা প্রথম। আমি এমনিতেই কিছুটা অসুস্থ, এমন অভিজ্ঞতা যেন আর কারও সঙ্গে না হয়।’

অভিনেত্রী রঞ্জিতা। ছবি: ফেসবুক থেকে

এ ঘটনা ঘটে রামপুরা বাজার এলাকায়। সেখানেই একটি গলি দিয়ে বাসায় যাচ্ছিলেন রঞ্জিতা রাত সাড়ে ৯টার দিকে। জয় চৌধুরী বলেন, ‘আমি রাতে হঠাৎ দেখি রঞ্জিতা আপুর মোবাইল ফোন থেকে তিনটি কল ও একটি এসএমএস। সেখানে লেখা জরুরি। পরে ফোন দিয়ে জানতে পারি রঞ্জিতা আপুর অবস্থা। সঙ্গে সঙ্গে চলে যাই। হাসপাতালে গিয়ে দেখি তখনো রক্ত থামছিল না। চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে কানে সেলাই দেওয়া হয়। তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া চাই।’

এই অভিনেত্রীর ডায়াবেটিস ও প্রেশার অনেক বেশি ছিল। যে কারণে তিনি এখনো রামপুরার একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। জয় জানালেন, পরিস্থিতি বুঝেই তাঁকে বাসায় নেওয়া হবে। এ ঘটনায় কোনো মামলা বা জিডি করেননি। তবে পরিকল্পনা করছেন। তিনি আরও জানান, ছিনতাইকারী শুধু দুল নিয়েই পালিয়ে যায়।

আরও পড়ুন
‘ঢাকা ৮৬’ সিনেমায় বাপ্পারাজের নায়িকা হয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন রঞ্জিতা। ছবি: ফেসবুক

আশির দশকের শেষ ভাগে নায়করাজ রাজ্জাকের পরিচালনায় ‘ঢাকা ৮৬’ সিনেমায় বাপ্পারাজের নায়িকা হয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন রঞ্জিতা। প্রথম সিনেমা দিয়েই পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন তিনি।

প্রথম সিনেমায় নজর কাড়ার পর নায়করাজের পরিচালনায় ‘রাজা মিস্ত্রী’ ও ‘জ্বীনের বাদশা’ সিনেমায় অভিনয় করেন। প্রায় ৩০টি সিনেমার এ অভিনেত্রীকে ২০০৫ সালের পর আর সিনেমায় পাওয়া যায়নি। এই অভিনেত্রী শারীরিক প্রতিবন্ধী ভাইকে নিয়ে ঢাকার বনশ্রীর একটি বাসায় ভাড়া থাকেন। তাঁর এক ছেলে রয়েছে।