মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সভাপতি ও সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যানকে আহ্বায়ক করে গঠিত সাত সদস্যের সেন্সর আপিল কমিটিতে সংসদ সদস্য ও অভিনয়শিল্পী সুবর্ণা মুস্তাফা, সাবেক অতিরিক্ত সচিব নূরুল করিম, অভিনেত্রী সুচরিতা ও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত সদস্য হিসেবে এবং সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান সদস্যসচিব হিসেবে ছিলেন।

এদিকে আপিল বোর্ড সদস্য শ্যামল দত্তের কাছ থেকে খবরটি জানার পরপরই যোগাযোগ করা হয় পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বললেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা লিখিত এমন কিছু পাইনি। যেহেতু প্রথম আলোর মাধ্যমে জানতে পারলাম, আপিল বোর্ডের সম্মানিত সদস্য বলেছেন, “শনিবার বিকেল” ছবিটি প্রদর্শনে এখন আর কোনো বাধা নেই—আমরা এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। আপিল বোর্ড সদস্যদের বিচক্ষতাকে সম্মানও জানাই। একই সঙ্গে ফিল্ম অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশের (ফ্যাব) যেসব বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীরা মিলে আন্দোলন করেছেন, তাঁদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। এখন আমরা দ্রুতগতিতে ছবিটি মুক্তি দেব। তবে সেটা কত দ্রুত আমরা এখনো জানি না, তবে অবশ্যই “ফারাজ” মুক্তির আগেই হবে।’

সেন্সর বোর্ড সদস্য বলেছেন, ছবিটি নিয়ে পরিচালককে একটা ডিসক্লেইমার দিতে হবে এই প্রসঙ্গ তুলতেই পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী প্রথম আলোকে, ‘এখনো তো চিঠি পাইনি। চিঠি পাওয়া মাত্রই আমরা সে বিষয়ে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
শুটিং শেষে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ‘শনিবার বিকেল’ ছবিটি সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেতে জমা দেওয়া হয়। ওই বছরের ৯ জানুয়ারি ছবিটির প্রদর্শনী হয়। এত দিন পর্যন্ত ছবিটির সেন্সর ছাড়পত্র পায়নি। পরিচালকের মতে, ‘শনিবার বিকেল’ আটকানোর প্রক্রিয়ায় বহু নিয়মবহির্ভূত ঘটনা ঘটেছে।

কী রকম সেই নিয়মবহির্ভূত ঘটনা জানতে চাইলে ফারুকী প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘প্রথমে আমরা যখন ছবিটি শুট করতে যাই, আমরা তথ্য মন্ত্রণালয়ে চিত্রনাট্য জমা দিয়ে বিদেশি শিল্পী ও কলাকুশলী আনার জন্য আবেদন করি। তখন তথ্যমন্ত্রী ছিলেন হাসানুল হক ইনু। তথ্য মন্ত্রণালয় ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন দপ্তর সেই স্ক্রিপ্ট পড়ে আমাদের অনুমোদন দেয়। শুধু অনুমোদনই নয়, ওই সব দপ্তরে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা আমাদের ফোন করে উৎসাহও দেন। সেই চিত্রনাট্য থেকেই ছবিটি বানিয়ে আমরা সেন্সর বোর্ডে জমা দিলাম। সেটার প্রথম প্রদর্শনী হলো ২০১৯ সালের ৯ জানুয়ারি। সেন্সর বোর্ড সদস্যরা ছবিটি দেখে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ইন্টারভিউ দিয়ে বললেন, ছবিটি ভালো হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছবি, দ্রুত সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। তারপর যেটা ঘটল, সেটা অভাবনীয়! ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশের অনলাইনে একযোগে কিছু ধর্মীয় রাজনীতি করা মানুষের লিংকে দাবি করা হলো ‘শনিবার বিকেল’ নিষিদ্ধ করতে হবে। যাঁরা এটা করলেন, তাঁরা তো কেউই সিনেমাটা দেখেননি।’

কথায় কথায় মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এ–ও বলেছিলেন, ‘যে ছবি দেখে সেন্সর বোর্ড সদস্যরা দ্রুত সার্টিফিকেট দেওয়ার কথা বললেন, সেই ছবি কেন ১৫ তারিখে দ্বিতীয়বার দেখে সার্টিফিকেট দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলো? কে তাঁদের বাধ্য করল? আমরা আপিল করলাম। আপিল কমিটির সভাও হয়ে গেল ২০১৯-এর ফেব্রুয়ারিতে। এরপর সাড়ে তিন বছর তারা নিশ্চুপ। আমাদের কিছুই জানাল না। এটা কোন রীতি? এরপর আমরা ২০২২-এর আগস্টে ফ্যাবের পক্ষ থেকে আন্দোলন শুরু হলে মন্ত্রী মহোদয় আমাদের নেতাদের ডেকে বললেন, তাঁরা ‘শনিবার বিকেল’ ছেড়ে দেবেন। তাঁদের দুয়েকটা পর্যবেক্ষণ আছে। সেসব ঠিক করে দিলেই ছেড়ে দিচ্ছেন। তাঁরা দ্রুতই চিঠি দিয়ে জানাবেন। কিন্তু আমাদের চিঠি না দিয়ে আবারও আপিল কমিটির সভা ডাকা হলো, যে সভা তিন বছর আগেই একবার হয়ে গেছে!’