ফেসবুকে ভক্তদের সঙ্গে অনুভূতি ভাগাভাগি করে ফারুকী লিখেছেন, ‘এখন আর লুকাতে চাই না। আমি মানুষটা একাকিত্বকে মৃত্যুর মতো ভয় পাই। গত তিন বছর আমার প্রচণ্ড অভিমান হয়েছিল আমার সহযোদ্ধাদের ওপর, বাংলাদেশের ওপর। “শনিবার বিকেল”কে কেন্দ্র করে আমার ওপর যে অন্যায় করা হচ্ছিল, তা কেবল আমাকে এবং আমার বউকেই একা একা বইতে হচ্ছে ভেবে কত রাত যে মনে মনে অভিমানে দেশ ছেড়ে চলে গেছি, তার ইয়ত্তা নাই। কত রাত যে ঘুমাতে পারি নাই, হিসাব নাই।’

তবে গতকালও ঘুমাতে পারেননি ফারুকী। রাতটা ছিল ফারুকীদের জন্য অন্য রকম আবেগের, ভালো লাগার। ফারুকী লিখেছেন, ‘কালকে রাতেও আমি ঘুমাতে পারি নাই। তবে কষ্টে না, কৃতজ্ঞতার আনন্দে। মানুষের হৃদয়ের জন্য কৃতজ্ঞতার চেয়ে ভালো কোনো ওষুধ আজও আবিষ্কার হয় নাই। কাল রাত সিডনি সময় তিনটায় যখন ঘুমাতে যাই তখনো বাচ্চু ভাই, পিপলু ভাই, অমিতাভ, জুলহাজরা হয়তো আমাদের বন্ধুদের ফোন দিয়ে যাচ্ছে “শনিবার বিকেল” মুক্তির দাবিতে বিবৃতিতে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য। আর আমি ঘুমানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু আমার চোখের পাশ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। আমি কাত হয়ে শুয়ে যাতে, তিশা টের না পায়। ও আমার মেয়েকে ছড়া শোনাচ্ছে।’

ফারুকী আরও লিখেছেন, ‘সব সময় তো এ রকম হয় না যে আমরা আমাদের জড়তাকে ঠেলে একটা কোনো উদ্যোগ নিতে পারি, একসঙ্গে। সেই হিসাবে আজকের দিনটা আমাদের দেশের শিল্পীদের জন্য একটা মনে রাখার মতো দিন। “শনিবার বিকেল” মুক্তির দাবিতে ১৩০ জনের বেশি শিল্পী একটা বিবৃতি দিয়েছেন। যেটা হয়তো কালকে পত্রিকায় দেখবেন সবাই। আপনি যদি নামের লিস্ট দেখেন, তাহলে বুঝবেন কেন এটা আমাদের জন্য, আমাদের পরের জেনারেশনের জন্য একটা বিশেষ মানে বহন করে। এখানে এমন মানুষেরা আছেন, যাঁদেরকে আপনি নিয়মিত বিবৃতিতে খুঁজে পাবেন না। এখানে মূলধারা-বিকল্প ধারা-নতুন ধারা-পুরোনো ধারা নানা মত-পথের মানুষ আছেন। আমাদের মতো ভিন্ন হতে পারে, পথ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু শিল্পীর স্বাধীনতার প্রশ্নে আমরা এক। আমাদের ভবিষ্যতের প্রশ্নে আমরা এক। এখন আমরা জানি, আমরা যখন এক হয়েছি, আর কোনো কিছুই “আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না।”’

চলচ্চিত্র সমালোচক ও গবেষক ফাহমিদুল হক ‘“শনিবার বিকেল” আটকে লাভটা কার’ শিরোনামে গত ২৭ আগস্ট প্রথম আলোতে লিখেছিলেন, ‘২০১৯ সালের চলচ্চিত্র “শনিবার বিকেল” সেন্সর বোর্ড থেকে সনদ পেয়েই গিয়েছিল, বোর্ডের সদস্যরা গণমাধ্যমকে সে কথা বলেওছিলেন।’ বিবৃতিকারীরা সিনেমাটির মুক্তি চান। সেন্সর বোর্ড আবার পুনর্বিবেচেনা করলে দর্শকেরা শিগগির দেশের এই সিনেমা দেখতে পারবেন। ফারুকী এই প্রসঙ্গে লিখেছেন, ‘বিশ্বাস করি, আপিল কমিটি আগামী পরশু যে সভায় বসবে, সেখানে তাদের সুবিবেচনার পরিচয় দেবে। দ্রুত “শনিবার বিকেল” দর্শকদের কাছে যেতে পারবে। আমি আমার কলিগদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি জানি, এই ১৩০ জনের বাইরে আরও কয়েক হাজার শিল্পী বন্ধু আছেন, যাঁরা আমাদের এই দাবির সঙ্গে একমত। কিন্তু তাড়াহুড়ার কারণে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায় নাই নিশ্চিতভাবেই! সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।’