‘অনন্যা’ চরিত্রটির জন্য প্রস্তুতি কেমন ছিল?
বিদ্যা সিনহা মিম: ‘অনন্যা’ চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। মেয়েটি কখনো গ্রামে বা এমন দুর্গম জায়গায় যায়নি, এটাই তাঁর প্রথম যাওয়া। এই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়লে একটি মেয়ের মানসিক অবস্থা কেমন হয়—বিপদে পড়া, ঝামেলার সম্মুখীন হওয়া বা কী করতে হবে বুঝতে না পারা—সবকিছু নিয়ে একটা মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। শুটিং স্পটে গিয়ে যদি সত্যিই কোনো কষ্টের মধ্য দিয়ে যাই; সেটার ছাপ আমার চেহারায় ফুটে ওঠে। দুর্গম রাস্তা দিয়ে বাইকে করে যাওয়ার সময় বা ওই লোকেশনগুলোতে কাজ করার সময় আমার মনে হচ্ছিল আমি আসলেই বিপদের মধ্যে আছি। প্রথম প্রথম ওই দুর্গম রাস্তায় বাইকে চড়তে বেশ ভয় লেগেছিল, মনে হচ্ছিল এই বুঝি পড়ে যাব! তবে একদিন শুটিং করার পর পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছিলাম। পর্দার বাইরের বাস্তব অভিজ্ঞতাই পর্দায় আমার অভিনয়কে আরও স্বাভাবিক করে তুলেছে।
প্রথম আলো :
‘মালিক’–এ আপনার অভিনয় প্রশংসা পেলেও নির্মাণ নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। কাজ প্রত্যাশামতো না হলে কতটা খারাপ লাগে?
বিদ্যা সিনহা মিম: এটা খুবই স্বাভাবিক যে আমরা অনেক কাজ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে করি, কিন্তু সব সময় তো আর মনমতো হয় না। যখন একটা কাজ ঠিকঠাক হয় না, তখন খারাপ তো লাগেই। তবে এসব নিয়ে পড়ে থাকলে চলে না। সব সময় চেষ্টা করি ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী কাজে আরও মনোযোগী হতে। আমি এখন কাজ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সচেতন। অনেক গল্প পছন্দ হলেও যদি দেখি নির্মাতা সবটা ঠিকঠাক পর্দায় তুলে আনতে পারবেন না, তখন সেই কাজ করি না। অনেক সময় ভালো পরিচালকের কাজও দর্শকের পছন্দ হয় না, কারণ হয়তো তাঁরা পুরো বিষয়টা ঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেন না। তাই এখন আমি কোনো প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার আগে চিন্তা করি যে এর আউটপুট আসলে কেমন হবে। কিন্তু দেখা যায়, পরিকল্পনায় যা শুনি, বাস্তবে তার খুব সামান্যই পাওয়া যায়। শতভাগের ১০ ভাগও অনেক সময় বাস্তবায়িত হয় না। শিল্পী হিসেবে তো তখন আমার কিছু করার থাকে না।
এই কারণেই কি গত কয়েক বছর পর্দায় তেমনভাবে পাওয়া যায়নি?
বিদ্যা সিনহা মিম: একদম, সব সময় কিন্তু আমার কাছে কাজের প্রস্তাব আসে। কিন্তু ওই যে ভালো কাজের অপেক্ষায় থাকি, মনের মতো না হলে কাজ করি না। এমন করতে করতে গত দুই বছর তো কোনো কাজই করিনি। তবে সব সময় চাই এমন কাজ করতে, যা দর্শকের মনে জায়গা করে নেবে। লাইফলাইন–এর মতো কিছু ভিন্ন গল্পের কাজ নিয়ে কথাবার্তা চলছে। আশা করি, এবার আর বিরতি হবে না।
প্রথম আলো :
দীর্ঘ সময় ধরে এই ইন্ডাস্ট্রিতে আছেন। ইন্ডাস্ট্রির রূপান্তর কি দেখেন?
বিদ্যা সিনহা মিম: এখন বাজেট অনেক বেড়েছে, ওটিটিতেও প্রপার বাজেটে কাজ হচ্ছে। সিনেমার বাজেটও বেড়েছে, কিন্তু সিনেমার সংখ্যা অনেক কমে গেছে। হাতে গোনা কয়েকটি বড় সিনেমা হয় বছরে। আগে যেমন প্রচুর সিনেমা হতো, ফলে অনেক শিল্পী কাজের সুযোগ পেত। এখন সিনেমা কম হওয়ার কারণে একটা নির্দিষ্ট সার্কেল বা তথাকথিত সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। অনেকে এটাকে ‘কমফোর্ট জোন’ বলেন, যেখানে পছন্দের মানুষ বা ব্যক্তিগত আর্টিস্টদের নিয়ে কাজ করা হয়। আমি কখনোই এসব সিন্ডিকেটের মধ্যে ছিলাম না, এখনো নেই। সব সময় নিজের মতো করে কাজ করে আজকের এই অবস্থানে এসেছি।
প্রথম আলো :
ছোট পর্দায় আপনার অবস্থান বেশ ভালো ছিল। সেই সময়ের কাজের পরিবেশের সঙ্গে বর্তমানের কোনো পার্থক্য খুঁজে পান?
বিদ্যা সিনহা মিম: টেলিভিশন নাটকের তখন প্রচুর দর্শক ছিল। সন্ধ্যার পর পুরো পরিবার একসঙ্গে টিভি সেটের সামনে অপেক্ষায় থাকত। তখনকার কাজের ধরনটাই অন্য রকম ছিল, এখন সবকিছু অনেক দ্রুত হয়। সামাজিক মাধ্যমের প্রভাবে তারকাখ্যাতি যতটা দ্রুত আসছে, ততটা দ্রুত তা হারিয়ে যাচ্ছে। নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে হয়, সে সময় মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা আজও আমার জন্য রয়ে গেছে।
নাটকে ফেরার কোনো পরিকল্পনা আছে?
বিদ্যা সিনহা মিম: নাটকে ফেরা নিয়ে যদি বলতে হয়, তবে বর্তমানের নাটকের কাজের ধরন নিয়ে কিছুটা কথা বলা প্রয়োজন। সত্যি বলতে এখনকার নাটকগুলোতে আগের মতো পরিবেশ বা আয়োজন আর দেখা যায় না। একই গল্প চারদিকে। সবাই ভিউ আর ভাইরালের পেছনে ছুটছে। নাটকগুলো এখন যেভাবে নির্মিত হচ্ছে, তাতে অনেক ক্ষেত্রেই সেই মান বজায় রাখা সম্ভব হয় না। তবে আমি একবারে ‘না’ বলছি না। যদি কখনো ভালো বাজেট ও বড় পরিসরের কোনো কাজ আসে এবং সবকিছু যথাযথভাবে হয়, তবে ভবিষ্যতে কাজ করার কথা ভেবে দেখা যেতে পারে।
প্রথম আলো :
একসময় লেখালেখি করতেন, বইমেলায় আপনার বইও বের হয়েছে। এখন কি লেখালেখি করা হয়?
বিদ্যা সিনহা মিম: এখন আসলে আগের মতো গল্প বা বই লেখা হয় না। তবে নিজের ডায়েরি বা দৈনন্দিন জীবনের কিছু কথা মাঝে মাঝে লিখে রাখি। বই নিয়মিত পড়া হয়। বিদেশ গেলে বই কেনা হয়। সামনে কী আছে, জানি না। সময় পেলে আবার হয়তো লিখতে বসে পড়ব।
খাবারের টেবিল থেকে শুরু করে ঘোরাঘুরি—সামাজিক মাধ্যমে প্রায় সব জায়গাতেই আপনাকে পরিবারের সঙ্গে দেখা যায়।
বিদ্যা সিনহা মিম: আমার জীবনের প্রধান দুটি জিনিস হলো কাজ আর পরিবার। যখন কাজে থাকি, শতভাগ কাজের মধ্যেই থাকি। আবার যখন ফ্রি থাকি, পুরোটা সময় ফ্যামিলির সঙ্গে কাটাই। আমি খুব একটা বাইরের আড্ডা বা হ্যাংআউটে যাই না। এমনকি যখন রিহার্সাল বা শুটিং থাকে, সেই নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে আমি সব সময় ঘরের মানুষ।
প্রথম আলো :
আপনার ফেসবুক দেখে মনে হয়, প্রচুর ঘুরতে ভালোবাসেন...
বিদ্যা সিনহা মিম: আমি ঘুরতে ভালোবাসি, কিন্তু বেশির ভাগ সময় কাজেই বাইরে যেতে হয়। যেমন মালদ্বীপে আমাকে অনেকবার যেতে হয়েছে। এর মধ্যে শুধু একবার হানিমুন উপলক্ষে গেছি, বাকি সময় কিন্তু ব্র্যান্ড প্রমোশনেই গেছি। তবে কাজে গেলেও নিজের সময়টাও উপভোগ করার চেষ্টা করি। ঘোরাঘুরির সময় ছবি তুললেও সঙ্গে সঙ্গে পোস্ট করি না। বাসায় ফিরে শান্তিতে বসে একটা একটা করে ছবি আপলোড দিই (হাসি)।