স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন...

সোহেল রানা ও ইলিয়াস জাভেদকোলাজ

বাংলা সিনেমার সোনালি যুগ ক্রমেই তাঁর উজ্জ্বল নক্ষত্রগুলো হারাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে মারা গেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও নৃত্যপরিচালক ইলিয়াস জাভেদ। অভিনয়, নৃত্য ও সৃজনশীলতায় যিনি কয়েক দশক ধরে সমৃদ্ধ করেছেন বাংলা চলচ্চিত্রকে, তাঁর প্রস্থানে শোকস্তব্ধ চলচ্চিত্রাঙ্গন। সহকর্মী, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের চোখে আজ তিনি শুধু একজন শিল্পী নন, বরং স্মৃতিময় একটি অধ্যায়। এই বিদায়ের মুহূর্তে ইলিয়াস জাভেদকে স্মরণ করে আবেগঘন কথায় শ্রদ্ধা জানিয়েছেন চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা ও প্রযোজক সোহেল রানা—যিনি ছিলেন তাঁর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহযোদ্ধা।

চিত্রনায়ক জাভেদ
ফাইল ছবি

দীর্ঘদিনের বন্ধুকে হারানোর বেদনায় শোকাহত সোহেল রানা বলেন, ‘জাভেদ আমার খুব কাছের বন্ধু ছিলেন। তিনি আমার বহু ছবির নৃত্যপরিচালক ছিলেন, এমনকি আমার একটি ছবিতে অভিনয়ও করেছিলেন। তিনি ছিলেন একজন পাকিস্তানি, কিন্তু এই দেশকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতেন। স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং জীবনের শেষনিশ্বাস পর্যন্ত এই দেশের মানুষ ও শিল্পকে ভালোবেসে গেছেন। শান্তিতে ঘুমাও বন্ধু, তোমাকে আমি কখনো ভুলব না।’

সোহেল রানা
ছবি : প্রথম আলো

১৯৬৪ সালে উর্দু চলচ্চিত্র ‘নয়া জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন ইলিয়াস জাভেদ। তবে ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পায়েল’ সিনেমার পর দর্শকমহলে তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। ওই ছবিতে তাঁর নায়িকা ছিলেন শাবানা। সাবলীল অভিনয়, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ও নৃত্যদক্ষতার কারণে অল্প সময়েই তিনি দর্শকের প্রিয় হয়ে ওঠেন। খ্যাতিমান পরিচালক মুস্তাফিজ তাঁর নাম জাভেদ দিয়েছিলেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি ইলিয়াস জাভেদ ছিলেন একজন গুণী নৃত্যপরিচালক, তাঁর প্রকৃত নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। নৃত্য পরিচালনার মধ্য দিয়েই চলচ্চিত্রজগতে তাঁর পথচলা শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে নায়ক হিসেবে শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে ‘নিশান’ চলচ্চিত্রটি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে দর্শকের মনে। ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্ম নেওয়া ইলিয়াস জাভেদ পরবর্তী সময়ে সপরিবারে পাঞ্জাবে চলে যান।  ১৯৮৪ সালে তিনি চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। জন্মসূত্রে ভিন্ন দেশের হলেও শিল্পীসত্তা ও ভালোবাসায় তিনি হয়ে উঠেছিলেন এ দেশেরই একজন।

সোহেল রানার স্মৃতিচারণায় যেমন উঠে এসেছে এক বন্ধুর শূন্যতা, তেমনি ধরা পড়েছে এক শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধাও।