default-image

ছবিতে ছেলের কোন দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হন জাহানারা বেগম, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সিনেমায় একটা সময় জেলখানায় একা একা থাকে রাজ। তখন সে অনেক কান্নাকাটি করে। ওই দৃশ্য দেখে অনেক খারাপ লাগছিল। তা ছাড়া শেষে যখন আমার ছেলেকে মেরে ফেলে, ওই দৃশ্য আমি মানতে পারিনি। খুব খারাপ লাগছিল। কান্না থামাতে পারিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাস্তবে রাজ একটু দুষ্টু প্রকৃতির। ওর বাবা আর আমার ওকে নিয়ে খুব চিন্তা হয়। কিন্তু যখন তাঁর কোনো ভালো কাজ দেখি, আমি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। আমি হলে গিয়ে দেখি অনেক মানুষ। ছবি শেষে সবাই প্রশংসা করছেন রাজের। মা হিসেবে ছেলেকে নিয়ে এভাবে প্রশংসা করতে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। রাজ বলেছে, আমাকে আবারও ছবিটি দেখাতে হলে নিয়ে যাবে, আমি আবারও দেখব। রাজ যেন আরও ভালো ভালো কাজ করতে পারে, সবার কাছে দোয়া চাই।’

default-image

শরীফুল রাজের বাবা ও মা সিলেটে থাকেন। এদিকে ছেলের বউ পরীমনি অন্তঃসত্ত্বা। বেশ কিছুদিন ধরে রাজ-পরীমনির ঢাকার বাসায় আছেন জাহানারা বেগম। পাশে থেকে ছেলের বউকে সময় দিচ্ছেন তিনি। এ সময়টায় পরাণ ছবি মুক্তি পেয়েছে। সিলেটসহ অনেক জায়গা থেকে পরিচিতজনেরা ফোন করে রাজের অভিনয়ের প্রশংসা করছেন। এমনকি রাজের বাবা যখন ঘরের বাইরে যান, সেখানেও তাঁর ছেলেকে নিয়ে আলোচনা হয়। সিলেট থেকে ফোনে সেসব কথা মাকে জানান রাজের বাবা। তাই সিনেমাটি দেখতে আগ্রহী হন জাহানারা বেগম। তিনি বলেন, ‘বউমা যেহেতু অন্তঃসত্ত্বা, তাকে সময় দেওয়া দরকার। আল্লাহ চাইলে এ মাসেই আমি দাদি হতে পারি। বউমার পাশে থাকতে ঢাকায় আছি। এরই মধ্যে রাজের ছবি মুক্তি পেয়েছে। সবার কাছ থেকে ছবিটি নিয়ে প্রশংসা শুনে আমি নিজেও দেখার জন্য অস্থির ছিলাম। কিন্তু রাজ ব্যস্ত ছিল। সময় বের করে সোমবার আমাদের কয়েকজনকে সিনেমা হলে নিয়ে গেল।’

default-image

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শরীফুল রাজের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি মাকে পরাণ ছবি দেখতে হলে রেখে ‘হাওয়া’ ছবির প্রচারে ব্লকবাস্টার সিনেমাসে গিয়েছিলাম। শো ভাঙার আগে মাকে আনতে যাই। হল থেকে বেরিয়ে মা আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন। মাকে বলছিলাম ‘‘কাঁদছেন কেন?’’ কোনো কথা না বলে কেঁদেই যাচ্ছেন। আমার মনে হয়, মা ২০–২৫ বছর পর সিনেমা হলে গেলেন।’

রাজ জানান, এই সিনেমা দেখে শুধু তাঁর মা নন, অনেক বয়স্ক মানুষ কেঁদেছেন। এই অভিনেতা বলেন, ‘এ ছবিতে কিছু রিয়েলস্টিক ব্যাপার আছে। কিছু শূন্যতা ও হাহাকারের জায়গা আছে। যদিও ওই জায়গাগুলো দুজন তরুণ–তরুণীর, তার পরও বয়স্ক মানুষকেও স্পর্শ করেছে সেসব দৃশ্য। তাই হয়তো মা এভাবে কাঁদছিলেন। তার ওপর নিজের ছেলে অভিনয় করেছে, এটাও একটা ব্যাপার।’

রায়হান রাফি পরিচালিত ও লাইভ টেকনোলজিস প্রযোজিত ‘পরাণ’ ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, রোজী সেলিম, ইয়াশ রোহান, রাশেদ মামুন অপু প্রমুখ।

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন