নির্বাচন স্থগিত, হতাশ প্রার্থীরা
২০ আগস্ট বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির ২০২২-২০২৪ মেয়াদের নির্বাচন নির্বাচন হওয়ার কথা। তার তিন দিন আগেই এক আদেশে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এই সমিতির নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। ১৭ আগস্ট নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির ২০২২-২০২৪ মেয়াদের ২০ আগস্টে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন অনিবার্য কারণে স্থগিত করা হলো। নির্বাচনের নতুন সময়সূচি পরে সময়মতো জানিয়ে দেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে নির্বাচন বোর্ডের সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এর আগে হাইকোর্টের রায়ে ৫১ জন ভোটার বাতিল হয়ে গিয়েছিল। যে কারণে অনেকের প্রার্থিতাও বাতিল হয়। পুনরায় রিটের কারণে সেটি আবার আদালত থেকে ফেরত পেয়েছে। ভোটার লিস্টে তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করারও সময় লাগবে। তা ছাড়া বাতিল হওয়া ভোটারের মধ্যে প্রার্থীও ছিলেন। তাঁদের নির্বাচনে প্রচারের সময়ও লাগবে। এই স্বল্প সময়ে সম্ভব নয়। সব দিক বিবেচনা করেই ভোট স্থগিত করা হয়েছে।’ ভোটের নতুন তারিখ সম্পর্কে এই সদস্য জানিয়েছেন এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সময় করে পরে জানানো হবে।এদিকে হঠাৎ নির্বাচন স্থগিত হয়ে যাওয়ার কারণে হতাশার কথা জানিয়েছেন নির্বাচনের এক প্যানেলের নেতৃত্বদানকারী প্রার্থী আলিমুল্লাহ খোকন।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন বন্ধ হয়ে যাওয়াটা খুবই দুঃখজনক। ৩০ বছর বয়সী এই সমিতিতে ১৭ বছর ধরে প্রশাসক আছেন। এভাবে আর কত দিন? এতে চলচ্চিত্রের ক্ষতিই হচ্ছে।’ বারবার নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন বোর্ডের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে বলে মনে করেন আরেক প্যানেলের প্রার্থী খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে নির্বাচন বোর্ড কারও পক্ষ নিয়ে যেনতেনভাবে এই নির্বাচন আয়োজন করার চেষ্টা করছে।’ এই প্রযোজক নেতার ভাষায়, সিনেমার মা-বাপ হলো প্রযোজক সমিতি। কিন্তু বারবার নানাভাবে সমিতির নির্বাচন নিয়ে চক্রান্ত হচ্ছে। খুবই হতাশাজনক ব্যাপার। তিনি বলেন, ‘সিনেমার দিন ফিরেছে। এই সময় এই সমিতির কার্যক্রম খুবই জরুরি। তাই দ্রুত নির্বাচন দিতে আমরা আইনের আশ্রয় নেব।’ এবারের নির্বাচনে ১৯ জন সাধারণ সদস্য ও ২ জন সহযোগী সদস্যের পদের বিপরীতে মোট প্রার্থীসংখ্যা ছিলেন ৪৪ জন।
প্রথম ঘোষণা অনুযায়ী নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২১ মে। আগের দিন হাইকোর্টের রায়ে ২১ মের নির্বাচন বাতিল করে ভোটার তালিকা সংশোধন করে নতুন তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন বোর্ড। সেই তফসিলে ২০ আগস্ট নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।