আমার বউ আমার টেনশন না, আপনাদের টেনশন: ওমর সানী

ওমর সানিছবি : অভিনেতার ফেসবুক থেকে

স্ত্রী মৌসুমী ও ছেলে ফারদিনকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন চিত্রনায়ক ওমর সানী। এসব পোস্টের মাধ্যমে তাঁর পরিবারকে নিয়ে ব্যবসা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে চলচ্চিত্রের শিল্পীদের নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা, নারী শিল্পীদের অসম্মান এবং তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অযাচিত চর্চার সমালোচনা করেন নব্বই দশকের জনপ্রিয় এই চিত্রনায়ক। পরিবারকে নিয়ে ছড়ানো মিথ্যা তথ্যের পোস্ট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে না নিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

আজ বুধবার বিকেল সাড়ে চারটায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) মাঠে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়ক ওমর সানী। এ সময় নিজের পরিবার ও চলচ্চিত্র অঙ্গন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। ওমর সানী বলেন, ‘আমাদেরকে ক্যাশ করে কয় টাকা কামাই করবি বাবা তোরা? কী লাভ? এই টাকা কে খাবে—শিয়াল-কুকুরে খাবে। আমাদেরকে একটা ব্যবসার জিনিস বানিয়ে ফেলেছে।’

মৌসুমী ও ওমর সানি
ছবি : ওমর সানির ফেসবুক থেকে

পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মনগড়া তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করে ওমর সানী বলেন, ‘যেসব পোস্টে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে না নিলে মামলা করব।’ তাঁর অভিযোগ, কিছু পেজ ও ব্যক্তি তাঁকে, মৌসুমী, তাঁদের ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে ভিত্তিহীন কথা প্রচার করছেন।

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে গুঞ্জন ছড়ায়, ওমর সানী ও মৌসুমীর একমাত্র ছেলে ফারদিন পরিবারের সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাসা থেকে মাকে বের করে দিয়েছেন। তবে এই খবরকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলেছেন ওমর সানী। তাঁর মতে, ফারদিন বর্তমানে দুবাইয়ে এবং মৌসুমী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের কোনো সম্পত্তি নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

পরিবারকে নিয়ে এসব প্রচারণার কারণে সামাজিকভাবে বিব্রত হতে হচ্ছে বলে জানান ওমর সানী। তাঁর ছেলে ফারদিনও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। এ প্রসঙ্গে ওমর সানী বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে একটু আগেও আমার ফোনে কথা হয়েছে। আমার ছেলে বলেছে, আব্বু তুমি অ্যাকশনে যাও। এগুলো আর পারছি না। কারণ, এই সোশ্যাল মিডিয়াতে আমার ছেলেমেয়েকে কথা বলতে হয়। সমাজে তাকে বসবাস করতে হয়।’

সেলফি তুলছেন তারকা দম্পতি ওমর সানি ও মৌসুমী
ছবি: নাসিরউদ্দীন নাসিম

চিত্রনায়িকা স্ত্রী মৌসুমীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অযাচিত আলোচনারও প্রতিবাদ জানান ওমর সানী। তিনি বলেন, ‘আমার বউ আমার টেনশন না, আপনাদের টেনশন।’ তাঁর মতে, স্বামী-স্ত্রী আলাদা দেশে থাকতেই পারেন। কিন্তু তা নিয়ে ভিত্তিহীন গল্প তৈরি করে প্রচার চালানোর কোনো অর্থ নেই।

পরিবারের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের শিল্পীদের নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণার সমালোচনা করেন ওমর সানী। তাঁর অভিযোগ, সামাজিক মাধ্যমে শিল্পীদের এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যাতে পুরো চলচ্চিত্র অঙ্গন সম্পর্কে মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। নারী শিল্পীদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত বা শারীরিক গঠন নিয়ে অশালীন কনটেন্ট তৈরিরও সমালোচনা করেন তিনি।

ওমর সানী বলেন, ‘মিডিয়ার সব আর্টিস্টকে পচা, মিডিয়ার চেয়ে যে অন্য জগতের মানুষ আরও খারাপ, এটা কেউ বলে না?’ চলচ্চিত্রে নিজের দীর্ঘ অভিনয়জীবনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্রে এসে কি আমরা পাপ করেছি? আমি আমার পরিবার নিয়ে অনেক ভালো আছি। নিজের কাজ নিয়েও ভালো আছি। আমি চুরি করি না। আমরা এখনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে চাই।’

চিত্রনায়ক ওমর সানী ও নায়িকা মৌসুমী
ছবি: ফেসবুক থেকে

এফডিসিতে শিল্পীদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওমর সানী। তাঁর মতে, ‘কেন রে ভাই? কী ফাইজলামি? আমরা কি মানুষ না?’ নারী শিল্পীদের অসম্মান করা বন্ধেরও আহ্বান জানান এই অভিনেতা।

চলচ্চিত্রের শিল্পীদের সুরক্ষা ও সম্মান নিশ্চিত করতে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থের প্রতি আহ্বান জানান ওমর সানী। তিনি বলেন, ‘শুধু চলচ্চিত্রকে বাঁচালে হবে না, চলচ্চিত্রের শিল্পী যাঁরা আছেন, তাঁদেরও বাঁচাতে হবে।’ তাঁর মতে, শিল্পীদের নিয়ে মিথ্যা তথ্য ও নেতিবাচক প্রচারণা চলতে থাকলে নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা এই অঙ্গনে আসতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন।

মৌসুমীর সঙ্গে দুই সন্তান ফারদীন ও ফাইজা এবং স্বামী চিত্রনায়ক ওমর সানি
ছবি : মনজুর কাদের

নিজের ও মৌসুমীর বয়স এবং শারীরিক গঠন নিয়ে অযাচিত আলোচনার প্রসঙ্গে ওমর সানী বলেন, ‘আমার শরীর নিয়ে আপনার এত টেনশন কেন? মৌসুমীর শরীর নিয়ে আপনার এত টেনশন কেন?’ দীর্ঘদিনের কাজের মধ্য দিয়ে তাঁরা দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করেছেন উল্লেখ করে ওমর সানী বলেন, শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে তাঁদের হেয় করা উচিত নয়।

সর্বশেষে এমন প্রচারণা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ওমর সানী বলেন, কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা চাইতে তাঁর আপত্তি নেই। তবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে কাউকে হেয় করার কোনো যুক্তি নেই। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমাজের পরিবেশও নষ্ট করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।