গণরুমের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে সিনেমা, আজ থেকে হলে ‘ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’
আজ মুক্তি পাচ্ছে ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের গল্প নিয়ে সিনেমাটি তৈরি করেছেন আকাশ হক। তাঁর ক্যাম্পাসে দেখা অভিজ্ঞতাই গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র আকাশ হক বলেন, গেল ঈদুল আজহায় মুক্তির চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেও পরে সরে আসতে বাধ্য হন। কারণ, ঈদের সিনেমার সংখ্যা বেশি হওয়ায় তারা তেমন হল পাননি। আকাশ বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঈদের কয়েকটি সিনেমা এখন নেমে যাবে। আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, এটা আমাদের সিনেমাটির জন্য ভালো সময়। এখন দর্শক ভালো সিনেমা দেখতে চাইছেন। সেখানে আমরা যদি দর্শকদের কাছে সিনেমাটি তুলে ধরতে পারি, তাহলে সিনেমাটি নিশ্চিত দর্শক গ্রহণ করবেন, এই আস্থা আমাদের আছে।’
গত ১৬ জানুয়ারি ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটির প্রিমিয়ার হয়। সেই সময় সিনেমাটি পছন্দ করেছিলেন দর্শক, উৎসবে এটি বাংলাদেশ প্যানারোমা বিভাগে সেরা সিনেমার পুরস্কার পায়।। পরে টিএসসিতে ‘আমার ভাষার চলচ্চিত্র’ উৎসবে প্রদর্শিত হয় ও হীরালাল সেন পুরস্কার পায়।
আকাশ বলেন, ‘দুটি উৎসব থেকে আমরা যেভাবে সাড়া পেয়েছি, তাতে মনে হয়েছে দ্রুত সিনেমাটি দর্শকদের দেখানো দরকার। এর বার্তা দর্শক পছন্দ করবেন। আমরা এই সিনেমার মধ্যে দেশের শিক্ষাঙ্গনের রাজনৈতিক চিত্রসহ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অসামঞ্জস্য তুলে ধরেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির দিন থেকে যে সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হচ্ছিলাম, যেসব প্রতিবন্ধকতা একজন শিক্ষার্থীর বেড়ে ওঠার পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে, সেগুলো আমি তুলে ধরেছি।’
সিনেমার গল্পভাবনা কীভাবে এল? এমন প্রশ্নে আকাশ জানান, ২০১৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগে তিনি ভর্তি হন। অনেক স্বপ্ন নিয়ে ওঠেন স্যার এ এফ রহমান হলে; কিন্তু শুরুতেই তাঁর জায়গা হয় গণরুমে। প্রায় ৪০ শিক্ষার্থীর সঙ্গে একত্র বসবাস—এই অভিজ্ঞতা আকাশের মনে গভীর ছাপ ফেলে। এ এফ রহমান হল থেকে পরে তিনি বিজয় একাত্তর হলে স্থানান্তরিত হন। সেখানে দেখেন, একটি কক্ষে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী! বলেন, ‘আমার কাছে এভাবে থাকাটা অমানবিক মনে হয়েছিল, অনেক সময় মনে হতো জেলখানার মতো। আবার এখানে কেউ কেউ ভালো সুবিধায় থাকেন। পড়াশোনার ফাঁকে চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করেছি। পরে দেশের বাইরে পড়াশোনা করতে যাই। দেশে ফিরে ২০২৪ সালে শুরু করি শুটিং।’
আকাশ আগে থেকেই জানতেন, ইনডিপেনডেন্ট সিনেমার প্রযোজক সেই অর্থে পাওয়া যায় না। তিনি জানান, বড় কোনো প্রযোজক বা বাজেট পাওয়ার প্রত্যাশাও তাঁদের ছিল না। পেশাদার শিল্পী নিয়ে কাজ করাও কঠিন। ‘নিজের মতো করে ক্যাম্পাসের পরিচিত বড় ভাই-ছোট ভাইদের মধ্য থেকে চরিত্র বাছাই করেছি। ইচ্ছেমতো আজ একটু, কাল একটু—এভাবে শুটিং শেষ করেছি। একটিমাত্র ক্যামেরা আর লেন্স দিয়েই বেশির ভাগ শুটিং করা হয়েছে। এমনকি বাড়তি কোনো লাইটও আমরা ব্যবহার করিনি। বলা যায়, প্রাকৃতিক আলোয় হয়েছে পুরো সিনেমার শুটিং। আশা করছি, দর্শক আমাদের পাশে থাকবেন।’
সিনেমাটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেবদ্যুতি আইচ, রকি খান, ববি বিশ্বাস, আখতারুজ্জামান আজাদ, আবু সায়েদ, ইফাদ হাসান, নিলয় বালা প্রমুখ। পরিচালনার পাশাপাশি সিনেমাটির প্রযোজনা, চিত্রনাট্য, সম্পাদনা ও চিত্রগ্রহণের কাজও করেছেন আকাশ হক। আজ থেকে স্টার সিনেপ্লেক্স ও লায়নে ছবিটি দেখা যাবে।