‘পাঠান’ ছবি নিয়ে বাংলাদেশের দর্শকের আগ্রহ আছে। ছবিটি নিয়ে বাংলাদেশের সিনেমাপ্রেমী দর্শকেরাও খোঁজখবর রাখছেন। সাফটা চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে ‘পাঠান’ মুক্তির কথা শোনা যাচ্ছে।

এরই মধ্যে বাংলাদেশের একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে ভারতের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইকো এন্টারটেইনমেন্টের কাছে শাকিব খানের ‘পাঙ্কু জামাই’ রপ্তানি করা হয়েছে। সেই ছবির বিপরীতে ‘পাঠান’ আমদানির  চেষ্টা চলছে। যদি অনুমতি মিলে যায়, তাহলে ২৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে দেখা যাবে ‘পাঠান’।

জানা গেছে, গত বুধবার বাংলাদেশের সিনেমা আমদানিকারক একটি প্রতিষ্ঠান এ–সংক্রান্ত একটি আবেদন করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে। আগামীকাল মঙ্গলবার দুপুরে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত কমিটি আবেদনটি নিয়ে মিটিংয়ে বসবেন।

সোমবার দুপুরে খবরটি নিশ্চিত করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র বিভাগের উপসচিব সাইফুল ইসলাম বলেন, “‘পাঠান” বাংলাদেশে মুক্তির জন্য আমরা একটি আবেদন পেয়েছি। মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়ের নেতৃত্বে এ–সংক্রান্ত কমিটির সদস্যরা মিটিংয়ে বসবেন। এরপর সিদ্ধান্ত হবে ছবি আনার বিষয়টি।’
মিটিংয়ে ‘পাঠান’ বাংলাদেশে মুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে কি না—জানতে চাওয়া হলে ওই উপসচিব বলেন, ‘এখনই বলা মুশকিল। তবে সিনেমা হলের স্বার্থে আমাদের মন্ত্রী মহোদয়ের সব সময়ই ইতিবাচক মনোভব আছে। এর আগে মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন, চলচ্চিত্রে সব সংগঠন যদি মতামত দেন, তাহলে বছরে ১০টি করে হিন্দি ছবি বাংলাদেশে আসতেই পারে। এখন “পাঠান’-এর বিষয়টি এ–সংক্রান্ত কমিটি ও চলচ্চিত্র সংগঠনগুলোর মতামতের ওপর নির্ভর করছে।’

এদিকে ‘পাঠান’ আমদানি করতে মন্ত্রণালয়ে আবেদনকারীর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও  প্রযোজকের নাম জানা গেছে।

তবে নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে ওই প্রযোজক বলেন, ‘আমি গত বুধবার মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি। সাফটা চুক্তির নীতিমালা মেনেই আবেদন করেছি। আমার বিশ্বাস, অনুমতি পাব। কারণ, এর আগে হিন্দি ছবির আমদানির জন্য আবেদন করলে কমিটির কোনো মিটিংই কল করা হতো না। এবার মিটিং করার জন্য আমদানি–রপ্তানিসংক্রান্ত কমিটির সব সদস্যকে চিঠি দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে। আমার হাতেও সেই চিঠির এক কপি এসেছে। এ জন্য আমার বিশ্বাস হচ্ছে “পাঠান” বাংলাদেশে মুক্তি দিতে পারব।’

সার্ক চুক্তিভুক্ত দেশসমূহের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকেই সংক্ষেপে এবং ইংরেজিতে সাফটা বলা হয়। ২০০৪ সালের জানুয়ারিতে ইসলামাবাদে সার্ক বা সাফটা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সার্কভুক্ত সব কটি দেশের মধ্যে চুক্তি হলেও আসছে কেবল ভারতের কলকাতার বাংলা সিনেমা। এর আগে ২০১৫ সালে হিন্দি ‘ডন’ ও ‘ওয়ান্টেড’ বাংলাদেশে মুক্তি পায়। পরপর ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’, ‘দিল তো পাগল হ্যায়’, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’, ‘কাভি খুশি কাভি গাম’, ‘ধুম ২’ ও ‘থ্রি ইডিয়টস’ মুক্তির কথা ছিল। কিন্তু সেই সময় চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সংগঠনের আন্দোলনের মুখে হিন্দি ছবির আমদানি স্থগিত হয়ে যায়। এরপর আর কোনো হিন্দি ছবি আমদানিতে বাংলাদেশে মুক্তি পায়নি।