আজ শুরু হচ্ছে নুহাশের চলচ্চিত্র–যাত্রা
ছয় বছর ধরে প্রথম সিনেমা মুভিং বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করছেন নুহাশ হুমায়ূন। কখনো চিত্রনাট্য, কখনো প্রি–প্রোডাকশন, আবার কখনো বাজেট সংগ্রহের কাজে গেছে সময়। কিন্তু কবে শুটিং, সেটা এত দিন অজানাই ছিল। অবশেষে এপ্রিলের শুরু থেকে ঘটা করে কাউন্টডাউন শুরু করে সিনেমার সঙ্গে যুক্ত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গুপী বাঘা। আট দিন আগে শুরু হওয়া কাউন্টডাউনের আজ বৃহস্পতিবার শেষ দিন। আজ শুরু হচ্ছে মুভিং বাংলাদেশ–এর শুটিং। ঢাকার ২০টি লোকেশনে হবে শুটিং।
একজন বাইক রাইডারের সংগ্রামের গল্প নিয়েই এই সিনেমা। প্রধান চরিত্রসহ অন্যান্য চরিত্রে কে কে অভিনয় করেছেন জানতে চাইলে নুহাশ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এখনো অভিনয়শিল্পীদের নাম বলিনি। এটা আমরা একটু সময় নিয়ে ঘটা করে জানাতে চাই। তবে এটুকু বলব, কোনো তারকা নন, আমাদের সিনেমার প্রধান চরিত্র নতুন মুখ। আমরা দীর্ঘ সময় ধরে সিনেমার সঙ্গে যায়, এমন চরিত্র খুঁজছিলাম। অনেকবার আমরা অডিশন নিয়েছি। সময় নিয়েই চরিত্রের সঙ্গে যায়, এমন কাউকে বেছে নিয়েছি।’
স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা দিয়ে নির্মাতা হিসেবে নুহাশের ক্যারিয়ার শুরু। পরে বানিয়েছেন ওয়েব সিরিজ। এই কাজগুলো তাঁকে নির্মাতা হিসেবে আলাদা স্থান দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি চলচ্চিত্র উৎসব থেকে পেয়েছেন স্বীকৃতি। যে কারণে প্রথম সিনেমা নিয়ে কোনো তাড়াহুড়া করেননি। ‘পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরে কাজটি করছি শুধু নিজের মতো করে সিনেমা বানানোর জন্য। কখনো চিত্রনাট্যের জন্য, কখনো বাজেটের জন্য ও গল্পের ডেভেলপমেন্টের কারণে সময় লেগেছে। চাইলে দ্রুত কাজ করা যেত, সেটা চাইনি। প্রথম সিনেমায় নিজের মতো সময় নিয়েছি। যেখানে যতটা দরকার ছিল, সেভাবে কাজ এগিয়ে নিয়েছি। এ জন্য পুরো টিমের সহযোগিতা ছিল। এখন কাজটা পরিকল্পনামতো পর্দায় তুলে ধরতে চাই,’ বলেন নুহাশ।
নুহাশ জানালেন, সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত আছে আন্তর্জাতিক একাধিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। সিনেমাটির চিত্রনাট্য বিশ্বের একাধিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকে তহবিল পেয়েছে। একই সঙ্গে পেয়েছে আন্তর্জাতিক প্রযোজক। সিনেমাটি ২০২১ সালে প্রথম তাইওয়ানের তাইপে ফিল্ম কমিশন থেকে ৮৯ হাজার ৮০০ ডলারের তহবিল পায়। পরে সিনক্রাফট ফিল্ম ফান্ড থেকে পায় ২৫ লাখ টাকা। শুধু তা–ই নয়, সিনেমাটি টোকিও গ্র্যান্ট ফাইন্যান্সিং মার্কেট, কান উৎসবের মার্শে দ্যু ফিল্ম বাজার, লোকার্নো চলচ্চিত্র উৎসব ও ভারতের ফিল্ম বাজার থেকে নানা সহযোগিতা পেয়েছে।
মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত শুটিং চলবে। পরে টানা সিনেমার পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ করতে চান নির্মাতা।