মামুন জানান, পরিচালক সমিতিতে সদস্য হওয়ার জন্য ১ লাখ ৬ হাজার টাকা দিতে হয়। তবে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সদস্য পদ পেতে লাগে ৩৬ হাজার। সেই সময়ের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অনন্ত বলেন, ‘আমি তাকে বলি তুমি ইন্টারভিউ দিয়ে পরিচালক হতে পারবা না? সে বলল, “অনেক সময় লাগবে। দেরি হবে। আপনি যদি একটু হেল্প করতেন।” টাকাটা আমি তাকে দিয়ে দিই। এ ছাড়া সেই সময় চিত্রনাট্য লেখা বাবদ দিই দেড় লাখ টাকা। তার পারিশ্রমিক চার লাখ টাকা। শুটিংয়ের আগে সিনেমার বাজেট করা হলো। তার কাছে অ্যাডভান্স টাকা দিই। চেন্নাইতে গিয়ে দেখি তার একদম নতুন ল্যাপটপ। বললাম, কীভাবে কিনলা ভাই? সে বলল, “পারিশ্রমিকের টাকা দিয়ে কিনে ফেলেছি।” তার এই চিন্তাটা ভালো লাগল। নতুন টেকনোলজির সঙ্গে পরিচয় হচ্ছে। শুটিং পর্যন্ত, চার লাখ টাকা নয়, ওকে কত টাকা দিয়েছি, সেটা ও জানে আর ওর ইমান জানে।’

default-image

সিনেমার শুটিংয়ের পরে অনন্ত জলিলের কাছে একের পর এক খবর আসতে থাকে অনন্য মামুন নাকি দুটি গাড়ি কিনে এয়ারপোর্ট রোডে ভাড়া দিয়েছেন। সোহানুর রহমান সোহানসহ অনেকেই এই কথা জানতে চেয়েছিলেন এটা কীভাবে সম্ভব? পরে একদিন মামুনের সঙ্গে জলিলের দেখা হয়। তখন এ প্রসঙ্গে সরাসরি মামুনকেই জিজ্ঞাসা করেন অনন্ত—অনেকেই বলে তুমি এয়ারপোর্ট রোডে গাড়ি কিনে ভাড়া দিয়েছ। এটা কীভাবে হলো? তখন মামুন কী বলেছিলেন সেটা শোনা যাক অনন্তের ভাষ্যেই, ‘আমি কলকাতাতে ছবি লিখতাম, সেখান থেকে কিছু টাকা পেয়ে, অ্যাডভান্স দিয়ে কিনেছি। আলহামদুলিল্লাহ। তাকে বললাম, জীবনে মানুষ হতে চাইলে চেষ্টা করে বড় হও। তোমাকে ধন্যবাদ। ছবি করলাম, শেষ করলাম, সবই ঠিক আছে। কথা হলো, যখন ছবি নিয়ে চ্যানেল আইয়ে গেলাম, চ্যানেল আই দেখল, তখন সে (অনন্য মামুন) বলল, আমি নাকি বাজেট নিয়ে স্ট্যান্ডবাজি করি। ছবির বাজেট নিয়ে...আপনারা বলেন?’

default-image

মূলত তাঁর সিনেমার বাজেট নিয়ে মামুনের মন্তব্যের জন্যই পরিচালককে কান ধরে ওঠবস করানোর কথা বলেছিলেন বলে জানান অনন্ত। তিনি বলেন, ‘যেই ছেলের প্রতি আমার এতটা অবদান, তার প্রতি কি আমার কোনো অধিকার নেই? এই কারণে আমি রেগে বলেছি, আজকে যদি ওকে সামনে পেতাম, তাহলে ওকে কান ধরে ওঠবস করাতাম। আমার সম্বন্ধে জানার পরেও অনন্ত ভাই সম্পর্কে জানার পরেও এই ধরনের কথা কীভাবে বলে। আমি এই কথা আর বাড়াতে চাই না। আল্লাহর ভালোবাসা তখনই মানুষ পায়, যার ইমান ঠিক থাকে, যার মধ্যে সততা থাকে। আমি দোয়া করি মামুনের মধ্যে সততা আসুক। ও ভালো ভালো কাজ করুক। ওর জীবনের উন্নয়ন হোক। ওকে আমার অধিকার থেকে কথাটা বলেছি।’

এদিকে অনন্য মামুন বিভিন্ন সময় ফেসবুকে জানিয়েছেন, অনন্ত জলিল তাঁর জন্য অনেক কিছু করলেও তিনি মিথ্যা কথা বলেছেন। এই প্রসঙ্গে অনন্ত জলিল ফেসবুক লাইভে ভক্তদের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, ‘মিথ্যা কথা কে বলে?’ যে মানুষের অভাব থাকতে পারে, ক্যাপাবিলিটি কম থাকতে পারে, যে মানুষ নিজেকে প্রমাণ করতে অন্য কাউকে ছোট করে, ইনসিকিউরড ফিল করবে, তারা মিথ্যা কথা বলতে পারে। কিন্তু আমি কেন মিথ্যা কথা বলব। আমার সঙ্গে যাঁরা চলেন, তাঁরা জানেন আমি কেমন।’

default-image

ঈদুল আজহায় অনন্ত জলিল ও বর্ষা অভিনীত ‘দিন: দ্য ডে’ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে। একই সঙ্গে ঈদে মুক্তি পেয়েছে রায়হান রাফির ‘পরাণ’ ও অনন্য মামুনের ‘সাইকো’। এসব সিনেমার হল হাউসফুল হওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাদা–ছোড়াছুড়ি চলছে। বিভিন্ন রকম কথা শুনতে হচ্ছে অনন্ত ও বর্ষাকেও। তাঁদের দাবি, হল হাউসফুল হওয়া সত্ত্বেও অনেকেই তাঁদের সিনেমা নিয়ে উল্টো কথা বলছেন। হাউসফুলের সেসব প্রমাণ নিয়ে তাঁরা এই লাইভে হাজির হন। বর্ষা লাইভে বলেন, ‘আপনাদের অনুরোধ করব, সত্যটা সবার সামনে তুলে ধরেন। হুট করে আমাদের এই বিজনেসকে জাতীয়ভাবে সবার সমানে খারাপভাবে উপস্থাপন করতে পারেন না। এতে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির ক্ষতি হবে।’

এর আগে হল পরিদর্শনে গিয়ে বর্ষা কেঁদে ফেলেন। ক্ষোভ নিয়ে বলেন, ‘ভালো জিনিস কেন মানুষ প্রশংসা করতে পারে না। আজ যদি আমরা চলচ্চিত্র না করে এখান থেকে বের হয়ে যাই, তাহলে আমাদের কিছুই হবে না। কিন্তু আমরা যে চেষ্টা করছি ভালো একটা সিনেমা দিতে, সেটা হয়তো আর হবে না। আমি বুঝতে পারছি না মানুষ কেন মিথ্যা খবর রটাবে। আমার মনে হয়, যেটা সত্য, সেটা মানুষের বলা উচিত।’

default-image
ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন