কিন্তু মুক্তির দ্বিতীয় দিন থেকেই ধারণা পাল্টে যেতে থাকে। মাল্টিপ্লেক্সে বাড়তে থাকে প্রদর্শনী সংখ্যা। দর্শক আগ্রহে একপর্যায়ে স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ দুটি থেকে প্রদর্শনী বাড়িয়ে ২১-এ নিয়ে যায়। ঢাকার পাশাপাশি ঢাকার বাইরেও বাড়তে থাকে প্রেক্ষাগৃহসংখ্যা। চতুর্থ সপ্তাহে এসে হলসংখ্যা ১১ থেকে দাঁড়ায় ৬০-এ। পঞ্চম সপ্তাহে এসেও ৫০টি হলে চলছে ছবিটি।

default-image

ছবির রোহান ও অনন্যা চরিত্রটি হয়ে উঠেছে দর্শকদের অন্যতম আলোচনার বিষয়।
অনন্যা চরিত্রে অভিনয় করে এত প্রশংসা কেমন উপভোগ করছেন মিম? উচ্ছ্বসিত অভিনেত্রী বলেন, ‘এখন খুব ভালো লাগছে। সব শ্রেণির মানুষ ছবিটি দেখছেন। মুক্তির ২৭তম দিনে এসেও হাউসফুল যাচ্ছে। যাঁরা কখনোই হলে সিনেমা দেখতে আসেননি, তাঁরাও ছবিটি দেখছেন। পুরোনা দর্শকের পাশাপাশি নতুনেরাও দেখতে আসছেন। কেউ কেউ আমাকে বলেছেন, তাঁরা দু-তিনবার ছবিটি দেখেছেন। বড় ব্যাপার হলো, অনেকে পরিবার নিয়ে সিনেমাটি দেখছেন। অনেক বছর পর প্রেক্ষাগৃহগুলোয় বাংলা সিনেমা নিয়ে এমন ঘটনা ঘটল। এটা তো আমার জন্য অসম্ভব ভালো লাগার।’

‘পরাণ’ দেখে অনেক দর্শকই বলেছেন, এই মিমকে আগে দেখেননি তাঁরা। দর্শকের এই ভালোবাসা ছুঁয়ে গেছে মিমকেও, ‘কী পরিমাণ শুভেচ্ছাবার্তা যে পাচ্ছি, বলে শেষ করা যাবে না। যেখানেই যাচ্ছি, অনন্যার প্রশংসা। মনে হচ্ছে পরাণকে ঘিরে সব জায়গায় উৎসব হচ্ছে। আমি পরিবার নিয়ে দেখতে গিয়েছিলাম। শো শেষে মায়ের বয়সী একজন এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে আদর করেছেন। অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন। আমার চোখে পানি চলে এসেছিল। এমন হাজারো দর্শকের প্রশংসায় সিক্ত আমি। বলতে পারেন, ‘পরাণ’ আমাকে সিনেমায় নতুন জীবন দিয়েছে। এর চেয়ে ভালো লাগা আর কিছু হতে পারে না।’

default-image

সব মিলিয়ে ‘পরাণ’ মুক্তিতে দেরি হওয়ার কারণে মিমের যে মন খারাপ ছিল, মুক্তির পর তা রূপ নিয়েছে উচ্ছ্বাসে। এমন একটি সিনেমায় কাজ করার পর তিন বছর মুক্তি না পাওয়া তাঁকে কতটা কষ্ট দিয়েছে, তা জানিয়ে মিম বলেন, ‘আমি মনে করি, সময়মতো মুক্তি না পেলে সেই ছবি আর চলে না। গল্পের আবেদন নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। এই ছবির ক্ষেত্রেও তেমনটা ভেবেছিলাম। পরে তো উল্টো ঘটনা ঘটে গেল।’

ঈদের সপ্তাহ দেড়েক আগে হঠাৎ মুক্তির ঘোষণা আসে ছবিটির। এরপর ছবির শিল্পী-কলাকুশলীরা প্রচারণা শুরু করেন। মুক্তির পরও হল থেকে হলে ঘুরে ছবির প্রচার করেছেন অভিনেত্রী। মিমের ধারণা ছিল, দু-এক দিন হয়তো হাউসফুল যাবে ছবিটি। তিনি বলেন, ‘বড় কোনো প্রত্যাশা না নিয়েই প্রথম দিন পুরো টিম সিনেপ্লেক্সে গেলাম। হাউসফুল। শো শেষ হতেই সবাই পজিটিভ বলেছেন। দ্বিতীয় দিনেও একই অবস্থা। এরপর ময়মনসিংহে গেলাম, যেখানে ছবিটির শুটিং হয়, সেখানকার পূরবী হলে অবিশ্বাস্য সাড়া। এরপর তো ইতিহাস হয়ে গেল ছবিটি।’ মিম বলেন, দর্শকের মুখে মুখেই পরাণ-এর প্রচার ছড়িয়েছে। দর্শকই আজ পরাণ সুপারহিট, বাম্পার হিটের পথে নিয়ে যাচ্ছে।

default-image

‘পরাণ’ ছবিতে অনন্যা চরিত্রের একটা নেতিবাচক দিকও দেখানো হয়েছে। তাই প্রেক্ষাগৃহে বসা দর্শকেরা অনন্যাকে গালমন্দ করতেও ছাড়েননি। প্রথম দিকে অনন্যাকে গালমন্দ করা মেনে নিতে পারতেন না মিম। তিনি বলেন, ‘অন্ধকারে এক কোনো দাঁড়িয়ে শো দেখতাম। দর্শক প্রতিক্রিয়া দেখতাম। দর্শক গালমন্দ করতেন। খুব খারাপ লাগত। বাসায় ফিরেও মন খারাপ থাকত। টিমের সবাই বোঝাতেন, একজন অভিনেতার এটাই সার্থকতা। পরে বুঝলাম, চরিত্রটিই তো এমন। তার মানে আমি চরিত্রটিতে অভিনয়ের ক্ষেত্রে শতভাগ নিংড়ে দিতে পেরেছি বলেই দর্শক এমন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন।’

লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার হয়েই বিনোদন অঙ্গনে যাত্রা শুরু মিমের। ২০০৮ সালে মুক্তি পায় তাঁর প্রথম ছবি ‘আমার আছে জল’। গত ১৪ বছরে দেড় ডজন ছবিতে অভিনয় করেছেন। সিনেমায় অভিনয় করে জাতীয় পুরস্কারও অর্জন করেন। এর বাইরে আরও পুরস্কার পেলেও অভিনয় দিয়ে এত দিন সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি মিম। এই আফসোস তাঁরও ছিল। অবশেষে পরাণ-এর কল্যাণে অভিনয় দিয়ে আলোচনায় তিনি। মিম বলেন, ‘এমন একটি দিনের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। অনেক ছবিই করেছি। কিন্তু সেভাবে আলোচনা হয়নি। আফসোস ছিল। চলচ্চিত্রে নতুন করে আস্থা পেয়েছি।’

default-image

‘পরাণ’-এর সাফল্যে নতুন নতুন কাজের প্রস্তাব আসছে মিমের কাছে। তিনি বললেন, ‘গত কয়েক দিনে তিনটি চিত্রনাট্য পেয়েছি। তবে বুঝেশুনে কাজ করতে হবে। গল্প শুনে, চরিত্র বুঝে পরের ছবি করতে হবে। দর্শকের বিশ্বাস হারাতে চাই না।’

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন