কারিনার মৃত্যু যেন নিজের মেয়েকে হারানোর কষ্ট, বললেন ওমর সানী
বন্ধুর মেয়ে কারিনা কায়সারের মৃত্যু যেন নিজের মেয়েকে হারানোর কষ্টই অনুভব করাচ্ছে ওমর সানীকে। দীর্ঘদিনের বন্ধু কায়সার হামিদ ও তাঁর পরিবারের জন্য গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করেছেন এই চিত্রনায়ক।
কায়সার হামিদের চেয়ে বয়সে এক বছরের ছোট হলেও ওমর সানীর সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিল। আর দুজনের এই বন্ধুত্ব কয়েক দশকের। ঢাকার তেজকুনিপাড়ায় বেড়ে ওঠা ওমর সানী, যাঁকে তখন সবাই ইমরান নামেই চিনতেন। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাড়া–মহল্লার ফুটবল খেলতে খেলতেই ওই সময়ের ফুটবলার কায়সার হামিদ, সাব্বির, কাননসহ অনেকের সঙ্গে তাঁর দারুণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
মোহামেডানের ভক্ত হওয়ায় কায়সার হামিদের সঙ্গে বন্ধুত্বটা আরও গভীর হয়।
একসময় গোলরক্ষক হিসেবে খেললেও ইনজুরির কারণে ফুটবল ছেড়ে দেন ওমর সানী। পরে চলচ্চিত্রে সুযোগ খুঁজতে শুরু করেন এবং অভিনয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তবে সিনেমায় ব্যস্ততা বাড়লেও ফুটবলার বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ কখনো কমেনি। বর্তমানে ব্যবসায়িক কাজে মালয়েশিয়ায় রয়েছেন তিনি। সেখানেই কায়সার হামিদের মেয়ে কারিনা কায়সারের মৃত্যুর সংবাদ পান।
কারিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সময় থেকেই খোঁজখবর রাখছিলেন ওমর সানী। পরিবারের সর্বোচ্চ চেষ্টার কথাও জানতেন। কিন্তু এত দ্রুত এমন পরিণতি হবে, তা কল্পনাও করেননি তিনি। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ওমর সানী বলেন, ‘কারিনার মৃত্যুর খবরটা শুনে সঙ্গে সঙ্গে আমার নিজের মেয়ের মুখ মনে পড়েছে। কারিনার জন্মটাও আমাদের চোখের সামনে। কী হাসিখুশি, কী প্রাণবন্ত একটা মেয়ে ছিল! মাসখানেক আগেও ভাবিনি এত দ্রুত চলে যাবে।’
ওমর সানী আরও বলেন, ‘আমি শুধু বন্ধু কায়সারের কথাই ভাবছি। কী অবস্থার মধ্য দিয়ে এখন যাচ্ছে ওরা! আজ দেশে থাকলে হয়তো ছুটে যেতাম। বন্ধুকে জড়িয়ে ধরে রাখতাম। কিন্তু বাবার মন কি আর মানবে! এই শোক যার যায়, সে–ই শুধু বুঝতে পারে।’
কারিনার মৃত্যু যেন নিজের সন্তানকে হারানোর অনুভূতি তৈরি করেছে বলে জানান ওমর সানী।
তাঁর ভাষায়, ‘কারিনার মৃত্যুর খবরটা যেন নিজের মেয়েকে হারানোর কষ্ট। বারবার আমার মেয়ে ফাইজার মুখটা মনে পড়ছিল। ছেলে ফারদীনের কথাও মনে হচ্ছিল। আমি অনেকক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। আল্লাহ কারিনাকে পরপারে শান্তিতে রাখুক।’
বন্ধু কায়সার হামিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ওমর সানী বলেন, ‘কায়সার তার মেয়ের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। চিকিৎসায় কোনো কমতি রাখেনি। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা পৃথিবীতে যার যত দিন সময় রেখেছেন, তার বেশি তো থাকা সম্ভব নয়। সবাই কারিনা মামণির জন্য দোয়া করবেন।’