’৪৭–এর দেশভাগ ও ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ঘিরে ছবির গল্প। পরিচালক জানান, ছবির গল্পের সময়টা ধরার চেষ্টা করে শুটিং করছেন। বলেন, ‘বর্তমান সময়ে এসে ঐতিহাসিক গল্পের ছবির সময়কে ধরা অনেক কঠিন। কারণ, আমাদের চারপাশের আবহ এখন অনেক বদলে গেছে। ওই সময় ধরে ছবিতে শিল্পীদের কস্টিউম থেকে শুরু করে লোকেশনের আবহটা আনতে আমরা দীর্ঘদিন কাজ করেছি। আমরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় দুই মাস ধরে শুধু লোকেশনই খুঁজেছি।’

পরিচালক আরও বলেন, ‘শিল্পীদের নিয়ে ছয় মাস ধরে ছবিটির শুটিংয়ের প্রস্তুতি নিয়েছি। তা ছাড়া শিল্পীদের গ্রুমিং, লুক সেটও করা হয়েছে।’
ছবির প্রথম ধাপের কাজ চলবে আগামী ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এরপর দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু হবে ১৩ ডিসেম্বর থেকে ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে।

‘যাপিত জীবন’ উপন্যাসের পটভূমি ভাষা আন্দোলন ঘিরে। গল্পের নায়ক থাকে জাফর। তাকে দেখা যায়, বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধিত্ব করতে। কাহিনি যতই এগোতে থাকে ততই বোঝা যায়, বাঙালির শিকড় ও চিন্তার প্রতিচিত্র হয়ে ওঠে ‘যাপিত জীবন’। এই উপন্যাস একসময় হয়ে ওঠে বাংলা ও বাঙালির শিকড় অস্তিত্বের কথা। জাফরকে দেখা যায় বাঙালির বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে ভাষা ও মাটির জন্য কথা বলতে।

সেলিনা হোসেনের উপন্যাস থেকে এর চিত্রনাট্য করেছেন যৌথভাবে অনিমেষ আইচ ও ইমতিয়াজ হৃদয়। বাংলাদেশ সরকারের ২০২১-২২ অর্থবছরের অনুদান পাওয়া এই ছবিতে অভিনয় করছেন ডলি জহুর, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, আফজাল হোসেন, গাজী রাকায়েত, আজাদ আবুল কালাম, রোকেয়া প্রাচী, রওনক হাসান, ইমতিয়াজ বর্ষণ, আশনা হাবিব ভাবনা, মৌসুমী হামিদ প্রমুখ।