ঈদের ছবি মুক্তিতে জট

গলুই ছবিতে পূজা চেরি ও শাকিব খান

ঈদের আরও বেশ কয়েক মাস বাকি। এর মধ্যে শুরু হয়েছে ঈদের ছবি মুক্তি নিয়ে তোড়জোড়। প্রযোজক ও পরিবেশক সূত্রে জানা যায়, ইতিমধ্যে পাঁচটি সিনেমা ঈদে মুক্তির জন্য প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতি বরাবর আবেদন করা হয়েছে। এ ছাড়া ১০টি বড় বাজেটের সিনেমা মুক্তির জন্য প্রস্তুত করছেন প্রযোজক-নির্মাতারা। ধারণা করা হচ্ছে, এই সংখ্যা ১৫ ছাড়িয়ে যাবে। সব মিলিয়ে ঈদের সিনেমা নিয়ে বড় ধরনের জট তৈরি হতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গত দুই বছর ঈদে বড় বাজেটের সিনেমাগুলো মুক্তি পায়নি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তাঁরা যেকোনোভাবেই হোক সিনেমা মুক্তি দিতে চান।

ঈদের বুকিং চূড়ান্ত করা হয়েছে বিদ্রোহী, শান, পাপ-পুণ্য, গলুই, বড্ড ভালোবাসি সিনেমাগুলোর। মুক্তির জন্য অপেক্ষায় থাকা তালিকায় রয়েছে মিশন এক্সটিম-২, অন্তরাত্মা, দিন: দ্য ডে, বিক্ষোভ, জ্বীন, তালাশ, ক্যাসিনোসহ ১০টির মতো সিনেমা। এসব সিনেমায় তারকা হিসেবে রয়েছেন শাকিব খান, আরিফিন শুভ, চঞ্চল চৌধুরী, সিয়াম আহমেদ, বিদ্যা সিনহা মিম, মাহিয়া মাহি, শবনম বুবলী, পূজা চেরি, জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী প্রমুখ। এর মধ্যে অনেক সিনেমা মুক্তির কথা ছিল ২০২০ সালের পবিত্র ঈদুল ফিতরে। করোনার কারণে আটকে যায়। যে কারণে এবার হল খোলা থাকলে সিনেমা মুক্তি দিতে চান তাঁরা। তারকানির্ভর সিনেমা আশা দেখালেও দুশ্চিন্তার ভাঁজ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কপালে। সিনেমা মুক্তি নিয়ে প্রযোজক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এককথা, হল খোলা থাকলেই সিনেমা মুক্তি পাবে।

‘শান’ ছবিতে অভিনয় করেছেন সিয়াম
সংগৃহীত

এরই মধ্যে গলুই ঈদুল ফিতরের জন্য ১৫টির মতো হল বুকিং পেয়েছে। এর প্রযোজক খোরশেদ আলম বলেন, ‘আগামী ঈদে বড় ছবিগুলো একটা প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়ে যাবে। কারণ, হলসংখ্যা কম হওয়ার কারণে বুকিংয়ের প্রতিযোগিতায় গিয়ে ছবিগুলোর রেন্টাল কমে যাবে। একটা পর্যায়ে গিয়ে সব ছবির প্রযোজকেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’

জানা গেছে, শাকিব খানের একাধিক সিনেমা ঈদে মুক্তি পেলে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শাপলা মিডিয়াও একাধিক সিনেমা মুক্তি দেওয়ার হিসাব কষছে, এ জন্য কিছু হলও হাতে রাখছে প্রতিষ্ঠানটি। সিনেমা মুক্তি নিয়ে চুপচাপ থাকলেও জাজ মাল্টিমিডিয়ার টার্গেট আগামী ঈদ। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার আবদুল আজিজ জোর দিয়ে বলেন, ‘ঈদে হল খোলা থাকলে আমাদের শান ও জ্বীন আসবেই।’ ১৫টির মতো সিনেমা এবার ঈদের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, সে ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক কোনো ঝুঁকি থাকে কি না, সিনেমা মুক্তি থেকে পিছিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে কি না? ‘কে কী করবে, সেটা আমি জানি না। আমরা আর অপেক্ষা করছি না। আমাদের সিনেমা মুক্তি পাবে, এটা চূড়ান্ত,’ বলেন আজিজ।

এদিকে ঈদুল ফিতরে সিনেমার চাপ দেখে আপাতত অপারেশন সুন্দরবন, লিডারসহ একাধিক সিনেমা ঈদুল আজহায় মুক্তির পরিকল্পনা করেছেন সংশ্লিষ্টজনেরা। অপারেশন সুন্দরবন সিনেমার পরিচালক দীপঙ্কর দীপন বলেন, ‘অনেকগুলো সিনেমা অনেক আগে থেকেই ঈদে মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে এগিয়েছিল। আমার কাছে মনে হয়েছে, তাদের সুযোগ দেওয়া উচিত। হল কম, করোনা—এর মধ্যে সবাই মিলে পাড়াপাড়ি করার কী দরকার। ভালো সিনেমাগুলো সবার দর্শকদের দেখার সুযোগ করে দিতে হবে। মুক্তি নিয়ে কোনো প্রতিযোগিতার মধ্য থাকতে চাই না। এ জন্য এক ঈদ পিছিয়ে দিয়েছি।’

‘অপারেশন সুন্দরবন’ ছবির পোস্টার
সংগৃহীত

বর্তমানে দেশে সচল রয়েছে ৬০টির মতো সিনেমা হল। ঈদে এর সঙ্গে যোগ হবে আরও ১০০টির মতো হল। এই সংখ্যা ঈদের জন্য অনেক কম। চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতা মিয়া আলাউদ্দীন বলেন, ‘নিয়মে ঈদে একাধিক সিনেমা মুক্তি দিতে বাধা নেই। আবেদন তো সবাই করবেন। অনেকে হল নিয়ে এটা-সেটা বলবেন, দেখা যাবে, ঈদের আগে তাঁরাই অফ হয়ে গেছেন। আগে তো ৭–৮টি ছবি মুক্তি পেত। এখন তো এত ছবি মুক্তির প্রশ্নই আসে না।’ তাহলে সিনেমা মুক্তি পাবে কোন প্রক্রিয়ায়? তিনি বলেন, ‘প্রযোজক ও হলমালিকদের মধ্যে যাঁদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ভালো, তাঁরাই এগিয়ে থাকবেন। আমাদের দেশে এমনটাই হয়।’

প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতি নিয়ে আইনগত জটিলতা তৈরি হওয়ার পর দায়িত্বে থাকা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব খন্দকার নুরুল হক বলেন, ‘বিষয়টি আমার পর্যবেক্ষণ করছি। তবে প্রতিবার ঈদ সামনে রেখে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এবার করোনার প্রভাবে কী হবে, এখনই বলা যাচ্ছে না। এটা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সময় হলেই আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’