এফডিসি আবার সিনেমা প্রযোজনা করবে
চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (এফডিসি) প্রথম প্রযোজিত ছবি গোলাপি এখন ট্রেনে। আমজাদ হোসেনের ছবিটি ১৯৭৮ সালে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রসহ ১১টি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে। পরে সূর্য সংগ্রাম, এমিলের গোয়েন্দা বাহিনীসহ বেশ কয়েকটি ভালো ছবি প্রযোজনা করে এফডিসি। পরে নানা কারণে এ উদ্যোগ বন্ধ হয়ে যায়।
আবার সিনেমা প্রযোজনা করবে এফডিসি। একটি সূত্র বলছে, সিনেমার চরম মন্দা কাটাতে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
শাহিন কবির মনে করেন, মন্ত্রণালয় থেকে সিনেমার জন্য যে অনুদান দেওয়া হচ্ছে, সেই অনুদানের টাকা কিন্তু ফেরত নিচ্ছে না সরকার। এফডিসি থেকে ছবি তৈরির জন্য বিনিয়োগ করলে, ছবির ব্যবসা হলে বিএফডিসিরও একটা বাড়তি আয় হবে।
অনেক দিন থেকে প্রযোজক নেতারা এফডিসির প্রযোজনায় ছবি নির্মাণের বিষয়ে বলে আসছিলেন। এবার সেই উদ্যোগ নেওয়ায় মন্ত্রণালয়কে সাধুবাদ জানান বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক–পরিবেশক সমিতির সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু। তিনি জানান, এতে করে সিনেমার অভাব অনেকটাই দূর হবে। ভালো কনটেন্ট পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, অনেক পরিচালক কাজের অভাবে বসে আছেন। তাঁরা কাজ পাবেন। মানসম্পন্ন ছবি তৈরির সুযোগ হবে। প্রতিবছর ১০টি ছবি তৈরি হলে এর মধ্যে দুটি ছবি হিট হলেও চলচ্চিত্রের এ মন্দা অবস্থা কিছুটা কাটবে।
পরিচালক মতিন রহমান জানান, আগে এফডিসির প্রযোজনায় যেসব ছবি নির্মিত হয়েছে, সব কটিই প্রশংসিত হয়েছে। এফডিসির এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘সিনেমার এ দুঃসময়ে এফডিসির এ উদ্যোগ ভালো। তবে কী উপায়ে ছবিগুলো তৈরি হবে, তার জন্য একটি মনিটরিং সেল থাকা দরকার। কারণ, আমরা চাই না সরকারি অর্থের অপচয় হোক।’ তবে এই পরিচালক মনে করেন, সিনেমা নির্মাণের আগে সিনেমা হলের সংস্কার ও হলের সংখ্যা বাড়ানো দরকার। কারণ, প্রদর্শনীর জায়গা না থাকলে সিনেমা বানিয়ে লাভ কী?
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র বিভাগের উপসচিব সাইফুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির একটি দল সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের সঙ্গে দেখা করে। এ সময় তারা সিনেমার মন্দা কাটিয়ে উঠতে এফডিসির প্রযোজনায় সিনেমা বানানোর প্রস্তাব দেয়। বিষয়টি তাঁরা আমলে নিয়েছেন।
সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, ‘তবে কবে থেকে ছবি নির্মাণ শুরু হবে, এখনো ঠিক হয়নি। জুলাই থেকে এফডিসির প্রযোজনায় সিনেমা নির্মাণসহ আরও কয়েকটি কাজ হাতে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনার বিধিনিষেধের কারণে কাজ একটু পিছিয়েছে। পরিস্থিতি ভালো হলে চলতি মাসেই কাজ শুরু হতে পারে।’
এফডিসির পরিচালক (উৎপাদন) শহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। এটি এখন এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পর্যায়ে আছে। তিনি বলেন, এফডিসি থেকে প্রস্তাব পাঠালে মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেবে। কোন প্রক্রিয়ায় ছবি প্রযোজনা করা হবে, অফিশিয়ালি সেটা তৈরির কাজ চলছে এখন।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন কবির জানান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে এফডিসি থেকে আবার সিনেমা প্রযোজনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি প্রস্তাবটির সঙ্গে একমত হয়েছেন। তিনি বলেন, প্রযোজকদের একটি ভালো ছবি নির্মাণ করতে গেলে দেড়-দুই কোটি টাকা খরচ হয়। কিন্তু এফডিসির প্রযোজনায় ছবি নির্মাণ হলে খরচ অর্ধেকে নেমে আসবে। কারণ, ক্যামেরা থেকে শুরু করে কারিগরি সব সাপোর্টই এফডিসির আছে। এতে করে একদিকে সিনেমার সংখ্যা বাড়বে, অন্যদিকে কম খরচে ভালো ছবির অভাব দূর হবে। সর্বোপরি চলচ্চিত্রাঙ্গন চাঙা হবে।