default-image

ইশরাত নিশাতের স্বপ্ন ছিল থিয়েটারে আসবেন নতুন সব ছেলেমেয়ে। তাঁরা দক্ষ থিয়েটারকর্মী ও অভিনয়শিল্পী হিসেবে গড়ে উঠবেন। তাঁর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়াত ইশরাত নিশাতের নামে প্রবর্তন করা হচ্ছে পুরস্কার। প্রতিবছর মঞ্চনাটকে মোট আটটি শাখায় এ পুরস্কার দেওয়া হবে। দেশ নাটকের সহায়তায় নিশাতের নামে পুরস্কারটি প্রবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে ‘ইশরাত নিশাত নাট্য পুরস্কার’ বাস্তবায়ন কমিটি।

গত শনিবার সকালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ইশরাত নিশাত নাট্য পুরস্কার’-এর বিস্তারিত তুলে ধরে পুরস্কার বাস্তবায়ন কমিটি। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রথম বছর ঢাকার পাঁচ মঞ্চ—জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তন, পরীক্ষণ থিয়েটার মিলনায়তন, স্টুডিও থিয়েটার মিলনায়তন, বাংলাদেশ মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তন এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মঞ্চে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর মঞ্চস্থ হওয়া নতুন নাটকগুলোর মধ্যে এ পুরস্কার দেওয়া হবে। গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনভুক্ত ও গ্রুপ থিয়েটারের আদর্শে পরিচালিত দলের নাটক এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হবে। একজন নির্দেশক, একজন নাট্যকার, একজন নারী অভিনয়শিল্পী, একজন পুরুষ অভিনয়শিল্পীসহ মঞ্চ, আলো ও সংগীত পরিকল্পক এবং শ্রেষ্ঠ প্রযোজনাকে ওই বছরের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
default-image

প্রতিবছর ইশরাত নিশাতের প্রয়াণ দিবসে আগের বছরের নাটকগুলোকে পুরস্কার দেওয়া হবে। পুরস্কারের অর্থমূল্য হবে ২৫ হাজার টাকা। শুধু শ্রেষ্ঠ প্রযোজনার আর্থিক মূল্য হবে ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া দেওয়া হবে স্মারক ও সনদ। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইতিমধ্যে বছরের নতুন নাটকগুলো দেখা ও মূল্যায়নের কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই পুরস্কারের বিভাগ, যেমন পোশাক, মেকআপ ইত্যাদি বাড়ানো হবে। অধ্যাপক আবদুস সেলিমকে প্রধান করে নাটক মূল্যায়নের জন্য গঠন করা হয়েছে জুরিবোর্ড। সদস্য হিসেবে আছেন দেবপ্রসাদ দেবনাথ, ওয়াহিদা মল্লিক জলি, ইউসুফ হাসান, কামালউদ্দিন কবির, মোহাম্মদ আলী হায়দার ও আইরিন পারভীন।
ইশরাত নিশাত নাট্য পুরস্কারকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করতে দেশের নাট্য ব্যক্তিত্বদের নিয়ে ১৬ সদস্যের একটি পুরস্কার বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির চেয়ারম্যান ফেরদৌসী মজুমদার। সদস্যরা হলেন রামেন্দু মজুমদার, আতাউর রহমান, আসাদুজ্জামান নূর, মামুনুর রশীদ, ম. হামিদ, নাসির উদ্দীন ইউসুফ (কো-চেয়ারম্যান), সারা যাকের, লাকী ইনাম, লিয়াকত আলী লাকী, গোলাম কুদ্দুছ, তারিক আনাম খান, রোকেয়া রফিক বেবী, কামাল বায়েজীদ, মাসুম রেজা ও কামাল আহমেদ।

default-image

সংবাদ সম্মেলনে নাট্যজন ম. হামিদ বলেন, স্বাধীনতা–পরবর্তীকালে বাংলাদেশের নাট্যচর্চা ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। বেগবান হয়েছে গ্রুপ থিয়েটার আন্দোলন। প্রায় ৫০টির বেশি নতুন নাটক প্রতিবছর মঞ্চে আসছে। কয়েক হাজার তরুণ ও নিবেদিতপ্রাণ মানুষ নিজেদের সময়, মেধা ও অর্থ দিয়ে বাংলাদেশের থিয়েটারকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। যত্সামান্য সরকারি আর্থিক অনুদান ছাড়া তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি নেই তাঁদের। অথচ দেশীয় সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারে এই থিয়েটারকর্মীরা নিরলস শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। অন্যান্য শিল্পমাধ্যম, যেমন চলচ্চিত্র, সাহিত্য, টিভিনাটকে বিভিন্ন ধরনের সরকারি–বেসরকারি পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়া হয়। অথচ থিয়েটারের জন্য নেই কোনো জাতীয় পুরস্কার বা সম্মাননা।
পুরস্কার বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য নাট্যজন গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘ইশরাত নিশাত নাট্য পুরস্কার বাংলাদেশের থিয়েটার অঙ্গনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর আগে বিভিন্ন থিয়েটার দলের পদক থাকলেও পুরস্কার এই প্রথম। সুতরাং চলতি বছরে এই পুরস্কার আয়োজনে বিভিন্ন ঘাটতি, ভুলভ্রান্তি থেকে যাবে, যা কিনা আমরা সম্মিলিতভাবে সংশোধন করে এই পুরস্কারকে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’ পুরস্কারকে থিয়েটারের একটি জাতীয় পুরস্কারে উন্নীতকরণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।
বাংলাদেশের মঞ্চনাটকে যাঁদের অনন্য অবদান, ইশরাত নিশাত তাঁদের অন্যতম। বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও বিনোদন অঙ্গনের পরিচিত ও প্রিয়মুখ অভিনেত্রী নাজমা আনোয়ারের কন্যা ইশরাত নিশাত গত বছর মারা যান।

default-image
বিজ্ঞাপন
নাটক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন