বৈশাখের বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় সাড়া পেয়েছে থিয়েটারিয়ান। মিলনায়তনের সব আসনই ছিল পূর্ণ। নতুন দলের নতুন নাটক দেখতে এসেছিলেন ঢাকার বিভিন্ন নাট্যদলের সদস্যরা। উৎসাহ দিতে এসেছিলেন নাট্যজন মামুনুর রশীদ, ইস্রাফিল শাহিন, মাসুম রেজা প্রমুখ।

default-image

ডেথ অব আ সেলসম্যান থিয়েটারিয়ানের প্রথম প্রযোজনা। দলটি ঢাকার মঞ্চে নতুন। ২০২০ সালের ১২ ডিসেম্বর নাট্যদল ‘প্রাঙ্গণেমোর’-এর ২৭ সদস্য যৌথপত্রে স্বাক্ষর দিয়ে দলছুট হন। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে তাঁরা ঘোষণা দেন থিয়েটারিয়ানের। বিগত তিন মাস দলটি কাজ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমানের সঙ্গে। তিনিই নির্দেশনা দিয়েছেন ফতেহ্ লোহানী অনূদিত ডেথ অব আ সেলসম্যান নাটকটি।

‘ডেথ অব আ সেলসম্যান’ পরিচয় হারানো একজন মানুষের নিজের ও সমাজের মধ্যকার পরিবর্তনকে মেনে নিতে না পারার গল্প। নাটকটি স্মৃতি, স্বপ্ন, দ্বন্দ্ব ও তর্কের একটি সম্মিলিত ছবি, উইলি লোম্যানের জীবনের শেষ ২৪ ঘণ্টার ঘটনা। পরিবর্তনের চেষ্টায় একদিন জীবনের গল্পটাই বদলে ফেলে সে।

default-image

আশিকুর রহমান বলেন, ‘ডেথ অব আ সেলসম্যান’ প্রযোজনাটি দর্শকের সামনে শুধু একটি নাট্য শিল্পকর্ম হিসেবে কখনোই আমরা উপস্থাপন করতে চাইনি। বরং চেয়েছি পুঁজিবাদী সমাজে যেখানে আমাদের আবাস, সেখানে প্রতিমুহূর্তে যে নিরন্তর লড়াই করে আমরা বেঁচে থাকার চেষ্টা করি বা মারা যাই, সেই ট্র্যাজিক বাস্তবতার নির্যাস যাতে ধরা দেয়। আর্থার মিলার এই নাটকে সামন্ততান্ত্রিক চির অভ্যস্ত চেতনার ধারক ব্যক্তির জীবনসংগ্রাম, স্মৃতি, অনুশোচনা, বাবা-ছেলের বাৎসল্য ও টানাপোড়েন, নারী-পুরুষের সম্পর্কের দমনমূলক চিত্রের জটিলতা ইত্যাদি চিত্রণে পুঁজিবাদী সমাজকে উপস্থাপন করেছেন ক্ষুধার্ত রাক্ষসরূপে। এই প্রযোজনার পরতে পরতে পুঁজিবাদী সমাজে আমরা কীভাবে বেঁচে আছি আর কীভাবে মারা যাই প্রতিমুহূর্তে, সে বিষয়েই প্রশ্ন তোলে।’

default-image

নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন তৌহিদ বিপ্লব, পলি চৌধুরী, তাসমিয়া মীম, মো. মাইনুল ইসলাম, আহমেদ সুজন, নাজমুল নাঈম, আমিরুল মামুন, লিটু রায়, পৃথু অভিষেক, অর্নিলা অচিন প্রমুখ। আজ শনিবার নাটকের দ্বিতীয় প্রদর্শনী।

নাটক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন