বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আমরা ভেতরে ঢুকি। আসবাব সরিয়ে বসার ঘরকেই করা হয়েছে মঞ্চ। চারকোনা ঘরের চারদিকে কালো কাপড়ে মোড়ানো চেয়ার পাতা। কোনো আড়ম্বর নেই। চারদিকে হ্যালোজেনের সাদা আলো। ওপরে টানানো রশি। তাতে টানানো বিভিন্ন রঙিন কাগজে লেখা, ‘হালকা রোদে এক পশলা বৃষ্টি’, ‘শর্ষে ফুলের ঘ্রাণ’, ‘কাশবন’, ‘শর্ষে ইলিশ,’ ‘একা পাখি’ ইত্যাদি। আন্দাজ করি, ওগুলোও বিস্ময়কর বস্তু।

default-image

ঘণ্টি বাজে। নাটক শুরু হয়। আরেকবার চমকে উঠি। অভ্যর্থনাকারী সেই চশমা পরা মেয়েটিই দেখি অভিনয়শিল্পী। নাটকের শুরুতে মেয়েটি হাজির হন তাঁর পোষ্য কুকুরছানা নিয়ে। ছানাটির ঊরুতে দিতে হবে ইনজেকশন। তিনি ডেকে আনেন এক পশুচিকিৎসককে। এবার ঘটল এক অদ্ভুত কাণ্ড। অভিনেত্রী মেয়েটি এক দর্শকের কাছে ছুটে যান। বিনয়সহকারে জানান, তিনি দেখতে নাকি তাঁর সেই পশুচিকিৎসকের মতো। তিনি কি মেয়েটির সঙ্গে পশুচিকিৎসক হিসেবে অভিনয় করবেন? আচমকা এমন প্রস্তাবে কিছুটা হকচকিয়ে যান দর্শক। পরে তিনিও হয়ে যান নাটকটির পশুর চিকিৎসক। তবে কুকুরছানা? আরেক দর্শকের ব্যাগ হয়ে যায় কুকুরছানা বোমকেশ বক্সী। আর কলম হয়ে যায় সিরিঞ্জ। এভাবেই নাটকে দর্শকের সঙ্গে থাকা আসবাব হয়ে যায় প্রপস আর দর্শকই হয়ে যান সহ–অভিনেতা। প্রসেনিয়াম (এক পাশে দর্শক ও এক পাশে অভিনেতা) মঞ্চের ধারণা ভেঙে দর্শক–অভিনেতা একাকার হয়ে যায়।

আগেই বলেছি, আত্মহত্যাপ্রবণ এক মাকে বাঁচাতে সাত বছরের এক মেয়ের প্রাণান্তকর প্রচেষ্টার গল্প এ নাটক। আর সে চেষ্টায় সে বেছে নেয় অভিনব এক পন্থা। মায়ের জন্য পৃথিবীর বিস্ময়কর সবকিছুর একটা তালিকা করে। কিন্তু মাকে সে বাঁচাতে পারে না। তবে এর মধ্য দিয়ে সে আবিষ্কার করে আত্মহত্যার প্রবণতা, বিষণ্নতা থেকে বাঁচবার মন্ত্র। বিষণ্ন, আত্মহত্যাপ্রবণ মায়ের সন্তানেরা কীভাবে বেড়ে ওঠে, তাদের মনোজগতে কী ঘটে, সেগুলোও উঠে আসে।

সৈয়দ জামিল আহমেদের অনুবাদ, পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় এবং মহসিনা আক্তারের অভিনয়ে আর ‘স্পর্ধা’র প্রযোজনায় ব্রিটিশ নাট্যকার ডানকান ম্যাকমিলানের ‘এভরি ব্রিলিয়ান্ট থিং’ বাংলায় হয়ে উঠেছে ‘বিস্ময়কর সবকিছু’। ২০১৩ সালে ইংল্যান্ডের প্রেক্ষাপটে লেখা এ নাটক যেন হয়ে ওঠে এখনকার বাংলাদেশের গল্প, বিস্ময়কর সবকিছুর তালিকায় দেখা যায় ‘হাওয়াই মিঠাই’, ‘হাজির বিরিয়ানি’ কিংবা ‘বাকরখানি’র নাম। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গল্পটিকে টেনে আনতে গিয়ে কোথাও কোথাও সুর একটু কেটে গেছে! যেমন ইংরেজি গানে ঠোঁট মেলাতে পারলেন হাতে গোনা কয়েকজন মাত্র দর্শক।

default-image

সে যা–ই হোক, দর্শক–অভিনেতার ভেদরেখা ঘুচে নতুন ধরনের থিয়েটার উপভোগ সবচেয়ে বড় কথা। পাশাপাশি বলতে চাই, এই শহরে জ্যাম ঠেলে, অফিস শেষে সেগুনবাগিচায় গিয়ে শিল্পকলায় নাটক দেখা এক ঝক্কি বটে। সে ঝামেলা আর থাকল না। আপনার পাশের বাসার বসার ঘরেই হয়তো হচ্ছে নাটক। শুধু একটু চোখ–কান খোলা চাই। গুলশানে শুরু হয়ে বারিধারা ও ধানমন্ডিতে নাটকটির প্রদর্শনী হয়েছে। সামনে হবে উত্তরায়।

নাটক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন