লালন সাঁইয়ের অমিয় বাণীর সুরে জমে উঠল একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ
লালন সাঁইয়ের অমিয় বাণীর সুরে জমে উঠল একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণছবি: সংগৃহীত

করোনা কেড়ে নিয়েছিল উৎসবের জৌলুস। গেল বছরের প্রায় পুরো সময় উৎসবে থাবা বসিয়েছে এই মহামারি। এরই মধ্যে এসেছে টিকার সুখবর। আস্তে আস্তে রাজধানীর সংস্কৃতি অঙ্গনেও ফিরছে হারানো জৌলুস। কাটছে ভয়, মানুষ মিলছে উৎসবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার শিল্পকলা একাডেমিতে সুরের মূর্ছনায় শীতের সন্ধ্যায় উঠেছিল পূর্ণিমার চাঁদ। । ‘পূর্ণিমা তিথির সাধুমেলা’ শিরোনামের এই বাউল গানের আসরে শিল্পীরা কণ্ঠের সঙ্গে হৃদয় উজাড় করে লালনের গান গেয়ে মুগ্ধ করেন শ্রোতাদের। লালনের গানের সঙ্গে তাঁর ভাববাণীও পরিবেশন করেন বাউলেরা। বিকেল চারটা থেকে শুরু হয়ে আয়োজন চলে রাত ১০টা পর্যন্ত।

default-image

আয়োজনের শুরুতে বাউল শিল্পীদের কণ্ঠে সাঁইজির ভাববাণী এবং শিল্পকলা একাডেমি বাউল দলের ভাববাণী পরিবেশিত হয়। আলোচনা পর্বে একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য কামাল উদ্দিন আহমেদ, ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের পরিচালক নিপা চৌধুরী, নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ–উপাচার্য ও লালন গবেষক আনোয়ারুল করিম।

বিজ্ঞাপন
default-image

আলোচনা শেষে সাধুগুরুদের পরিবেশনায় বাউলসংগীত পরিবেশন করেন শফি মণ্ডল, চন্দনা মজুমদার, আজমল শাহ, সমীর বাউল, অধ্যাপক জাহিদুল কবির, মাসুদ শামীম, সন্ধ্যা রানি দত্ত, অমীয় বাউল, মোতালেব বাউলসহ বিভিন্ন জেলার বাউল শিল্পীরা।

নতুন নাটকের প্রদর্শনী সূত্রাপুরে শিল্পকলা একাডেমিতে খোলা প্রাঙ্গণে যখন চলছিল গানের আসর, ঠিক সে সময় রাজধানীর অন্য প্রান্ত, পুরান ঢাকার জহির রায়হান মিলনায়তনে অনুরাগ থিয়েটার মঞ্চস্থ করে নতুন নাটক ‘অবজেকশন ওভাররুলড’। প্রদর্শনীটির আয়োজন করেছে মঞ্চনাট্য ও সাংস্কৃতিক শিল্পী কল্যাণ সংঘ। নাটকটির রচনা, নির্দেশনা ও মঞ্চ পরিকল্পনা করেছেন মাহবুব আলম। অভিনয় করেছেন শামসি আরা সায়েকা, হুমায়রা আনজুম, সাহাদাত হোসেন, হামিদা আক্তার, উর্মি আক্তার, মেহমুদ সিদ্দিকী, জাহিদ হাসান, ইসরাফিল হোসেন, সুলতানা আক্তার, রাজু আক্তার, নিজাম নূর ও মীর মিজানুর রহমান। উল্লেখযোগ্য দর্শকের উপস্থিতি ছিল সেখানে।

default-image

শুরু হচ্ছে যাত্রা উৎসব
আজ থেকে শুরু হচ্ছে যাত্রা উৎসব। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার মিলনায়তনে আজ থেকে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এ উৎসব। প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত আসন খালি থাকা সাপেক্ষে সাধারণ দর্শকের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এ আয়োজন। এবারের যাত্রা উৎসবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ২২টি দল অংশগ্রহণ করবে। জানা গেছে, যাত্রাশিল্প উন্নয়ন কমিটির ৩ সদস্য প্রতিদিন যাত্রা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে যাত্রাপালা মূল্যায়ন করবেন। তাঁদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে যাত্রার দলগুলোকে নিবন্ধন দেওয়া হবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ইতিমধ্যে ১১টি পর্যায়ে ১১৭টি যাত্রাদলকে নিবন্ধন দিয়েছে এবং ১৫টি যাত্রাদলের বিভিন্ন অভিযোগে নিবন্ধন বাতিল করেছে।

default-image

আজ দুটি নাটকের প্রদর্শনী
দুটি নাটকের প্রদর্শনী আছে আজ সন্ধ্যায়। জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে প্রাঙ্গণেমোর নাট্যদল পরিবেশন করবে নাটক ‘হাছনজানের রাজা’। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় শুরু হবে এ নাটকের প্রদর্শনী। একই সময়ে জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার মিলনায়তনে স্বপ্নদল পরিবেশন করবে ‘হেলেন কেলার’।

বিজ্ঞাপন
নাটক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন