নির্যাতন, প্রতিশোধ আর ন্যায়ের দ্বন্দ্ব
নারীর প্রতি রাষ্ট্রীয় সহিংসতার মনস্তাত্ত্বিক অভিঘাত নিয়ে অবলোকন মঞ্চে এনেছে নতুন নাটক ‘গন্ধসূত্র’। অপু শহীদের রচনা আর তৌফিকুল ইসলামের নির্দেশনায় নাটকটিতে উঠে এসেছে রাষ্ট্রের ছত্রচ্ছায়ায় নির্যাতিত এক নারী ফটোসাংবাদিকের সংকট, প্রতিরোধ ও প্রতিশোধের গল্প। বৃহস্পতিবার জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটারে নাটকটির তৃতীয় প্রদর্শনী হয়। আজ শুক্রবার একই মঞ্চে রয়েছে চতুর্থ প্রদর্শনী।
নাটকের গল্পে দেখা যায়, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সহিংসতার শিকার হন এক নারী সাংবাদিক। একপর্যায়ে ঘরেই সেই নির্যাতককে শনাক্ত করেন তিনি। আইন ও ন্যায়বিচার–ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে তিনি প্রতিশোধের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে নাটকটি ক্ষমতা, ন্যায়বিচার, নারী শরীর ও রাষ্ট্রের সম্পর্ককে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।
নাট্যকার অপু শহীদ বলেন, সমসাময়িক রাজনৈতিক পটভূমি নিয়ে একটি নাটক লেখার ভাবনা অনেক দিন ধরেই ছিল, ‘গন্ধসূত্র’ সেই ভাবনারই নাট্যরূপ। তাঁর ভাষায়, ‘সময়কে শুধু চোখে বা কানে ধরা যায় না। সময়ের একটা গন্ধ থাকে। সেই গন্ধ দিয়েই সময়কে চিনে নেবেন দর্শক।’
নাট্যকার অপু শহীদ বলেন, এটা কোনো কল্পলোকের গল্প নয়। দেশে দেশে, নগরে নগরে এমন ঘটনা ঘটেছে—এখনো ঘটছে, ভবিষ্যতেও ঘটবে। নাটকটির নির্মাণভাবনায় আর্জেন্টাইন–আমেরিকান নাট্যকার এরিয়েল ডর্ফম্যানের ‘ডেথ অ্যান্ড দ্য মেইডেন’ একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে বলেও জানান অপু শহীদ।
নির্দেশক তৌফিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্ক্রিপ্ট হাতে পাওয়ার পর ভেতরে একধরনের ধাক্কা লেগেছিল। মনে হয়েছিল, এই নাটক মঞ্চে আনতেই হবে।’ তিনি বলেন, ‘শুধু আমাদের রাষ্ট্রই নয়, পৃথিবীর যেখানেই গণতন্ত্র ধসে পড়ছে, সেখানকার বাস্তবতাই এখানে ধরা পড়েছে।’
নির্দেশক আরও বলেন, ‘মঞ্চায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ভাষা ও উপস্থাপন। পশ্চিমা থিয়েটারে সহিংসতা, যৌনতা বা শরীরী ভাষা অনেক বেশি সরাসরি তুলে ধরা হয়। আমাদের দর্শকের সামনে সেই ভাষা কতটা উচ্চারণ করা যায়, সেই জায়গায় দ্বিধা ছিল।’ নাট্যকারের সঙ্গে আলোচনা করে সংলাপ ও দৃশ্যবিন্যাস কিছুটা পরিশীলিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
’৮০ ও ’৯০ দশকে নিয়মিত নাট্যচর্চার পর একসময় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে অবলোকন। দীর্ঘ বিরতির পর গত বছর দলের পুরোনো সদস্যদের উদ্যোগে নতুন করে পুনর্গঠিত হয় অবলোকন। নতুন প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে দলটি আবার মঞ্চনাটকে ফেরে। ‘গন্ধসূত্র’ সেই নতুন যাত্রার অংশ। এর আগে তারা মঞ্চে এনেছে ‘আজকের নোরা’।