মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: ঢাবি শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী গ্রেপ্তার

মুনিরা মাহজাবিন মিমোফেসবুক থেকে নেওয়া

নাট্যকর্মী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর (২৬) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ সকাল আটটার দিকে বাড্ডার বাসা থেকে মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে বাড্ডা থানা–পুলিশ। এরপর সুদীপ চক্রবর্তীকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে জানান, আজ সাড়ে তিনটার দিকে বাড্ডা থানায় সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা করেন মিমোর বাবা। সেই মামলায় সুদীপ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

মুনিরা মাহজাবিন মিমো
ফেসবুক থেকে নেওয়া

একই ঘটনায় উম্মে হানি নামে মিমোর এক সহপাঠীকে হেফাজতে নিয়েছিল পুলিশ। মুচলেকা নিয়ে হানিকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান আসাদুজ্জামান।
বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে জানান, ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করেছেন তাঁরা।

আসাদুজ্জামান বলেন, ‘তিনি (মিমো) সচরাচর দরজা খোলা রেখে ঘুমান। ফজরের আজানের পর দরজা বন্ধ দেখে পরিবারের সদস্যরা ধাক্কাধাক্কি করেন। তবে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।’

পুলিশ বলছে, গতকাল রাত একটার দিকে সুদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে ছয় মিনিট কথা বলেছেন মিমো। কল হিস্ট্রি ডিলিট করেছেন সুদীপ।

আরও পড়ুন

মিমোর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারপারসন কাজী তামান্না হক। এক শোকবার্তায় তামান্না হক লিখেছেন, ‘এমন মৃত্যু আমরা কেউ মেনে নিতে পারছি না। বিভাগের সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা শোকে আচ্ছন্ন। আমরা চাই সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক।’

মুনিরা মাহজাবিন একটি চিরকুটে সুদীপ চক্রবর্তী ও হানির নাম লিখে গেছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা। চিরকুটে লেখা ছিল, ‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে, হানি আর সুদীপ স্যার ভাল থাকো, স্যারের দেয়া গিফটগুলো ফেরত দেয়া।’
নাট্যকর্মী হিসেবে পরিচিত মিমোকে নির্দেশনা দিতেও দেখা গেছে। মৃত্যুর ঘটনায় নাট্যাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নাট্যকর্মী মহসিনা আক্তার লিখেছেন, ‘আহারে মিমো।’