অভিনেতা সেন্টুর বাসায় ভাঙচুর ও চুরির অভিযোগ
তরুণ অভিনেতা আব্দুল্লাহ আল সেন্টুর ভাড়া বাসায় ভাঙচুর করে মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর রামপুরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি। অভিযোগপত্রে লিটন ও এনায়েত নামের দুজনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
প্রথম আলোকে সেন্টু বলেন, শুটিংয়ের কাজে ঢাকার বাইরে থাকার সময় তাঁর বাসার ভেতরে ভাঙচুর করে একাধিক ব্যবহার্য ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়। থানায় ডাকাতির মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ না করে অভিযোগ নিয়েছে। এ বিষয়ে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করবেন বলেও জানান তিনি।
‘শুটিংয়ের কাজে ঢাকার বাইরে ছিলাম। ফিরে এসে দেখি বাসার বেশ কিছু ব্যবহার্য ও মূল্যবান দ্রব্যাদি নেই। থানায় মামলা করতে গিয়েছিলাম, পুলিশ মামলা নেয়নি, অভিযোগ করেছি’ বলেন সেন্টু।
অভিনেতার অভিযোগ, ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও বাসায় ভাঙচুর ও জিনিসপত্র খোয়া যাওয়ার বিষয়টি তাঁকে কেউ জানায়নি। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় বাসার মালিকের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।
অভিযোগপত্রে সেন্টু উল্লেখ করেন, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে তিনি ওই বাসায় বসবাস করছিলেন। গত ২৫ জানুয়ারি বিকেলে শুটিংয়ের কাজে মানিকগঞ্জে যান। এরপর ৩০ জানুয়ারি রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে বাসায় ফিরে দারোয়ানের সহায়তায় তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন।
বাসায় ঢুকে তিনি দেখতে পান, একটি ২ টেরাবাইট হার্ডড্রাইভ—যেখানে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সিনেমার চূড়ান্ত ফুটেজ সংরক্ষিত ছিল—সহ ভিভো মোবাইল, সিলিং ফ্যান, গ্যাস কার্ড, চ্যানেল আই ডিজিটাল মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডের ‘বেস্ট রাইজিং স্টার’ ক্রেস্ট এবং কিছু কাপড়চোপড়, ইস্তিরি ও জুতা খোয়া গেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দারোয়ান জানান ২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যার দিকে অজ্ঞাতনামা ১৫–২০ জন ব্যক্তি বাসার তালা ভেঙে এসব মালামাল নিয়ে যায়। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বাসার ভেতরের অবস্থা ভিডিও করে যায়। পুলিশ নিজেরা নতুন একটি তালা মেরে যায়। পরে বাসার মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং দুর্ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেন্টুর দাবি, ২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় অভিযোগে উল্লেখ করা দুই ব্যক্তির যোগসাজশে অজ্ঞাতনামা ওই দলটি তাঁর বাসায় ভাঙচুর ও মালামাল নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।’