বাংলাদেশ ও ভারতের নাট্যদলের অংশগ্রহণে ঢাকায় আয়োজিত গঙ্গা–যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসবের উন্মুক্ত মঞ্চে গতকাল শুক্রবার নৃত্য পরিবেশন করেছে নৃত্যজন। শুধু নাচই নয়; এ আয়োজনে গান, আবৃত্তি, পথনাটকসহ নানা পরিবেশনায় সপ্তাহখানেক ধরেই সরব বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। গতকাল ছুটির দিনে দর্শকের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শিল্পকলা ঘুরে দেখা গেছে, উৎসবে শামিল হতে কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছুটে এসেছিলেন নাট্যশালা প্রাঙ্গণে।

দুই দেশের মিলনমেলার আয়োজনে উৎসবের রঙে সাজানো হয়েছে শিল্পকলা একাডেমি। লাল, নীল, সবুজ রঙের কাপড়ে সাজানো হয়েছে নাট্যশালা প্রাঙ্গণ, সিঁড়ি। নাট্যশালায় ঢোকার মুখে চারপাশে সজ্জিত তীর ও মাঝখানে লক্ষ্যবস্তু–সংবলিত একটি থিমেটিক কাজ। এটিকেই এই উৎসবের সাজসজ্জার মূল বিষয়বস্তু হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে বলে জানালেন উৎসবের আয়োজক গঙ্গা–যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসব পর্ষদের সাজসজ্জা কমিটির সদস্যসচিব সাকিল আহমেদ।

সাকিল আহমেদ বলেন, তীর ও লক্ষ্যবস্তুর মধ্য দিয়ে প্রতীকীভাবে করোনাভাইরাস মহামারিতে নাট্যাঙ্গনের সংকট পেরিয়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর বিষয়টি তাঁরা তুলে ধরেছেন। নাট্যশালায় ঢোকার মুখে কয়েকটি প্রদীপ রাখা হয়েছে, প্রদীপ জ্বালানোর কাঠিতেও রাখা হয়েছে নানান রঙের ফুল। সাকিলের ভাষ্যে, রঙিন ফুল আমাদের উৎসবের কথা বলে, আশার কথা বলে।
নাট্যশালার ভেতরের প্রাঙ্গণে সারি সারি নীল রঙের বোর্ড রাখা হয়েছে, সেই বোর্ডে গঙ্গা–যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসবসংক্রান্ত খবরের কাটিং সেঁটে দেওয়া হয়েছে। সাকিল বলছেন, নীল রং কষ্টের কথা বলে; ফলে সম্ভাবনার খবর দিয়ে তারা নীল রংকে ঢেকে ফেলতে চান।

করোনাভাইরাস মহামারি মধ্যে গত বছর নামেমাত্র গঙ্গা–যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসব হয়েছিল, সেবার ভারতের কোনো দল আসেনি। আঁধার ভেঙে এবার পুরোদমে উৎসবটি আয়োজন করা হয়েছে। এবার ভারতের তিনটি দল এসেছে ঢাকায়।
ততক্ষণে সন্ধ্যা নেমে এসেছে, সঙ্গে হিম হিম শীত। হিমেল সন্ধ্যায় কেউ গানে, কেউ আবৃত্তিতে, নাট্যশালা প্রাঙ্গণের সামনের লবিতে পা দুলিয়ে চায়ে চুমুক দিতে দিতে জমাট আড্ডায় মেতেছিলেন একদল তরুণ। তাঁদেরই একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী অন্তরা মাহমুদ জানালেন, তিনি আরণ্যক নাট্যদলের রাঢ়াঙ দেখতে এসেছেন। এর আগেও দুবার একা নাটকটি দেখেছেন; এবার এসেছেন বন্ধুদের নিয়ে।

বাংলাদেশের তুমুল আলোচিত নাটকটি গতকাল শুক্রবার পরিবেশন করা হয়েছে পরীক্ষণ থিয়েটার মিলনায়তন, একই দিন জাতীয় নাট্যশালায় পরিবেশন করা হয়েছে ভারতের নাট্যদল নয়ে নটুয়ার প্রযোজনা ‘নক্সী কাঁথার মাঠ’। পালাকারের প্রযোজনা ‘উজানে মৃত্যু’ প্রদর্শিত হয়েছে স্টুডিও থিয়েটার হলে। শিল্পকলার জাতীয় সংগীত, নৃত্যকলা ও আবৃত্তি মিলনায়নে ছিল বোধন আবৃত্তি পরিষদের কাব্যনাট্য ‘কিষাণকাব্য’, ভাবনা প্রযোজনার ‘ভানুসিংহের পদাবলী’।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালায় থাকছে ভারতের নয়ে নটুয়ার ‘বড়দা বড়দা’, এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটারের হলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রযোজনা ‘নিঃসঙ্গ লড়াই’ (যাত্রা) ও স্টুডিও থিয়েটার হলে স্বপ্নদলের ‘চিত্রাঙ্গদা’। বাংলাদেশ মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে থাকছে নাট্যচক্র প্রযোজনা একা একা নারী। শিল্পকলার জাতীয় সংগীত, নৃত্যকলা ও আবৃত্তি মিলনায়তনে থাকছে মৃত্তিকায় মহাকালের প্রযোজনা ফিরে এসো প্রমিথিউস ও বহ্নিশিখার প্রযোজনা সোনার বান্ধাইলা নাও।
২১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ উৎসব শেষ হবে ৩১ অক্টোবর।