সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধফেরত কয়েকজন তরুণ ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠা করেন আরণ্যক নাট্যদল। জীবন ও শিল্পের সীমারেখাকে একাকার করে দিয়ে নাটককে মানুষের আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন ও অধিকার পূরণের হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা ছিল তাঁদের লক্ষ্য। বিগত ৫০ বছর নাটকের দলটি দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে রেখেছে সক্রিয় ভূমিকা। মঞ্চনাটক ছাড়াও সামাজিক অপরাধ এবং সংকটে পথনাটকের প্রযোজনা নিয়ে দেশ-বিদেশে ছুটে বেড়াচ্ছে আরণ্যক। শোষণের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করা দলটির অন্যতম লক্ষ্য।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাট্যকার হারুন রশীদ। তিনি জানান, আট দিনব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য এ নাট্যোৎসবে নয়টি নাটক প্রদর্শন করা হবে। বিগত ৫০ বছরে কী কী নাটক আরণ্যক করেছে, তার একটা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

নাটকগুলোর মাধ্যমে বর্তমান বিধ্বস্ত পৃথিবীর জন্য থাকবে নতুন বার্তা। উৎসবের দ্বিতীয় দিন মামুনুর রশীদের ‘নাট্য সমগ্র ৪’, হারুন রশীদের ‘পাঁচটি নাটক’ ও অপু মেহেদীর ‘আরণ্যকের নাট্যচর্চা’ গ্রন্থগুলোর প্রকাশনা উৎসব হবে। শেষের দিন ৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে ‘পঞ্চাশের আরণ্যক: অভিঘাতের অভিজ্ঞান’ শীর্ষক একটি সেমিনার।

এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করবেন অধ্যাপক রতন সিদ্দিকী। এ ছাড়া প্রতিদিনই পরিবেশিত হবে আদিবাসী ও লোকসংগীত, থাকবে যন্ত্রসংগীতও। সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হবে নাটক। দর্শনীর বিনিময়ে টিকিট কেটে নাটকগুলো দেখতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নাট্যনির্দেশক ফয়েজ জহির, অভিনেত্রী তমালিকা কর্মকার, আলোক নির্দেশক ঠান্ডু রায়হান, আমিন আজাদ, লায়লা বিলকিস, সুজাত শিমুল, মোমেনা চৌধুরী প্রমুখ।