৭৬ বছরের আমি ১৯ বছরের তরুণ : মামুনুর রশীদ

চার বছর পর ফিরে আসে নাট্যজন মামুনুর রশীদের জন্মদিন। মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের বরেণ্য এই অভিনয়শিল্পী অভিনয়ে কাটিয়ে দিয়েছেন পাঁচ দশকের বেশি সময়। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের মঞ্চ আন্দোলনের পথিকৃৎ তাঁর নাটকে শ্রেণিসংগ্রাম, ক্ষুদ্র জাতিসত্তার অধিকার আদায়ের নানা আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক ইস্যু তুলে ধরেন। লেখা ও নির্দেশনার মাধ্যমে হয়ে উঠেছেন নাট্যজগতে অপরিহার্য একজন। জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল সকালে মামুনুর রশীদের ধানমন্ডির বাসায় তাঁর সঙ্গে আড্ডা দেন মনজুর কাদের

মামুনুর রশীদ। ছবি: খালেদ সরকার

মঙ্গলবার বিকেলে কথা হয় মামুনুর রশীদের সঙ্গে, তখনই বাসায় যাওয়ার সময়টি চূড়ান্ত হয়। জানালেন পরদিন সকালে বাসায় যেতে। যথাসময়ে পৌঁছেও যাই। লিফটে চেপে ধানমন্ডি ৯/এ-তে সেই বাড়ির কলিং বেল চাপতেই ভেতর থেকে একজন দরজা খুলে দিলেন। লুঙ্গি আর স্যান্ডো গেঞ্জি পরা মামুনুর রশীদ সোফায় বসে পত্রিকা পড়ছিলেন। ছড়িয়ে আছে আরও তিনটি পত্রিকা। আজ তাঁর জন্মদিন। তাই জন্মদিনের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে আড্ডার শুরুতেই বললেন, ‘চার বছর পর জন্মদিন আসে। বন্ধু-শুভাকাঙ্ক্ষীরা অপেক্ষা করেন। কখনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। চার বছর পর যেহেতু, সবাই অনেক বেশি আনন্দ–উচ্ছ্বাস করে। মনে হয়, চার বছরের সেই গ্যাপটা পুষিয়ে দেয়। ৭৬ বছরের আমি ১৯ বছরের, মনে হয়, বয়সটাও আটকে আছে। এটা এ রকম আনন্দও দেয়।’

কথা প্রসঙ্গে মামুনুর রশীদ জানালেন, খুব সকালে ঘুম ভাঙে তাঁর। এরপর লেখালেখি ও পড়ার রুমে চলে যান। কখনো কখনো লেখা আসেও না। তারপরও বসে থাকেন। সেই ঘরের বারান্দায় সূর্যের আলো আসা দেখেন। বারান্দায় গাছ আছে, পাশের একটা খালি জায়গায় ছোট্ট একটা সবুজের বাগান আছে। গাছের পাতায় সূর্যের আলো পড়ার দৃশ্য ভালো লাগে।

আরও পড়ুন

অভিনয়শিল্পী মামুনুর রশীদ লেখালেখিও করেন। নাটক লেখার বাইরে সমসাময়িক নানান ইস্যুতে তাঁর লেখনী অব্যাহত থাকে। তবে অভিনয়ে পাঁচ দশক পার করে দেওয়া এই মানুষটি কোনো দিন অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেবেন ভাবেননি। পোস্টমাস্টার বাবা হারুনুর রশীদ খান কোনো দিন চাননি ছেলে অভিনয়কে বেছে নিক। মা রোকেয়া খানমের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকলেও না করতেন না। বাবাকে নিয়ে গর্ব বোধ করতেন। কারণ হিসেবে জানালেন, বাবার সততা এবং খুব দায়িত্বপূর্ণ কাজ। এখনো যেখানেই যান, পোস্ট অফিসে গিয়ে পরিচয় দেন, তিনি একজন পোস্টমাস্টারের সন্তান।

বাবার চাকরিসূত্রে দেশের নানা জায়গায় গেছেন। পড়াশোনার শুরুটা করেন ময়মনসিংহের ফুলপুরে। এরপর টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে এসএসসি পাস করেন। তবে স্কুলজীবনে অভিনয় করতেন। অভিনয়ের নেশা তখনই তৈরি হয়। কথা প্রসঙ্গে সেই সময়ের কথা মনে করে মামুনুর রশীদ বললেন, ‘স্কুলে টুকটাক নাটকে অভিনয় করলেও ঢাকায় এসে তা বাড়ে। ঢাকায় এসে শুরুতে কৃষি কলেজ, এরপর ঢাকা কলেজে ভর্তি হই। কেন জানি ঢাকায় এসে লেখাপড়ায় গোলমাল লেগে যায়। এরপর বন্ধুদের মাধ্যমে একসময় ভর্তি হই ঢাকা পলিটেকনিকে ভর্তি হন। সেখানে নাটকের চর্চা হতো। নাটকের সঙ্গে যুক্ত অনেকের সঙ্গে পরিচয় হয়। ইলেকট্রনিকস ডিপার্টমেন্টে স্টুডিও সেটআপও ছিল। এটা ১৯৬৭ সালের ঘটনা।’

পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে পড়ার সময়ই মামুনুর রশীদ প্রথম নাটক লেখেন, নাম মহানগরীতে একদিন। কথায়–কথায় জানালেন, ওই সময় প্রভাবিত হতেন আকাশবাণী শুনে। অভিনয় পেশা হবে, এমনটা কোনো দিন ভাবেননি। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভাবলেন, অভিনয়টাই জীবিকা হবে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র, কলকাতায় যাওয়ার পর দেখলেন, তখন সেখানকার অনেকেই পুরোদস্তুর নাটক করেন। অভিনয় করেন। মামুনুর রশীদ বললেন, ‘অনেক লেখককেও দেখেছি, একটাই কাজ করছে।

মামুনুর রশীদ। ছবি: খালেদ সরকার

আত্মবিশ্বাসটা তখন পেলাম। তবে নির্দিষ্ট কারও কাছে নয়, অনেক লোকের দ্বারা প্রভাবিত হতাম। অনেক ধরনের বই পড়ে প্রভাবিত হতাম। জ্ঞান চারদিক থেকে আহরণের চেষ্টা করতাম। ভিন্ন ভিন্ন মানুষ ভিন্ন ভিন্নভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তবে এর মধ্যে চিন্তা ও চেতনায় বিশেষভাবে ঢুকে গিয়েছিল উৎপল দত্ত। আমাদের সময়েও অভিনয়টা পার্টটাইম জবের মতো ছিল। তবে আমি তা মানতাম না। এটা ফুলটাইম কীভাবে করা যায়, সেই চেষ্টা করতাম। টেলিভিশনে, চলচ্চিত্রে কাজ করে কোনোরকমে জীবিকা অর্জন করে চলতে হতো। আমার আরও প্রেরণার জায়গায় আছে অগাস্টো বোয়াল, পাওলো ফ্রেইরিসহ আরও নানাজন। এমনকি গ্রামের কোনো শিক্ষক, কোনো কৃষক, সে–ও অনুপ্রাণিত করেছে। তাদের যে জীবনসংগ্রাম, তা দেখে মাথা নত হয়ে গেছে।’

মুক্তনাটক করতে গিয়ে
স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের মঞ্চ আন্দোলনের পথিকৃৎ মামুনুর রশীদ। শ্রেণিসংগ্রাম, ক্ষুদ্র জাতিসত্তার অধিকার আদায়ের নানা আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক ইস্যু নিয়ে নাটক লিখে ও নির্দেশনা দিয়ে বাংলাদেশের নাট্যজগতে মামুনুর রশীদ হয়ে উঠেছেন অপরিহার্য একজন। এই নাট্যজন সত্তরের দশকের শেষে মুক্তনাটকের চর্চা শুরু করেন। কাজটি করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটেছিলেন।

আরণ্যক প্রযোজিত ‘চে’র সাইকেল’ নাটকে চঞ্চল চৌধুরী ও মামুনুর রশীদ। ছবি: সংগৃহীত

বললেন, ‘তখন অনেক গ্রামে যাওয়া হতো। গ্রামে গ্রামে গিয়ে কাহিনি সংগ্রহ করতাম। টিমসহ যেতাম। ওই গ্রামেরই হয়তো কোনো স্কুলঘরে, নয়তো কারও বাড়িতে থাকতাম। একটা গল্প থাকত, এরপর তাদের নিয়ে একটা পাণ্ডুলিপি তৈরি করে আধঘণ্টা, এক ঘণ্টার নাটক তৈরি করতাম। ওই সময়ে সব প্রতিভাবান অভিনেতাকে দেখেছি, যাদের কোনো প্রশিক্ষণ নেই। কিন্তু চমৎকার অভিনয় করে, চমৎকার গান করে। এ রকম লোক যেমন দেখেছি, তেমনি আবার গ্রামাঞ্চলে টাউট–বাটপারও দেখেছি। আবার গ্রামে এমন শিক্ষক দেখেছি, যাদের টাকা নেই কিন্তু উচ্চ মূল্যবোধ আছে। ওই সময়ে রুশ উপন্যাস আমাদের মূল্যবোধ তৈরি অনেক সহায়তা করেছে। নিকোলাই অস্ত্রোভস্কির ইস্পাত পড়ে শিহরণ হতো। তরুণেরা আস্তে আস্তে কীভাবে বিপ্লবী হয়ে উঠল। এটাও অনুপ্রাণিত করল।’

নানা স্বপ্নের উঁকিঝুঁকি
অভিনয়ে পাঁচ দশক পার করা মামুনুর রশীদ ছোটবেলায় অনেক কিছু হতে চেয়েছিলেন। পরিবারও তাঁকে একেক সময় একেকভাবে দেখতে চেয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অভিনয়শিল্পী হয়ে উঠলেন। মামুনুর রশীদ বললেন, ‘প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকের পড়ানো দেখে ছোটবেলায় প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক হতে চেয়েছিলাম। বিএসসি স্যারের তখন খুব গুরুত্ব, হেডমাস্টারের চেয়ে বেশি বেতন পায় সে, তখন মনে হতো বিএসসি স্যার হব। এ রকম আস্তে আস্তে সব বদলাতে থাকে। তবে পোস্টমাস্টার বাবা চাইতেন, চাকরি করুক ছেলে। আমলা হোক। বাবা কোনো দিন এই পেশাকে মেনে নেননি। আমার ছেলেকেও বলত, তোমার বাবা তো সারা জীবন কিছুই করল না (হাসি)।’
ছেলের অভিনয় নিয়ে অবহেলাও ছিল বাবার। সেই কথাও জানালেন তিনি। ছিল ভিন্ন গল্পও। সেই গল্পটা এভাবেই বললেন তিনি, ‘শুনতাম, গোপনে নাটকও দেখতেন। টেলিভিশন নাটকও দেখেন। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আমাকে নিয়ে কথাও বলেন।

মামুনুর রশীদ। ছবি: খালেদ সরকার

পত্রপত্রিকায় ছবি ছাপা হলে, তা–ও দেখেন। কিন্তু পারিবারিক পৃষ্ঠপোষকতা যেটা থাকার, সেটা ছিল না।’ বাবার পৃষ্ঠপোষকতা না থাকলেও মায়ের পরিবার ছিল সংস্কৃতিমনা। বিষয়টা এভাবেই তুলে ধরলেন মামুনুর রশীদ। বললেন, ‘মামারা গান গাইত। মা–ও গুনগুন করে গাইত। মায়ের ফুফুও গান গাইত। ফুফা নজরুলসংগীত করতেন। শিল্পের ব্যাপারটা মাতুলালয় থেকে পেয়েছি। তবে আমার দাদাও কিন্তু পুঁথি লিখতেন। আমার দাদা ভীষণ অসাম্প্রদায়িক মানুষ ছিলেন।’

পেছন ফিরে দেখা
কথায়–কথায় মামুনুর রশীদ জানালেন, জীবনের কোনো সময়ে বৈষয়িক দিকটা তাঁকে টানেনি। লোভও ছিল না। বাড়ি, ঘর, সম্পদ, ব্যাংক ব্যালান্স—এসব নিয়ে ভাবেননি। বললেন, ‘সব সময় ভেবেছি, ভালো নাটক করব। তা টেলিভিশন বা মঞ্চে হোক। আর বন্ধুত্বের প্রতি আমার ভীষণ ঝোঁক ছিল। মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতাম। নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতাম। আমার নাটকের একটা দর্শনও আছে, এটা শুধু অবশ্য আমার নয়, পৃথিবীর অনেকের থাকে। মানুষ তো আসলে একটা প্রাণী। প্রত্যেকটা মানুষকে চিন্তাশীল মানুষে বা সৃজনশীল মানুষে পরিণত করা—এই ঝোঁকটা ছিল সব সময় আমার। সেটার একটা মাধ্যম হিসেবে আমার আছে নাটক। নাটক দিয়ে চেষ্টা করতাম মানুষকে কীভাবে চিন্তাশীল করা যায়, এখনো করে যাই। মানুষকে কীভাবে অনেক বেশি কর্মক্ষম করে তোলা যায়। এ ধরনের বড় একটা ভাবনার মধ্যে ছুটে বেড়িয়েছি। মঞ্চনাটক, টেলিভিশন নাটক, পথনাটক, মুক্তনাটক—এসব নাটকের বিভিন্ন মাধ্যম খুঁজে বের করা। সেটার উদ্দেশ্যটা একই, ব্যাপক, বিপুল মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা।’

মামুনুর রশীদ। ছবি: খালেদ সরকার

জানালেন দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা উপলব্ধির কথাও। তিনি বলেন, ‘এতটা পথ পেরিয়ে পেছনে ফিরে যেটা দেখতে পাই, জীবনে খুব একটা বসে থাকতে পারিনি। অলস সময় কাটাইনি। সব সময় চেয়েছি যে কর্মক্ষম থাকতে। যে কারণে ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে টেবিলে বসতাম। এখনো বসি। যে অবস্থায় থাকি না কেন, একটা চেয়ার ও টেবিল লাগবে আমার। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই সরাসরি টেবিলে চলে যাওয়া। লিখি। লেখার চেষ্টা করে যাই।’

জীবন আসলে কী
জীবন তো সব সময় এক রকম চলে না। তারপরও জীবন সব সময় আনন্দময়ই হয়েছে বলে জানালেন মামুনুর রশীদ। বললেন, ‘নানা লড়াই–সংগ্রাম, নিজের ব্যক্তিগত নানান সংকটেও জীবনটা আনন্দময় করার চেষ্টা করেছি। তবে মাঝেমধ্যে হতাশও হয়েছি। যখন দেখি মানুষের সহজ সাধারণ জ্ঞানতৃষ্ণা বাড়ছে না, তখন বেশি হতাশ হই। শিক্ষাব্যবস্থা ঠিকমতো হচ্ছে না। সংস্কৃতিচর্চার নানা রকম প্রতিকূলতা যে দেখি, সেই প্রতিকূল অবস্থাকে পরিবর্তন করা যাচ্ছে না।’

মৃত্যুভাবনা
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমবেশি মানুষের মৃত্যু চিন্তা হয়। তবে মামুনুর রশীদ জানালেন, তিনি মৃত্যু নিয়ে খুব এটা নিয়ে চিন্তিত নন। বললেন, ‘শেক্‌সপিয়ারের একটা কথা সব সময় মনে রাখি—“ডেথ, আ নেসেসারি এন্ড, উইল কাম, হোয়েন ইট উইল কাম।” তাই এটা নিয়ে ভাবার কিছু নেই। এটা অনেককে শোনাইও, যারা খুব মৃত্যুচিন্তা করে।’

মামুনুর রশীদ। ছবি: খালেদ সরকার

মামুনুর রশীদ বললেন, ‘আমি আজকেও মরতে পারি, ১০ বছর পরও মরতে পারি, তাই জীবনটাকে উদ্‌যাপন করা উচিত। তবে সেই আনন্দটা ভোগের আনন্দ নয়। যেমন ভালো বই পড়লে আনন্দ হয়, ভালো সিনেমা দেখলেও আনন্দ হয়। প্রকৃতি যখন দেখি, ভোরবেলায় উঠি, সূর্য উঠছে, আলো এসে পড়ছে, গাছের ওপর সে আলো এসে পড়ছে, ওটাও একটা আনন্দ। বন্ধুর সঙ্গে ভালো মুহূর্ত কাটানোও আনন্দ। স্ত্রী–সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটালাম। একজন অপরিচিতি মানুষের সঙ্গে কাটালাম, সুন্দর সময় কাটল। এ রকম জীবনটা আনন্দময় হওয়া উচিত। ভালোবাসায় পরিপূর্ণ আনন্দময় হওয়া উচিত। আমার জীবনের অধিকাংশ সময় এ রকম আনন্দের মধ্যে কেটেছে।’

আগামীর স্বপ্ন
অভিনয়ে স্বপ্ন দেখানো মামুনুর রশীদ দেশ ও সংস্কৃতি অঙ্গন নিয়ে স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্নের কথাটা এভাবেই বললেন, ‘দেশ নিয়ে আমার স্বপ্ন, গণতান্ত্রিক সৃজনশীল সমাজ গড়ে উঠুক। রাষ্ট্র গণতান্ত্রিক না হলে আমাদের গৃহ গণতান্ত্রিক হবে না, সমাজও হবে না। কিন্তু মুশকিল হয়ে গেছে, গণতন্ত্রের চর্চা এখন নেই। সংস্কৃতি অঙ্গনেরও দুর্দশা চলছে। খাদ্যসংস্কৃতি যেভাবে এগিয়েছে, জ্ঞানচর্চার জন্য যেগুলো প্রয়োজন লাইব্রেরি, অডিটরিয়াম, সিনেমা হল, আর্কাইভ, জাদুঘর, আর্ট গ্যালারি—যে জায়গাগুলো থেকে মানুষ অনুপ্রাণিত হবে, সেগুলোর দুর্বল দশা। যেভাবে বাড়ার কথা ছিল, সেভাবে বাড়েনি। খাবারের দোকান ঠিকই বেড়েছে। আমার তো মনে হয়, বাংলাদেশটা দোকানের দেশে পরিণত হয়েছে। যদিও খাদ্যটাও স্থূল বিনোদন। অনেক মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্ত বাড়িতে দেখেছি—খাবারের টেবিলটা খুব সুন্দর, কিন্তু একটা বইও নেই। বইয়ের তাক নেই। অথচ ষাটের দশকে দেখেছি, বেতের তৈরি হলেও একটা ছোটখাটো বইয়ের তাক ছিল।’