কুন্তী ব্রাহ্মণকে আশ্বস্ত করে বলে যে তাদের পরিবর্তে ভীম যাবে সেই রাক্ষসের কাছে। পরদিন মায়ের আদেশে ভীম রাক্ষসের খাবারদাবার নিয়ে রাক্ষসের বনে গেলেন এবং রাক্ষসকে নাম ধরে ডাকতে লাগলেন। বক রাক্ষস এসে দেখে ভীম বসে বসে রাক্ষসের খাবারগুলো নিজে খেয়ে ফেলছে। এরপর ভীমের সঙ্গে বক রাক্ষসের তুমুল লড়াই হলো। ভীম বক রাক্ষসকে গলা টিপে হত্যা করল।

পৌরাণিক কাহিনি অবলম্বে লীলা মজুমদারের ‘বক বধ’ পালার এই গল্প দারুণভাবে মঞ্চে তুলে এনেছে শিশুদের সাংস্কৃতিক জগৎ ফুলকির শিক্ষার্থীরা। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামের শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘বক বধ’ পালার মঞ্চায়ন হয়ে গেল। পালাটির নির্মাণ ভাবনায় ছিলেন মুবিদুর রহমান সুজাত। পালার গানগুলোর সুরারোপ করেছেন সত্যজিৎ দাশ।

ভীমের চরিত্রে অভিনয় করেছে ফুলকি সহজপাঠ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহ্তাসীম ইসলাম। বক চরিত্রটি চিত্রায়ণ করেছে কনাদ চন্দ ও আযরাহ দীপান্বিতা। ভীমের স্ত্রী হিড়িম্বা চরিত্রে ছিল অগ্নিপ্রভা বৈদ্য। ভীমের ভাইদের চরিত্র রূপায়ণ করেছে শেখ নাফসান ইউসরা, আদিত্য নন্দী, সূর্যদীপ বসু নিয়োগী ও শারদ প্রত্যুষ বল। এ ছাড়া নারদ চরিত্রে অনিরুদ্ধ পাল, ব্রাহ্মণ হয় আধিত্য বড়ুয়া।

এসব শিশুকিশোরদের অভিনয় মুগ্ধ করছে দর্শকদের। বিশেষ করে তাদের ডায়ালগ মুখস্থ বলা এবং অভিনয়শৈলী দুদিনই মিলনায়তন ভরা দর্শকেরা উপভোগ করেছে। প্রদর্শনীর বিনিময়ে হলেও মিলনায়তন উপচে পড়ে দর্শকে। নাট্যপালাটির গান, নৃত্য ও কোরিওগ্রাফিও করেছে শিশুকিশোরেরা। এমনকি ঢোল মৃদঙ্গে তালও তুলেছে তারা।
পালাটির অন্যান্য কুশীলবেরা হলো অর্চি অনিন্দিতা, স্বস্তিক দাশ, পৃথুলা বণিক, আরিয়ানা হক, চিত্রাঙ্গদা দত্ত, চিত্রশৈলী দত্ত, জুবিয়া রহমান, রোহান রাজ, পার্থিব প্রাজ্ঞ, রেহনুমা তাসনীম, লুবাবা ইলমিয়াত, স্বপ্নীল চৌধুরী, জয়ন্ত ঘোষ, ত্বাহা হামিদ, রাজন্য বড়ুয়া, তনুশ্রী বড়ুয়া, রাজন্য দাশ ও সুরঞ্জনা তলাপাত্র।