নাচে গানে ভরপুর 'গহর বাদশা ও বানেছা পরি'

গহর বাদশা ও বানেছা পরী নাটকের একটি দৃশ্য
গহর বাদশা ও বানেছা পরী নাটকের একটি দৃশ্য

ঢাকার মঞ্চে গতকাল সন্ধ্যায় দেখা মিলল আরেকটি নতুন নাটকের। নাগরিক নাট্যঙ্গন মঞ্চে নিয়ে এল নতুন নাটক ‘গহর বাদশা ও বানেছা পরী’। লোকজ গল্প নিয়ে ঢাকার মঞ্চে এর আগে আরও অনেক নাটক এলেও নাগরিক নাট্যাঙ্গনের কর্মীদের কাছে এ অভিজ্ঞতা প্রথম।

নাগরিক নাট্যঙ্গন দুই দশকের নাট্যচর্চায় মৌলিক নাটকসহ ১৯টি নাটক মঞ্চে এনেছে। এ তালিকায় রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে রূপান্তর, ট্র্যাজেডি, কমেডি, মুক্তিযুদ্ধের নাটকসহ অনেক নাটকই আছে। বাকি ছিল লোকগাথা। কাল সন্ধ্যায় এই শূন্যতা পূরণ হলো। দলটির নতুন নাটক ‘গহর বাদশা ও বানেছা পরী’র উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হয়েছে মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। এটি দলের ২০তম প্রযোজনা।
শিল্পকলা একাডেমির মূল মিলনায়তনে ‘গহর বাদশা ও বানেছা পরী’ নাটকের প্রথম প্রদর্শনীটি দর্শক পূর্ণ ছিল। নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন হৃদি হক।
নতুন নাটকের প্রদর্শনীতে রীতিমতো উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে। দুপুরের পর থেকে সেখানে আসতে থাকেন দলের নবীন প্রবীণ সদস্যরা। সন্ধ্যা নাগাদ মিলনায়তনও ভরে যায়। শুরুতে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় লোকজ কাহিনি নিয়ে নাটক প্রযোজনায় অভিনন্দন জানান বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।
নাটকটির নির্দেশক হৃদি হক দর্শকদের ধারণা দিলেন, লোকগাথাটির পুনঃকথন করা হয়েছে। মানুষের খুব গভীরে যেতে চাই বলেই লোকগাথাকে বেছে নিয়েছে নাগরিক নাট্যঙ্গন। নাটক শুরুর পর দেখা গেল নির্দেশক নিজে বানেছা পরির চরিত্রে অভিনয় করছেন। দর্শকদের কাছে সেটা প্রশংসিত হয়েছে।

গহর বাদশা ও বানেছা পরী নাটকের একটি দৃশ্য
গহর বাদশা ও বানেছা পরী নাটকের একটি দৃশ্য

দলের সভাপতি ইনামুল হক জানালেন, এই প্রযোজনায় দলের ৬০ জন নাট্যকর্মী কাজ করেছে। লোকজধারা ঠিক রেখে কিছুটা আধুনিকতার মিশেল আছে নাটকে। পোশাকে রঙের চাকচিক্য আছে। ইনামুল হকের ভাষায় ‘গানে নাচে ভরপুর এ নাটক’।
গল্পটি মূল পালার মতোই। গিলামাইট বনে বিশ্বিং বাদশার শিকার করতে যাওয়া দিয়ে গল্পের শুরু। শিকারের একপর্যায়ে হরিণশাবকের দিকে তীর ছোড়েন বাদশা। মানবসন্তানের কান্নায় তিনি বুঝতে পারেন, চরম ভুল হয়ে গেছে। অভিশাপ নিয়ে রাজ্যে ফেরেন তিনি। এর মধ্যে পুত্র সন্তান ঘরে আসে তাঁর। রাজ্যজুড়ে যখন আনন্দের বন্যা, বাদশার মনে সন্তান হারানোর ভয়। মঞ্চ থেকে শোনা যায় গান ‘দিন যায় যায় যায় যায় দিন যায়/বছর ঘুরে গাছের পাতা রং যে বদলায়/রানি কাঁদে রাজা কাঁদে কাঁদে সারা বন/অন্ধকূপে বন্দী হলো গহর সনাতন।’ পুত্রকে প্রাসাদের বাইরে যেতে দেন না রাজা। কিন্তু শত আয়োজনেও বাদশাহ কি আটকে রাখতে পারে তার নিয়তি!

গহর বাদশা ও বানেছা পরী নাটকের একটি দৃশ্য
গহর বাদশা ও বানেছা পরী নাটকের একটি দৃশ্য

বার বছর বয়সে বিশ্বিং যখন বড় ছেলে গহরকে রাজ্যের অধিপতি করে, তখন উজিরের চক্রান্তে গহর আবদার করে গিলামাইট বনে শিকার করতে যাবে। মায়ের আকুতি, স্ত্রী কলাবতীর মিনতি সব এড়িয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী সরাবনকে বাবা ও মায়ের দায়িত্ব দিয়ে গহর যায় শিকারে। গিলামাইট বনে গিয়ে গহর বন্দি হয় বিশ্বিং দানবের হাতে। অবশেষে বহু যুদ্ধ ও সংগ্রামের পর সে বনের বানেছা পরীকে নিয়ে নিজের রাজ্যে ফিরে দেখে রাজ্য উজিরের দখলে। অবশেষে তার বুদ্ধি ও মেধা দিয়ে জয় করে তার রাজ্য। সত্যের জয় অবধারিত, তাই সকল বাঁধা পেরিয়ে গহর পরিশেষে জয় করে বিশ্বিংরাজ্য। জয় হয় প্রেমের, জয় হয় সত্যের, জয় হয় সুন্দরের।
নাটকটির মঞ্চ পরিকল্পনা করেছেন সাজু খাদেম, সংগীত ও আবহ সংগীত—কামরুজ্জামান রনি। আলো পরিকল্পনা—ঠান্ডু রায়হান, কোরিওগ্রাফি—ওয়ার্দা রিহাব, পোষাক পরিকল্পনা মাহমদুল হাসানের।