'গহনযাত্রা'র যাত্রা হবে শুক্রবার

‘গহনযাত্রা’ নাটকের বিশেষ প্রদর্শনীতে শামছি আরা সায়েকা
‘গহনযাত্রা’ নাটকের বিশেষ প্রদর্শনীতে শামছি আরা সায়েকা

শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটারের অন্ধকার মিলনায়তনের একটি জায়গা ভেসে ওঠে দর্শকের সামনে। কারও বুঝতে বাকি রইল না, সে জায়গায় রক্তপাত হয়েছে। নিজের আদর্শ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একদল মানুষ হত্যা করেছে নিরীহ মানুষকে। উগ্রবাদীদের হাতে নিহত রক্তাক্ত মানুষের মুখ পড়ে আছে এদিক-ওদিক। এর মধ্য থেকেই পালিয়ে যায় একটি মেয়ে, তার নাম সালমা।

চোখে ভেসে থাকার দৃশ্যটি নতুন নাটক ‘গহনযাত্রা’র। ১১ জুলাই শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হলো ‘গহনযাত্রা’। রুবাইয়াৎ আহমেদের রচনা ও সুদীপ চক্রবর্তীর নির্দেশনায় পদাতিক নাট্য সংসদের (টিএসসি) নতুন প্রযোজনা ‘গহনযাত্রা’। নাটকে একক অভিনয় করেছেন শামছি আরা সায়েকা।
নাটকের একপর্যায়ে দেখা যায়, ধ্বংসভূমি থেকে সালমা পালিয়ে যায় এমন জায়গায়, যেখানে সে খুঁজে পায় নিসর্গের সৌন্দর্য। তবু খুব একটা মন টেকে না তার। কী যেন টানে! ভেতর থেকে কেউ একজন কথা বলে ওঠে। নিজের সঙ্গে বোঝাপড়ায় একসময় বুঝে নেয় তাকে ফিরতে হবে। ফিরতে হবে সেই জায়গায়, যেখানে অনেকের শেষযাত্রার প্রস্তুতি চলছে।
এভাবে কথা, বর্ণনায় সে বলে যায় বিশ্বের সামগ্রিক অবস্থা। জঙ্গিবাদের উত্থান এবং সামগ্রিক চিত্র বিশ্বরাজনীতির। মানুষের হাহাকার, চোখের সামনে দর্শক দেখতে পায় সাগরের বুক থেকে ভেসে ওঠা আয়লান কুর্দির সেই ছোট্ট দেহটা। সালমা এগোয়। একে একে দেখে পরিচিত ব্যক্তিদের মৃতদেহ—যারা তাকে ভালোবেসেছে একদিন। যাদের স্নেহ-মমতায় তার দিন কেটেছে। ছোট্ট শিশুর লাশ তার দেহে জড়িয়ে রেখে ঘ্রাণ নেয় যেন। প্রতিবেশী এ শিশুটিই তো তার কোলে হেসেছে একদিন! এভাবে এগিয়ে যায় নাটক।
কোরিওগ্রাফি, পোশাক পরিকল্পনা, আলোকসজ্জার কারিগরিতে প্রাণ ফুটে উঠছিল নাটকের পরতে পরতে। এখনো প্রস্তুতিই চলছে বলা চলে। তাই উদ্বোধনী প্রদর্শনীতেই হয়তো বোঝা যাবে আরও কতটা জেগে উঠবে এ নাটক মঞ্চে। নাটকের বুনন হয়তো তখন আরও খানিকটা দৃঢ় আর মজবুত হবে।
আগামীকাল শুক্রবার ১৫ জুলাই একই মঞ্চে যাত্রা অর্থাৎ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে ‘গহনযাত্রা’ নাটকের।