default-image

এই চ্যালেঞ্জিং সফরে সবচেয়ে বেশি কাকে পাশে পেয়েছেন?

অবশ্যই পরিবার। আমার মিউজিকের ম্যানেজমেন্ট আমি করি না। এটা দেখেন আমার বাবা। এটা একটা বড় সাপোর্ট। ডাক্তারি পড়ে গানের ম্যানেজমেন্ট দেখা সম্ভব ছিল না। এগুলো সামলাতে গেলে আমার পক্ষে মেডিকেলে পড়া সম্ভব হতো না। সেই জায়গা থেকে পুরো পাঁচ থেকে ছয় বছর আমাকে কোনো কিছু নিয়ে ভাবতেই হয়নি। আমি শুধু গাইতাম, পড়াশোনা করতাম, খেতাম আর ঘুমাতাম। মানে আমার জীবনের পুরোটাই ছিল খাওয়া, গাওয়া, ঘুম ও পড়া। পরিবারের সাপোর্টের কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। সবকিছু আব্বু–আম্মু দেখেছেন। ভাইয়েরাও সাপোর্ট করেছেন। এমনও হয়েছে যে আমার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা সামনে। কিন্তু এর আগে আমাকে কাজও করতে হবে। তখন সবকিছু তাঁরা ম্যানেজ করেছেন। আমার পড়ার সময়ে আমি পড়ছি। যখন প্রোগ্রাম তখন টুক করে গিয়ে কাজ করে চলে এসেছি। আবার গিয়ে পড়া কন্টিনিউ করেছি। অন্য কোনো চাপ নিতে হয়নি। এরকম ছোট ছোট অনেক গল্প নিয়ে আসলে ওই বছরগুলো কেটেছে। পরিবারের সাপোর্টের কারণেই আসলে দুটো জায়গাতে একসঙ্গে সময় দেওয়ার সাহসটা নিতে পেরেছি।

এখন একক গান বেশি হচ্ছে, অ্যালবাম কম। অ্যালবাম নিয়ে পরিকল্পনা কী?

অ্যালবাম নিয়ে আমার অন্যরকম ইমোশন আছে। এখন আসলে একক গানই বেশি প্রকাশ করি। কিন্তু আমার অ্যালবাম ‘ঐশী এক্সপ্রেস টু’ এবং ‘ঐশী এক্সপ্রেস থ্রি’ আমার ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রকাশ করেছি। ছয়টি গান একটি অ্যালবামের ভেতরে রেখে একটি জুকবক্স হিসেবে দিয়েছি। আলাদা আলাদাভাবে সিঙ্গেল গানও দিচ্ছি। আমার সর্বশেষ অ্যালবাম ‘ভালোবাসা এমনই রোগ’। সেই অ্যালবামের দুটি গান চ্যানেলে প্রকাশ করেছি। অনেক গান রেডি আছে। সেগুলো আমার ‘ঐশী এক্সপ্রেস’ ইউটিউব চ্যানেল থেকে আপলোড করব। সব মিলিয়ে চারটি বা ছয়টি গান নিয়ে একটি অ্যালবাম আকারেই প্রকাশ করার চেষ্টা করছি।

‘আকাশ কিনতে চাই’ বেশি পছন্দ কেন?

সব কটি গানই পছন্দ। শুধু এটার কথা বললে অন্যায় হবে। তবে এটা আলাদাভাবে পছন্দ হওয়ার কারণ আছে। প্রথমত, আমার কাছ থেকে এ ধরনের গান মানুষ কম পেয়েছে। এ গানটার মধ্যে একটি গভীরতা আছে। সুরের মধ্যে অন্যরকম দোলা কাজ করে। আসলে এই গানটা গাইতে আমি খুবই পছন্দ করি, এ কারণেও হয়তো আমার এ গানের প্রতি একটু দুর্বলতা বেশি। মনের অজান্তেও একটু গুনগুন করে গেয়ে ফেলি গানটা।

default-image

প্লেব্যাকের জন্য গত বছর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন, প্লেব্যাকের খবর কী?

গত বছর পেয়েছিলাম ২০১৯ সালের পুরস্কার। এরপরে বেশ কয়েকটি সিনেমায় গান করেছি। মুক্তি ছবিতে গেয়েছি। ‘গাঙকুমারী’তে একটা নৌকাবাইচের গান করেছি। ওটা একটি বিশেষ কাজ। কারণ, আমরা তরুণ প্রজন্ম লেজেন্ডদের সঙ্গে কাজ করতে চাই। মকসুদ জামিল মিন্টুকে আমরা সবাই চিনি। তাঁর সংগীত পরিচালনায় এটা গেয়েছি। নৌকাবাইচের গান তো একটি ভিন্নধর্মী উপস্থাপনা। ‘শান’ সিনেমায় গেয়েছি। ছবির পোস্টার বেরিয়েছে। আশা করি গানও শুনতে পাবেন।

গানের সঙ্গে কত দিন?

শেখা শুরু করেছি চার বছর বয়সে। তখন থেকেই অ্যাক্টিভলি মিউজিকের পথচলা শুরু। যদিও একাডেমিকভাবে প্রথম স্টেজে উঠেছি ক্লাস ওয়ানে পড়ার সময়। আর কমার্শিয়াল স্টেজে ওঠা শুরু হয় ২০০৬ সালের দিকে। মানে আমি তখন ক্লাস ফোরে পড়ি। তখন থেকে স্টেজে যাওয়ার কারণে স্টেজ আমার কাছে ঘরবাড়ির মতো হয়ে গেছে। আমার সবচেয়ে কমফোর্টেবল জায়গা স্টেজ। সেখানে গেলে আমি অন্য এক ঐশী হয়ে যাই। এমনও হয়েছে যে আমি কোনো একটা অনুষ্ঠানে গেলাম, এক পাশে চুপ করে বসে আছি। কেউ আন্দাজও করছেন না যে এ মেয়েটি কে? যখন স্টেজে উঠলাম, সবাই চোখ বড় করে ফেললেন। বললেন, এই চুপচাপ মেয়েটা গান গাচ্ছে? মাঝেমধে৵ স্টেজ থেকে নামার পরে এত ভিড় হয়েছে যে পালিয়ে আসতে হয়েছে। আমি কখনো এটাকে বিড়ম্বনা মনে করি না। এগুলো এত এনজয় করি। প্রত্যেকবার আমি ইমোশনাল হই। আসলে এই ছোট ছোট ঘটনা দিয়েই আমি অনুপ্রাণিত হই। এই ভালোবাসাগুলো যেন আমি ধরে রাখতে পারি। যেন সামনে আরও ভালো করতে পারি।

তাহলে আপনার গান শোনার অন্যতম জায়গা হয়ে উঠছে আপনার ইউটিউব চ্যানেল?

হ্যাঁ, খুব সহজ কথায় এটা বলা যায়। বিশ্বজুড়ে এখন আর্টিস্টরা তাঁদের ইউটিউব চ্যানেলে গান দিচ্ছেন। কোনো কোম্পানি স্পন্সর করলেও চ্যানেলটা কিন্তু ওই আর্টিস্টেরই থাকছে। কোনো কোম্পানির চ্যানেল থেকে আসছে না। সেই ট্র্যাডিশন আমাদের এখানে ওভাবে শুরু হয়নি। আমরা তাই নিজেরাই নিজেদের প্রডাকশন তৈরি করে আমাদের চ্যানেলগুলোতে দিচ্ছি। আমিও সেটা করার চেষ্টা করছি। রিসেন্টলি অনেক গান চ্যানেলে দিয়েছি। তার মধ্যে কিছু আছে সচরাচর বিভিন্ন জায়গায় গেয়ে থাকি। এ ছাড়া নতুন গানও দিচ্ছি। আমার চ্যানেল থেকে সর্বশেষ গানের তালিকাগুলো একটু বলি, ‘ভালোবাসা এমনই রোগ’ অ্যালবাম থেকে দুটি গান—‘ঘোমটা পরা ড্যান্স’ ও ‘ভালোবাসা এমনই রোগ’। আগের অ্যালবামগুলোর ‘আমার মন জানে’, ‘তোমায় ছাড়া ভাল্লাগে না’, ‘আড়ালে চল না’, ‘খুঁজে ফিরি তাই’, ‘আকাশ কিনতে চাই’, এটা আমার খুবই পছন্দের একটা ট্র্যাক। ‘ভাবনার জ্বালাতন’, ‘ভালো মন্দবাসি’, ‘একমুঠো রোদ্দুর’, ‘উপহার’ ও ‘প্রাণভোমরা’।

আলাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন