বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

‘লেডিজ অ্যান্ড জেন্টেলম্যান’–এ অভিনয় করে আনন্দের কথা বলছিলেন।

ফারুকী এমন একটা চরিত্রের কথা বলল, যে চরিত্র আমি কোনোকালে করিনি। বাংলাদেশ টেলিভিশন যখন ছিল, তখন কোনো চরিত্র করে যে আনন্দ পাওয়ার ব্যাপার ছিল, উপভোগ করা ব্যাপার ছিল, প্রতিটি দিন অভিনয় করার সময় উত্তেজনা বোধ করতাম, ‘লেডিজ অ্যান্ড জেন্টেলম্যান’ করার সময় সেটা ছিল। তার মানে, একটা ভালো কনটেন্ট একজন অভিনেতাকে কিন্তু পুনরুজ্জীবিত করতে পারে। নট দ্যাট যে আমি প্রতিদিন একটা করে নাটকে অভিনয় করছি, ওটার চেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে নতুন একটা চরিত্রে নিজেকে এক্সপ্লোর করা। এটা করার পর মানুষ যখন দেখেছে, দেখার পরে যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, তা খুবই আনন্দিত হওয়ার মতো ঘটনা। অভিনয়ের তাগিদটা ভেতরে কিন্তু তখন তৈরি হয়। সেই তাগিদ আমার ভেতরে আছে। অনেকে এখন বিভিন্ন রকম চরিত্রে অভিনয়ের কথা বলছে। যেহেতু এখন সময় বদলে গেছে, নতুন ছেলেমেয়েরা আসছে, তাদের চিন্তাভাবনাও বদলে গেছে, অনেকেই শেয়ার করছে নানা ধরনের গল্প, যেগুলোর কোনোটা হয়তো আমি সামনে করব। তার মধ্যে একটা করেছি বাসার জার্জিসের ‘মর্নিং কফি’।

default-image

‘লেডিজ অ্যান্ড জেন্টেলম্যান’–এ আপনার চরিত্রটি নেতিবাচক। দর্শকের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

ফারুকীর গল্পটা যখন পড়ি, স্ক্রিপ্টটা আমাকে দেওয়া হয়। আমার মোটেও সংশয় হয়নি যে এটা আমি করব কি না। কারণ, আমি ফারুকীর ছবি দেখি। সে চরিত্রগুলো হ্যান্ডল করে রক্ত–মাংসের মানুষটাকে বাদ দিয়ে নয়। শুধু একটা চরিত্রের ক্রিয়া-প্রক্রিয়া দেখায় তা–ই না, একটা হিউম্যান ক্যারেক্টারও থাকে। সুতরাং ওটা নিয়ে আমার সংশয় ছিল না। বরং আমি অনেক আনন্দবোধ করেছি। প্রতিদিন কাজ করার সময় একধরনের উত্তেজনা পেয়েছি। দর্শকের অধিকাংশই চমৎকৃত হয়েছে, কখনো ভাবেইনি যে আমি এ রকম একটা চরিত্রে অভিনয় করব। এখানে হয়তো একজন পরিচালক আমাকে চেয়েছে। সে চেয়েছে এই চরিত্রে এমন একজনকে অভিনয় করাবে, তার সম্পর্কে কারও যেন পূর্বধারণা না থাকে। এটা উপভোগের দিক থেকে আলাদা একটা স্বাদ দেয় বলে আমার মনে হয়। এটা ঠিক যে যাঁরা আমাকে টেলিভিশনে দেখেছেন, তাঁরা তো একধরনের ধারণা নিয়ে রেখেছেন, তবে মঞ্চে তো আমি বিচিত্র ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছি। একটা মঞ্চনাটকে ১৫ থেকে ২০টি চরিত্র থাকে, কমবেশি প্রতিটি চরিত্রের আলাদা একটা ডাইমেনশন থাকে। এই বিষয়গুলো আমি আগে মঞ্চে করেছি, টেলিভিশনে করা হয়নি, তাই করেও ভালো লেগেছে।

মঞ্চের কথা বলছিলেন, আপনি কি সর্বশেষ ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’তে অভিনয় করেছিলেন?

না, ‘কেরামতমঙ্গল’।

তাও তো অনেক বছর?

একদম তাই, ২৩ থেকে ২৪ বছর হবে।

default-image

তার মানে লম্বা সময় পর আপনাকে মঞ্চের অভিনয়ে পেতে যাচ্ছেন দর্শক।

একদম তাই। মাসুম রেজার লেখা ‘পেন্ডুলাম’ ডিরেকশন দিচ্ছেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ। দুটি দল একসঙ্গে প্রযোজনা করছে, দেশ নাটক ও ঢাকা থিয়েটার।

এত বছর পর ফেরার ভাবনাটা...

ফেরা কথাটা ঠিক না। আমি মঞ্চের সঙ্গেই ছিলাম।

কিন্তু সে তো নেপথ্যে।

ঠিক, নানাভাবে মঞ্চের নেপথ্যে ছিলাম। তবে মঞ্চে নাটকে অভিনয় করার জন্য সময় দরকার হয়। ‘পেন্ডুলাম’ নাটকের স্ক্রিপ্টটা কিন্তু কোভিডের আগে লেখা হয়েছে, পড়েছিও তখন। ভাবনাচিন্তাও ছিল। একটা পরীক্ষামূলক প্রযোজনা দেশের বাইরে কিন্তু করে এসেছি।

default-image

সেই নাটকে আপনার সঙ্গে অপি করিমও ছিলেন?

একদম ঠিক বলেছ। এটা করারও কারণ ছিল—মানসিক প্রস্তুতিটা সেরে নেওয়া। যে মঞ্চে আমি লম্বা সময় ধরে নেই, সেই মঞ্চে ওঠার ভাবনাটা আবার তৈরি হয়েছে, নিয়মিত থিয়েটার দর্শক নন কিন্তু থিয়েটার দেখতে এসেছেন, এমন মানুষের সামনে একটা অভিনয় প্রস্তুতি নিয়ে গেলাম এবং করলাম। সেটা খুবই অ্যাপ্রিশিয়েটেড হয়। সেটাও একধরনের আত্মবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে। দেশে ফেরার পর আমরা কোভিডে পড়ে গেলাম, সেটা একদিক দিয়ে নাটকের জন্য খুব উপকার হয়েছে। লম্বা সময় ধরে আমরা জুমে রিহার্সাল করেছি। নাটকের সিংহভাগ সংলাপ বলতে গেলে আমারই। পুরো নাটক আমাকে মুখস্থ করতে হয়েছে। ওই মুখস্থের ব্যাপারটা ঘরে থাকার কারণে চমৎকারভাবে সম্ভব হয়েছে। এখন আমরা দিন দশেক সামনাসামনি রিহার্সাল করছি।

তাহলে মঞ্চে আপনাকে কবে দেখতে পাবেন দর্শক?

পরিকল্পনা করা হচ্ছে ডিসেম্বর মাসের শেষে।

default-image

মঞ্চে কি নিয়মিত হবেন?

একটাতে যখন অভিনয় করা শুরু করেছি, তখন নিঃসন্দেহে নিয়মিত করব বলেই শুরু করেছি।

কোভিডের আগে শুনেছিলাম ‘মানিকের লাল কাঁকড়া’ নামে একটি চলচ্চিত্রের শুটিং করেছিলেন।

৯০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। লোকেশননির্ভর দু-একটা কাজ বাকি আছে, সেই লোকেশন খুঁজছি।

মূলধারার চলচ্চিত্র বানানোর ইচ্ছা আছে?

সেটা তো বহুকাল ধরে আছে। এখন আর বলতেও চাই না। ওই ধরনের ছবির ক্ষেত্রে যদি নির্দিষ্ট সময় বের করতে না পারি, এ কাজ করব বলে সিদ্ধান্ত নিতে না পারি, তাহলে তো আর বলে লাভ নেই। তবে ২০২২ সালে সেই ছবি করতে চাই।

অনেকে আবার এমনও বলছে, মঞ্চ, টেলিভিশন নাটক, ওয়েব সিরিজ, চলচ্চিত্র নির্মাণ—সব মিলিয়ে আপনি এখন বেশ সরব।

সরব–নীরব তো আর সব সময় নিজের ওপর নির্ভর করে না। এক হচ্ছে—আমি অভিনয় করতে চাই, অভিনয় করতে চাই বলে তো বাজারে চিৎকার করতে পারি না। দুই হচ্ছে, আমি ১৯৭৫ সাল থেকে অভিনয় শুরু করেছি। এখন ২০২১ সাল। যদি ৪৬ বছর সম্মানের সঙ্গে একটা ক্ষেত্রে কাজ করে থাকি, তাহলে আমার নিজেরও দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে সে সম্মানকে টিকিয়ে রাখার জন্য যে ধরনের কাজ করা দরকার, সে ধরনের কাজের সঙ্গে কেবল সম্পৃক্ত হওয়া, তা না হলে নয়। আমি অপেক্ষা করি, কিন্তু অপেক্ষায় আমাদের দেশে খুব একটা লাভ হয় না। বাংলাদেশ টেলিভিশন ছাড়া দীর্ঘ ২০ বছরে হয়তো আমি ৪ থেকে ৫টি ভালো নাটকে অভিনয় করতে পেরেছি। এটা তো দুঃখজনক। দীর্ঘদিন পর উল্লেখযোগ্য ফারুকীর ‘লেডিজ অ্যান্ড জেন্টেলম্যান’ কাজটা করলাম। এ কাজ করেছি বলেই বোধ হয় তরুণ নির্মাতারা যারা আছে, তারা ভাবছে, তিনি কাজ করবেন বা করছেন। তাতে একধরনের সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে, তাতে হয়তো কেউ কেউ মনে করছেন যে সরব হচ্ছেন।

default-image

টেলিভিশনে অনেক স্মরণীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যেগুলোর মধ্যে অনেক নাটক এ প্রজন্ম দেখেনি বা জানেও না। সেখান থেকে যদি আপনাকে কোনো একটা চরিত্র রিমেক করতে বলা হয়, কোনটি নেবেন?

অনেকে অনেক চরিত্র কিন্তু আমাকে রিমেক করতে বলেছে, এটা আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই না। এ কারণে চাই না, যেসব নাটকের কথা বলা হয়, সেগুলো কিন্তু একটা সময়ের। সেই সময়ের অনুভব, আবেগ, যাঁদের জন্য নাটক, সেই দর্শকও কিন্তু আলাদা ছিলেন। এখন আমি যদি বিবেচনা করি, সেসব গল্প পুনর্নির্মাণ করে আমি না হয় অন্য কেউ অভিনয় করুক, আমি মনে করি না যে একই রকম আবেদন থাকবে। এর চেয়ে না করাটাই ভালো।

default-image

সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনচিত্র ‘নিরাপদ স্কুলে ফিরি’–তে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?

আমার পেশা হচ্ছে বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণ। কিন্তু আমি সব সময় আনন্দবোধ করি, সামাজিক দায়িত্ববোধ পালন করা যায়—এমন বিজ্ঞাপনচিত্র বানাতে; এমনকি একটা পণ্যের মধ্যেও কোনো না কোনোভাবে একটা বার্তা দিতে। পণ্যটি ব্যবহার করা ছাড়াও ওর মধ্যে নির্মাতার একটা সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রতিফলন যেন থাকে; আমি সব সময় এটা করে এসেছি। করে আসার নেপথ্যের কারণ হচ্ছে, আমি যেহেতু থিয়েটার করি, টেলিভিশনে আলাদা ধরনের একটা পরিচিতি আছে, ওসব পরিচয় উড়িয়ে দিয়ে শুধু বিজ্ঞাপন আর বিজ্ঞাপন—এ ধরনের কাজ কিন্তু আমি করি না। ‘নিরাপদ স্কুলে ফিরি’ আমার জন্য আরেকটা নতুন চ্যালেঞ্জ ছিল। এ বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য শিশুদের স্কুলে ফেরার ব্যাপারে সচেতন করা। আমি নিজেও একজন অভিভাবক। এটা আমার কাছে শুধু বাণিজ্যিক কাজ নয়, এ কাজের মধ্য দিয়ে আমার যে অভিভাবক মন আছে, সেটারও একটা দায়িত্ব পালন করেছি। এ সময়টায় অনেকে সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে ভয় পান। ভয়ের বিষয়টা আমাদের মধ্যে রাখলে তো চলবে না। জীবনকে প্রবাহিত হতে দিতে হবে। সেই আনন্দ ও বিশ্বাস যেন তৈরি হয়, সেভাবে কাজটা করতে পারার সুযোগটা পেয়েছি—এটা আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের।

আলাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন