অভিযোগ খণ্ডন করার জন্য সকাল ৬টায় সেলফি দিই
আজ রাত ৮টা ২০ মিনিটে এনটিভিতে প্রচারিত হবে ধারাবাহিক নাটক ‘জয়েন্ট ফ্যামিলি’। এটি পরিচালনা করেছেন রাফাত মজুমদার। নাটকে মূল ভূমিকায় অভিনয় করছেন তৌসিফ মাহবুব। দীর্ঘদিন পরে ধারাবাহিকে ফেরা, প্রথমবার চিত্রনায়িকা মৌসুমীর সঙ্গে অভিনয়, ৯ বছরের ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে সম্প্রতি তাঁর সঙ্গে কথা হয়।
প্রশ্ন :
বেশ কিছুদিন আগে দেখলাম চিত্রনায়িকা মৌসুমীর সঙ্গে...
আমি শৈশব থেকেই মৌসুমী আপুর ভক্ত। কারণ, তাঁকে স্ক্রিনে অনেক সুইট লাগত। মনে হয়েছিল, সামনাসামনিও তিনি সুইট হবেন। কিন্তু অবাক করা বিষয়, মৌসুমী আপু খুবই সুইট। তাঁর মনটাও সুন্দর। তিনি এত বড় সুপারস্টার অথচ তাঁর মধ্যে কোনো অহংকার নেই। তিনি সবার সঙ্গে মিশছেন।
প্রশ্ন :
শুটিংয়ের বাইরে মৌসুমীর কোন বিষয়টি ভালো লেগেছে?
মৌসুমী আপু আমাকে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। বলেছেন, সব কাজই করতে হবে। যেটা আমি পছন্দ করি সেটা, আর যেটা পছন্দ করি না কিন্তু দর্শক পছন্দ করবেন, সেটাও। হিট বা জনপ্রিয় হবে ভেবে কাজ করা যাবে না। এক সেকেন্ডের ফ্রেমও গুরুত্বপূর্ণ—সব সময় নিজের সেরাটি দিয়ে অভিনয় করতে হবে। কোনো কাজকেই ছোট করে দেখা যাবে না। মৌসুমী আপুর কথাগুলো আমার কাছে অসাধারণ মনে হয়েছে।
প্রশ্ন :
অভিনয় ক্যারিয়ার ৯ বছরে পড়ল, পেছনে তাকালে কী মনে হয়?
আমি ক্যারিয়ারের মাঝপথে আছি। এখান থেকে ফিরে গেলে পুরোটাই বাদ। আবার এগিয়ে গেলে পুরো রাস্তাই দেখতে পারব। আমার কাছে মনে হয়, ক্যারিয়ারে ৪৯ ভাগে এসে পৌঁছালাম। বাকি সময়টা আমি নিজের মতো করে এগোতে চাই।
প্রশ্ন :
সহকর্মীরা সুনাম নাকি বদনাম বেশি করেন?
আমার নামে সুনাম, বদনাম দুটিই আছে। সুনাম, তৌসিফ ভালো ছেলে। যেটা মন খারাপ করে দেয়—তৌসিফের ঘুম বেশি, বিড়ালের মতো ঘুমায়। এটা নিয়ে আমি খুবই বিরক্ত।
প্রশ্ন :
আসলেই কি আপনার ঘুম বেশি?
হ্যাঁ, একটু ঘুম বেশি। আমি শুটিংয়ে পাঁচ মিনিট সময় পেলেই ঘুমিয়ে পড়ি। কল্পনাতেও ঘুমাই। আমি দাঁড়িয়েই ঘুমিয়ে পড়ি। যে যা-ই বলুক, এটা আমার ক্রেডিট।
প্রশ্ন :
বেশ কিছুদিন ধরে দেখছি, আপনি সকালে ফেসবুকে সেলফি দিচ্ছেন?
আমি ঘুমাই, সে অভিযোগ খণ্ডন করার জন্য সকাল ছয়টায় সেলফি দিই। তোমরা দেখো, আমি সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠি (হাসি)।
প্রশ্ন :
শোনা যায়, শুধু পরিচিত নির্মাতাদের শিডিউল দেন।
শিডিউলের জন্য প্রতিদিন গড়ে ১৫ জন নির্মাতা ফোন করেন। সবার সঙ্গে তো কাজ করা সম্ভব নয়। আর বিভিন্ন কারণে এটা সত্য, পরিচিত নির্মাতাদের শিডিউল দিই। কারণ, এটা আমার ক্যারিয়ার। এটা দিয়ে ভালো কিছু করতে পারলেই আমি পরিবার নিয়ে খেয়েপরে বাঁচতে পারব। সেই জায়গা থেকে যাঁদের ওপর ভরসা করতে পারি, তাঁদের সঙ্গে কাজ করি। এটাও সত্য, পরিচিতদের সঙ্গে আমি বেশি কাজ করি। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে দেখা যায়, পাঁচ বছর আগে যে ভুলগুলো দেখে এসেছি, তাঁরা সেই একই ভুল করছেন, যে কারণে কাজটাই নষ্ট হয়। এ ধরনের একই ভুল আমি বারবার দেখতে চাই না। তবে নতুন যাঁরা ভালো কিছু করতে চান, তাঁদের সব সময় স্বাগত।
প্রশ্ন :
কখনো মনে হয়, একই গল্পে অভিনয় করছেন?
এই বছরের শুরুতে এটা মনে হয়েছে। তখন নিজেকেই প্রশ্ন করেছিলাম, কী করলাম? নিজেকে শোধরাতে থাকি। নইলে আমি নাটক থেকে হারিয়ে যাব। টানা ছয় মাস সিনেমা দেখে, বই পড়ে, অভিনয়ের ওপরে অনলাইনে কোর্স করে, ভয়েসটাকে চেঞ্জ করে, হাঁটা, কথা বলা শিখে বেটার অ্যাক্টিংয়ের চেষ্টা করছি। নতুন করে সব শিখতে হয়েছে।
প্রশ্ন :
ওটিটিতে কাজ কম কেন? বলেছিলেন সিনেমায় অভিনয় করবেন?
শুরুর দিকে ওটিটিতে কাজ করেছি। কিন্তু পরে ভালো গল্পের অভাবে করা হয়নি। এর মধ্যে নিজেকে প্রস্তুত করছিলাম। এখন বেশ কটি ওটিটির কাজের ব্যাপারে কথা হচ্ছে। শিগগিরই নতুন খবর দেব। আর একটি সিনেমায় চূড়ান্ত হয়েছিলাম। করোনায় সেটা এখন বন্ধ। আপাতত নাটকের ফ্রেমেই সিনেমার স্বাদ পাচ্ছি। দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো আরকি। এ জন্য সিনেমার সিদ্ধান্ত এক বছর পিছিয়ে দিয়েছি।
প্রশ্ন :
অনেক সময় তৌসিফ সহ-অভিনেতাদের বসিয়ে রেখে বাসায় চলে যান।
এ অভিযোগ সত্য। এর কারণ, ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। সকালে সেটে এসে নিয়ম মেনে শুটিং শুরু করি। নিয়ম রাত ১০টা হলেও শুটিং হাউস রাত ১১টা পর্যন্ত সময় দিয়েছে। সেটা নির্মাতারা রাত ১২টা বা ১টা পর্যন্ত নিয়ে গেলেও মানা যায়, কিন্তু রাত ৩টায় যখন বুঝতে পারি ভোরেও শেষ হবে না, তখন আর পারি না। পরের দিন শুটিং থাকে। আমি তো মেশিন নই, মানুষ। তখন আমি জানিয়েই চলে আসি। সেই নাটকের পারিশ্রমিকও নিই না।
প্রশ্ন :
অভিনয় দেখে আপনার স্ত্রী কী বলেন?
সে আমার সামনেই আছে। ইশারা দিয়ে বলছে, ঠিকমতো সব বলছি কি না। ও আমার কাজের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত থাকে। ঢাকার বাইরে শুটিং হলে ওকে নিয়ে যাই।