default-image
চলচ্চিত্র পরিচালক কাজী হায়াতের অসুস্থতার খবর শুনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছুটে এসেছেন ছেলে অভিনেতা কাজী মারুফ। সেখানে নির্মিতব্য একটি বাংলা সিনেমায় যুক্ত হয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে নিজের ব্যবসা, সিনেমা, অভিনয় ও বাবাকে নিয়ে নানা কথা বলেছেন এই অভিনেতা।

আপনার মা–বাবার সর্বশেষ অবস্থা কী?

মায়ের আবার পরীক্ষা করা হয়েছে। ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। মাকে গত সোমবার বাসায় নেওয়া হয়েছে। তবে শরীর খুব দুর্বল। আব্বা এখনো আইসিইউতে। তবে আগের চেয়ে একটু ভালো। এখন তাঁকে ছয় থেকে আট লিটার অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। সোমবারও ২০ লিটার দেওয়া হয়েছিল। এখন আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে উঠছেন। ডাক্তার বলেছেন, দু–এক দিনের মধ্যে সাধারণ বেডে নেওয়া যাবে।

বিজ্ঞাপন
default-image

তিনি তো তাহলে আশঙ্কামুক্ত?

একেবারে আশঙ্কামুক্ত মনে করছি না। তবে কোভিড-১৯-এর পরের অবস্থা নিয়ে একটু ভয় আছে। কারণ, এই রোগে আক্রান্ত রোগীর করোনা নেগেটিভ এলেও শরীর খুব দুর্বল থাকে। তা ছাড়া আব্বার তো হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিসসহ কয়েকটি সমস্যা আছে। শরীর দুর্বল হলে রক্তের চাপ কমে। শুনেছি, পোস্টকোভিডেও অনেকে মারা গেছে। সেই দিক থেকে একটু চিন্তাও আছে বাবাকে নিয়ে। তা ছাড়া ডাক্তারও বাবাকে নিয়ে ঝুঁকির কথা বলেছেন।

আপনি বাংলাদেশে কবে এসেছেন? গিয়েছিলেন কবে?

১৭ মার্চ ভোরে। আমি ২০১৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকি। এর মধ্যে একবারও বাংলাদেশে আসা হয়নি। এমনিতেই আগামী ৪ এপ্রিল দেশে আসার কথা ছিল। টিকিটও কাটা ছিল। কিন্তু আব্বার অসুস্থতার খবর শুনে আর দেরি করিনি। এক দিনের নোটিশে চলে এসেছি। করোনার মধ্যে আসাটা বেশ কঠিন ছিল। বর্ণালী হাসান নামে এক ডাক্তার এই বিপদের মধ্যে আমাকে সহযোগিতা করেছেন। তিনি আমার করোনা পরীক্ষার ফলটা দ্রুত দিয়েছেন। কারণ, নিউইর্য়ক এখন করোনাভাইরাসের জংশন।

দেশে এসে বাবাকে দেখে কেমন লাগল?

দেখার পর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। ৪ এপ্রিল মাত্র ১০ দিনের জন্য বাংলাদেশে আসতে চেয়েছিলাম। আমার স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়েরও আসার কথা ছিল। আসার আগে ভেবেছিলাম, বাংলাদেশে গিয়ে অন্তত পাঁচ দিন আব্বাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাব। কপাল দেখেন, তিনি এমন রোগে আক্রান্ত হলেন যে আব্বার কাছে যেতে পারছি না, ছুঁতেও পারছি না। তবে তাঁর সঙ্গে কথাবার্তা হচ্ছে। তাঁকে বলেছি, সুস্থ হলে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাব। তিনি যেতে চান না। বলেন, ‘এ দেশ ছেড়ে কোথায় যাব? কোথাও না।’

default-image

বাবার চিকিৎসা নিয়ে আপনার উপলব্ধি কী?

আব্বার এ অবস্থা দেখে এখন মনে হচ্ছে, আমার অনেক টাকা হলে একটা হাসপাতাল করব। সরকার তো অনেক জায়গায় বড় বড় বিনিযোগ করে। আমাদের এই চিকিৎসাব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ালে ভালো ভালো হাসপাতাল তৈরি হবে। দেশ আরও এগিয়ে যেত। আমরা যেমন দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে যাই, চিকিৎসাব্যবস্থা ভালো হলে আমাদের এখানে বিদেশিরাও চিকিৎসা নিতে আসতেন। দেশের আয়ও বাড়ত।

শুনেছি আপনি যুক্তরাষ্ট্রে সিনেমা প্রযোজনা করছেন?

হ্যাঁ, আমার নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ফিল্ম ফ্যাক্টরি থেকে ছবিটি তৈরি হচ্ছে। প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ। ছবির নাম ‘গ্রিন কার্ড’। কোভিড-১৯ নিয়ে এ ছবির কাহিনি। এটি পরিচালনা করছেন রওশন আরা নিপা। বাংলাদেশ থেকে আমার আব্বা সহযোগিতা করছিলেন তাঁকে। ১৯ থেকে ২৪ মার্চ ছবির শেষ ধাপের শুটিং শিডিউল ছিল। কিন্তু অসুস্থতার কারণে আব্বার শুটিং বাতিল করেছি। ছবিটায় আমি, হিল্লোল, নওশীন, নুসরাত, আকাশ রহমানসহ অনেকেই অভিনয় করছেন। ছবিটি অ্যাপে মুক্তি দেওয়ার ইচ্ছা আছে। তবে এর আগে বাংলাদেশে মুক্তির পরিকল্পনা আছে।

আপনি সর্বশেষ ২০১৬ সালে ‘গার্মেন্টস শ্রমিক জিন্দাবাদ’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। এরপর আপনাকে আর সিনেমায় দেখা যায়নি। ঢাকার ছবিতে আর কাজ করবেন না?

ছাড়লাম কবে যে কাজ শুরু করব? আমি তো কখনো বলিনি যে কাজ ছেড়ে দিয়েছি। এখন যুক্তরাষ্ট্রে থাকি। সেখানে দুটি ব্যবসা করছি। ছবি প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত হলাম। এখন তো ঢাকার চলচ্চিত্রে কাজের পরিমাণও কমেছে। বেশি বেশি কাজ শুরু হলে কাজের জন্য ডাকা হলে কাজ করব। তা ছাড়া এখন তো নতুন অনেক ছেলেমেয়ে এসেছেন, তাঁরা কাজ করছেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

আপনার কি সিনেমা পরিচালনার ইচ্ছা আছে?

পরিচালনা এত সহজ কাজ নয়। ছোটবেলা থেকে আব্বাকে দেখেছি, একাধারে গল্পকার, সংলাপ রচয়িতা, পরিচালক হিসেবে। অভিনয়ও করেন তিনি। নায়ক-নায়িকা, এমনকি ভিলেনকেও শুটিংয়ের সময় অভিনয় দেখিয়ে দিতে দেখেছি আব্বাকে। মনে মনে ভাবতাম, একজন মানুষ এতগুলো কাজ একসঙ্গে কীভাবে করেন! আমার কাছে মনে হয়, পরিচালকের পুরো প্যাকেজ আব্বার মধ্যে বিদ্যমান। সব গুণেই গুণান্বিত তিনি। আব্বার মতো করে কাজ করা এখনকার সময়ে অনেক কঠিন। কাজী হায়াতের ছেলে হিসেবে আমার কাজেরও তো ন্যূনতম মান থাকতে হবে। এ জন্য পরিচালনা করতে ভয় লাগে।

এখনকার ঢাকার ছবিগুলো আপনার কেমন লাগে?

আব্বারা শুরুর দিকে যেভাবে কাজ করে গেছেন, সে রকম কাজ তো এখন হচ্ছে না। ফলে চলচ্চিত্রের মানের জায়গাটাও অনেকটাই নিচে নেমে গেছে। আগেকার পরিচালকেরা দর্শকের নার্ভ বুঝতেন। দর্শক কী চান, সেটা মাথায় নিয়েই কাজ করতেন। সমাজ, সামাজিকতা ও মানুষের কথা মাথায় রেখেই বিনোদনমূলক কাজ উপহার দিতেন। এখন দর্শকের নার্ভ নয়, পারিপার্শ্বিকতা নিয়েও তেমনটি ভাবা হচ্ছে না। মাথায় যেটা আসে, সেটাই পর্দায় দেখাতে চান অনেক পরিচালক। আর সেটাই সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সিনেমায়।

যুক্তরাষ্ট্রে আবার ফিরবেন কবে?

কবে যাব এখনো সিদ্ধান্ত নিইনি। আব্বা-আম্মাকে এ অবস্থায় রেখে তাড়াতাড়ি ফেরাও ঠিক হবে না। দেখা যাক কী হয়।

আলাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন