কিন্তু অস্ট্রেলিয়াতেও তো ছবিটা মুক্তি পেয়েছে। দেখেননি?

না, আমি এখনো দেখিনি। অস্ট্রেলিয়ার চার সিটি সিডনি, ব্রিসবেন, ক্যানবেরা ও মেলবোর্নে মুক্তি পেয়েছে। শুনেছি মুক্তির প্রথম দিন শুক্রবার ব্রিসবেনে আগেই টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে গিয়েছিল। এই সপ্তাহেই আমি সিডনির হোয়েটস থিয়েটার হলে ছবিটি দেখব।

এই ছবিতে আপনার চরিত্রটি বাণিজ্যিক ছবির খলনায়কের মতো না।

এই চরিত্র একটি সন্ত্রাসবাদী, জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রধান। ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবিতে আমার চরিত্রটি লাউড ছিল, এখানে তেমন না। এই ছবির চরিত্রটি মানুষের মনের গভীরে ঢুকে যায়, মন নিয়ে খেলা করে। মানুষের মনকে নিয়ন্ত্রণ করে। ঠান্ডা মাথার। ধীর, শান্ত। কিন্তু ভেতরটা ভয়ংকর। চরিত্রটির বডি ল্যাংগুয়েজ, সংলাপ—সবকিছুই আমার অন্য চরিত্র থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

চরিত্রটির জন্য প্রস্তুতি কেমন ছিল?

এই চরিত্রটির জন্য যে পরিমাণ সময় নিতে হয়েছে, অন্য কোনো ছবিতেই অত সময় ব্যয় করিনি। কাজটি আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। ২০১৮ সালে, মানে শুটিং শুরুর এক বছর আগেই, এই চরিত্র নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম। তা ছাড়া একটি বড় কর্মশালাও করেছি। কাজটি শেষ করে চরিত্রটি নিয়ে সেই সময় আমি খুশি ছিলাম। ফল পাচ্ছি এখন।

দেশে ফিরবেন কবে?

এখনই বলতে পারছি না। গেল বছরের ডিসেম্বর মাসে অপটিক্যাল নার্ভের চিকিৎসা নিতে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছি। এখনো চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া যেতে পারব না।

শুনেছি আপনার কারণে ‘গিরগিটি’ ও ‘ওস্তাদ’ নামে দুটি সিনেমার শুটিং আটকে আছে।

‘গিরগিটি’ ছবির কাজ প্রায় ত্রিশ ভাগ শেষ করে এসেছি। পরিচালকের সঙ্গে প্রায় দিনই কথা হয়। ‘ওস্তাদ’ ছবির কাজ খুবই সামান্য বাকি আছে। শুধু তাই–ই নয়, প্রেক্ষাগৃহ, ওটিটির জন্য এখন নতুন নতুন অনেক সিনেমা, ওয়েব ফিল্ম তৈরি হচ্ছে। অনেক সময় দেশ থেকে কাজের প্রস্তাব আসে, কিন্তু করতে পারছি না। এর মধ্যে অঞ্জন দত্তের একটি ওয়েব সিরিজের প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু আমার তো কিছু করার নেই। চিকিৎসা শেষ না করে দেশে ফেরা যাবে না।

সেই ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়বেন না?

আমার কাছে তা মনে হয় না। ‘মিশন এক্সট্রিম’ মুক্তি পেল। সামনে মুক্তির অপেক্ষায় আছে ‘মিশন এক্সট্রিম’-এর দ্বিতীয় কিস্তি, ‘শান’, ‘অপারেশন সুন্দরবন’ ও ‘ক্যাসিনো’ নামে আরও চারটি ছবি। ছবিগুলো মুক্তির মাধ্যমে আগামী এক বছর পর্দায় দর্শকের কাছাকাছি থাকার সুযোগ থাকবে। তত দিনে হয়তো নতুন কাজে ফিরতে পারব।

সংসার কেমন চলছে?

ভালো। প্রায় দুই বছর হয়ে গেল আমাদের বিয়ের বয়স। এখন আমরা সিডনিতে আছি। তবে ওর মা–বাবার কারণে বছরের বেশ কিছু সময় ইতালি ও যুক্তরাজ্যে সফর করতে হয় আমাদের।