বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সিনেমার মাধ্যমে দর্শকের নজর কেড়েছেন আপনি। হঠাৎ দীর্ঘ ধারাবাহিকে যুক্ত হলেন কেন?

করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। তখন ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না যে কী করা উচিত। গত বছর যখন সব কাজ বন্ধ, তখনই পরপর দুটি ধারাবাহিকের প্রস্তাব পাই। একটা এটিএন বাংলায় চলছে, আরেকটা শুরু হলো।

বড় পর্দায় অভিষেকের পর শিল্পীদের ওটিটিমুখী হতে দেখা যায়। আপনি গেলেন টেলিভিশনে...

ওটিটির কাজ করতে গিয়েই তো ভারতে আটকে ছিলাম। সেও নেটফ্লিক্সের কাজ। ইউরোপের আইসল্যান্ডে শুটিং হওয়ার কথা ছিল ছবিটার। ভারতে গিয়েছিলাম ভিসার জন্য। তখন শুনছিলাম করোনা নামে একটা ভাইরাস ছড়িয়েছে চীনে। হঠাৎ কলকাতায় লকডাউন দিয়ে দিল। প্রায় চার মাস আটকে ছিলাম, দেশে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। পরে অনেক কষ্টে বিশেষ অনুমতি নিয়ে সড়কপথে দেশে ফিরলাম। গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত তো ঘরের বাইরেই বের হতে পারিনি। ওই সময় ঠিক বুঝতে পারছিলাম না, কী হতে যাচ্ছে! কিন্তু আমার তো কাজ করতে হবে। হাঁসফাঁস লাগছিল।

default-image

আপনার অসম্পূর্ণ, প্রায় সম্পূর্ণ ও শুরু হতে যাওয়া কাজগুলো নিয়ে বলুন।

সোয়েব সাদিকের ‘সুজুকি’ নামে একটি সিনেমা করলাম। সাঁওতালদের কাহিনি নিয়ে। শত বছরের পুরোনো একটা গল্প। মোস্তাফিজুর রহমান মানিক পরিচালিত ‘যাও পাখি বলো তারে’র শুটিং শেষ। কেবল একটা গান আছে। আগামী মাসে কক্সবাজারে গানটির শুটিং হবে। তারপর ছবিটা সেন্সরে জমা দেওয়া হবে। ‘বসন্ত বিকেল’ নামে একটা কাজ করলাম, রফিক শিকদারের। সেটার সামান্য শুটিং বাকি। ‘জলমহল’ নামে আরেকটা কাজ শুরু করতে যাচ্ছি, অক্টোবরে শুটিং। একটা ওয়েব ফিল্মে চুক্তিবদ্ধ হব দুই–একের মধ্যে।

আপনার ক্যারিয়ার তাহলে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে বলে মনে হচ্ছে।

আমি কাজ করতে চাই, কাজটাই করে যাচ্ছি। আমি নাটকের সিন্ডিকেটেও নেই, ফিল্মের পলিটিকসেও নেই। আমি আমার মতো কাজ করে যাচ্ছি। আমার মতো করে যাঁরা আমাকে ভাবেন, তাঁদের কাজগুলো করছি। ভালো আছি।

default-image

আপনাকে অনেকেই কলকাতার লোক ভাবেন। এ নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন কখনো?

প্রথম ছবি মুক্তি পাওয়ার পর অনেক জায়গায় এটার সম্মুখীন হতে হয়েছে। ধরা যাক, কোনো চ্যানেলে গিয়েছি, আমার কাছে জানতে চাওয়া হলো, ‘কবে এসেছেন, ঢাকায় কদিন থাকবেন?’ আমি বলতাম, আমি ঢাকার ছেলে, ঢাকায় পড়াশোনা করেছি। আমার রক্ত অবশ্য আধা কলকাতার, তবে আমি ও আমার বাবা জন্মগতভাবে বাংলাদেশের মানুষ। আমার দাদারা কলকাতার ব্যারাকপুরের মানুষ।

আইসল্যান্ডের সিনেমাটা কি শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে গেল?

না, ছবির সবকিছু প্রস্তুত। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই শুটিং শুরু হবে। তবে আবারও ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। ওটা আন্তর্জাতিক প্রকল্প, পেছাতে পারে, বাতিল হবে না। বাংলাদেশ আর যুক্তরাজ্য মিলে কাজটা করবে।

default-image

মহামারির ভেতর অভিনয়শিল্পীসহ প্রায় সবাই একটা সংকটে পড়েছিলেন। অনেকে বিকল্প আয়ের উৎস নিয়ে ভেবেছেন, অনেকে নতুন কিছু শুরুও করেছেন। আপনিও কি ভেবেছিলেন?

আমি ১৬ বছর এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি। সিনেমায় সাত বছর। এ পর্যন্ত নিজে উপার্জন করে চলতে চেষ্টা করছি। মার্কেটে এখনো আমার লাখ লাখ টাকা পাওনা আছে। এমনিতেই আমরা অভিনয়শিল্পীরা উপযুক্ত পারিশ্রমিক পাই না, সেটাও যদি বাকি পড়ে থাকে, তাহলে তো অসুবিধা হবেই। আমার মনে হয়, প্রায় প্রত্যেক শিল্পীই ভুক্তভোগী। কেউ এসব নিয়ে কথা বলেন, কেউ বলেন না। অবশ্য বলে লাভও হয় না। অনেক মানুষের কাছে খুচরা যেসব টাকা পাই, সেসব একত্রে অনেক বড় একটা অঙ্ক। তাঁরা কথা রাখছেন না। যেহেতু কাজ করে যাচ্ছি, মাসের ১৫ দিন আমার শুটিং থাকে। আমার অসুবিধা হচ্ছে না। সম্মানীটা যদি ঠিকমতো পাই, তাহলে আমাদের আর কিছু লাগে না। সম্মানীটা যদি সম্মানের সঙ্গে দিয়ে দেয়, আমরা সম্মানের সঙ্গে চলতে পারি। অন্য কিছু করতে হয় না। তবে আমি ভাবছি, কিছু একটা করা দরকার। তাহলে পুরোপুরি অভিনয়ের আয়ের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে। যদিও আমার ধ্যান-জ্ঞান, স্বপ্ন অভিনয়। তবু আয়ের বিকল্প একটা উৎস থাকলে অভিনয়টাও নির্ভাবনায় করতে পারব। আর্থিক ব্যাপারে কিছুটা ছাড়ও দিতে পারব।

আলাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন