বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

বেশির ভাগই অনুরোধ, নাকি এর বাইরেও গল্প–চরিত্র মিলে যাওয়ায় কাজ করতে হয়েছে?

অনুরোধের পাশাপাশি নিজের পছন্দেও কিছু গল্পে কাজ করেছি। সেখানে আমাকে বলে নিচ্ছে এক রকম। পরে শুটিং করতে গিয়ে দেখি আরেক রকম। সিনেমা মুক্তির সময় স্ক্রিনে আমাকে পাচ্ছি অন্য রকম। এভাবে কয়েকবার আমার সঙ্গে প্রতারণা হয়েছে। নতুন বছর কোনো কাজ করলে আগেই নিশ্চিত হব আমাকে কীভাবে দেখছি। ট্রেলার-প্রমো বা পোস্টারে কতটা পাবলিসিটি পাব সেগুলো দেখে সিদ্ধান্ত নেব। তাতে বছরে একটি সিনেমা হলেও খুশি থাকব। আর কোনো সিনেমায় কাজ না পাই, তা–ও আমার আফসোস নেই।

ক্যারিয়ারের এই সময়ে এসে কেন মনে হলো কড়া সিদ্ধান্ত নেবেন?

এত বছর কষ্ট করে, তিলে তিলে নিজেকে চম্পা হিসেবে দাঁড় করালাম। অনেক বছর লেগেছে আমাকে চম্পা হতে। অনেক বড় পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেই সোনালি দিনটা অর্জন করেছি। কিন্তু ক্যারিয়ারের এই শেষে এসে কেন ছোট ছোট গুরুত্বহীন চরিত্রে কাজ করে সম্মানটা নষ্ট করব। সম্মানহানির চেয়ে ফিল্ম ছেড়ে দেওয়া উচিত। এমন হলে আমার আর অভিনয় করাই উচিত নয়।

default-image

কেন?

শুটিংয়ের পর ছবিতে আমার কোনো প্রাধান্য নেই। সম্পাদক আবর্জনা মনে করে ফেলে দিল। আরেকজন মনে করল এর চেয়ে নায়িকার হাসিঠাট্টা, গান রাখলে ছবি চলবে। আমার এই সিদ্ধান্তে প্রযোজকের টাকা বাঁচবে, অন্যদিকে শিল্পীর মানসম্মান বাঁচবে। যে দৃশ্য ফেলে দেওয়া যায়, সেই দৃশ্যে যে কাউকেই নেওয়া যায়। পরে শুনতে হয় আপনাকে পর্দায় খুঁজে পাওয়া যায় না। এসব নিয়ে আমি খুবই বিরক্ত।

আপনি একসময় শেখ নিয়ামত আলী, শিবলী সাদিক ভারতের বুদ্ধদেব দাসগুপ্ত, গৌতম ঘোষের সিনেমাগুলো অভিনয় করেছেন...

অতীত নিয়ে আর কী বলব! সেই আর এই দিনের কথা ভাবলে ভীষণ লজ্জা ও আত্মসম্মানে লাগে। এখানে বড় একটা গ্যাপ দেখতে পাই। আমিসহ আরও অনেকেই আছেন, যাঁরা অভিজ্ঞ অভিনয়শিল্পী। ইন্ডাস্ট্রিকে অনেক ভালো কিছু দেওয়ার মতো আশা রাখেন। কিন্তু আমাদের বসিয়ে রাখা হয়েছে।

আফসাস আছে?

অবশ্যই আফসোস আছে। বাংলাদেশে অনেক ভালো ভালো সিনেমা হচ্ছে। নাটকের অনেক নির্মাতা ভালো কাজ করছেন। এখানে সিনিয়র জুনিয়র মিলে কাজ করে কমিউনিকেশন গ্যাপটা দূর করা উচিত। আমার কানে আসে, ইন্ডাস্ট্রির কিছু ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেন না। তাঁরা আমাদের সম্পর্কে ভুলভাল বুঝিয়ে তরুণ নির্মাতাদের নিরুৎসাহিত করেন। এতে আমরা মনে করছি কেন তাঁরা আমাদের নিচ্ছেন না, তাঁরা মনে করছেন আমরা সহযোগিতা করি না। এসব মিলেই কিন্তু তৈরি হচ্ছে। এসব উল্টাপাল্টা পলিটিকস আমাদের ফিল্মের লোকেরাই করেন।

default-image

এখন কি এফডিসিতে আসেন?

না না। করোনা বলে না, আমরা কাজ ছাড়া কখনোই এফডিসিতে যাই না। এটা আমাদের পরিবারে নেই।

বাসায় সময় কীভাবে কাটে?

দেশ–বিদেশে ভাই-বোনেরা আছেন। বেশির ভাগ সময় পরিবারের সদস্যরা ফোনে কথা বলেই সময় কাটিয়ে দেন। আর বাসায় আমি রান্না করি, সেলাই করি, এমব্রডারি করি, সন্তান ও নাতনিদের সময় দিই। বাড়িতে আমি সব সময় গৃহিণী, মা ও একজন নানি চম্পা হিসেবেই থাকি।

আপনার শাড়িতে অনেক সুন্দর ডিজাইন করা থাকে?

(হাসি)। ধন্যবাদ। আমার শাড়ির সব ডিজাইন নিজের করা। আমার কাপড় সব আমি নিজেই ডিজাইন করি।

বছরের প্রথম দিনে কী করলেন?

আমি স্বামীর সঙ্গে রান্না করে আলাদা একটা আনন্দ পাই। নতুন ও অনেক পুরোনো খাবার আমার পছন্দের শীর্ষে থাকে। থার্টি ফার্স্ট নাইটে বাড়ির বাগানে মাটির চুলায় রান্না করেছি। সবচেয়ে বেশি আগ্রহ পাই বাঙালিদের হারিয়ে যেতে বসা কিছু রান্না নিয়ে। ধনেপাতা দিয়ে শোল মাছ ভুনা, যশোর অঞ্চলের নারকেল দিয়ে মুরগির মাংস রান্না, বাঁধাকপির ডালনা। এসব পুরোনো রান্নায় আমি মা–নানিকে খুঁজে পাই।

আগামী শুক্রবার আপনার অভিনীত ‘শান’ সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে, সিনেমা নিয়ে কতটা আশাবাদী?

মুক্তি পাচ্ছে শুনেছি। আশা করছি ভালো হবে। বাকিটা মুক্তির পরে বোঝা যাবে।

default-image
আলাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন