চলচ্চিত্রে পূর্ণিমার অভিনয় করা হয় না অনেকদিন। যতদিন কাজ করেছেন, পেয়েছেন দারুণ জনপ্রিয়তা। অভিনেত্রী পূর্ণিমার আজ ছিল জন্মদিন। করোনাকালের এ জন্মদিন কেমন কাটালেন তিনি? জানালেন জন্মদিন ও চলচ্চিত্র নিয়ে ভাবনার কথা।
default-image

শুভ জন্মদিন। অনেকক্ষণ ধরেই আপনার ফোন ওয়েটিং! অনেক শুভেচ্ছা কল পাচ্ছেন?
ধন্যবাদ। সবাই ফোন করছে, কথা বলছি। একজনের সঙ্গে কথা শেষ করতে না করতেই আরেকজনের ফোন।

তার মানে এই করোনাকালেও ভালোবাসা কমেনি?
একবিন্দুও কমেনি। ভালোবাসা একদম ভরপুর। এই করোনাকালেও কেউই ভালোবাসা জানাতে ভুল করেনি।

এই ভালোবাসা পেতে কেমন লাগে?
প্রতিবছর সবাই উইশ করে, ভালোবাসা জানায়, ফেসবুকে আমাকে নিয়ে তাঁদের ভালো লাগা-সম্মান প্রকাশ করে, শিল্পী হিসেবে আমার কাজ নিয়ে নানা কথা বলেন। আমিও জানতে পারছি, কার দৃষ্টিতে আমি কেমন। এটা আমার কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি। আমি মনে করি, এটা অ্যাওয়ার্ডের চেয়ে কম নয়। এটা আমার জীবনের অন্যতম বড় অ্যাচিভমেন্ট। একেকজনের একেক রকম ভালোবাসা। কোনো কোনো শব্দ, বাক্য আমাকে ছুঁয়ে যাচ্ছে।

default-image

নিজের সম্পর্কে নতুন কী জেনেছেন?
কেউ বলছেন, আমার আজ অমুক জায়গায় থাকা উচিত ছিল, আরও অন্য রকম কিছু কাজ করা উচিত ছিল। আমাকে ঠিকভাবে ইউটিলাইজ করতে পারেনি। আমার যে জায়গায় থাকা উচিত ছিল, সে জায়গায় যেতে পারিনি। তবে আমার মনে হয়, আমি যা পেয়েছি, সেটাই অনেক বেশি। এক জীবনে আমার জন্য তা অনেক বড় পাওয়া।

নিজের সম্পর্কে আপনার কী মত?
মাঝেমধ্যে আমারও মনে হয়, অভিনয়জীবনে যা করেছি, তার মধ্যে কিছু কাজ ছিল একঘেয়ে। কিছু কাজ ‘করার জন্য করা’। নিজের অভিনয়টাকে ঠিকমতো ফুটিয়ে তুলতেও পারিনি। অথবা এমন কিছু কাজ করতে চাই, যার সুযোগ বা প্ল্যাটফর্মই পাইনি। এটাও ঠিক, এমন কিছু সুযোগ পেয়েছি, যা অন্য অনেকে পায়নি।

default-image

দু–একটা কাজের উদাহরণ দেবেন?
আমি মনে করি, কিছু চাওয়া-পাওয়ার মধ্যে অপূর্ণতা থাকবে, এটাই মানুষের জীবন। এক জীবনে ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘সুভা’, ‘শাস্তি’র মতো ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছি। বাংলাদেশের অনেক বড় বড় পরিচালকের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। আজ থেকে ২২ বছর আগে কাজ শুরু করা আমি গোলাম মুস্তাফা, হুমায়ুন ফরীদি, রাজিব, দিলদারের মতো শক্তিশালী অভিনয়শিল্পীকে পেয়েছি, এখনকার অনেকে তাঁদের পায়নি। আমি সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছি, হুমায়ুন ফরীদি, সুভাষ দত্তের ডিরেকশনেও কাজ করেছি। এটাও কিন্তু কম প্রাপ্তির নয়। তবে এটাও ঠিক যে চাওয়ার তো শেষ নেই। শিল্পী মনে করে, ইশ্‌ যদি আরও একটি ভালো গল্পের ছবি বা ভালো চরিত্রে কাজের সুযোগ পেতাম! যে আক্ষেপ আজীবন থাকবে।

এমন কী চরিত্র আছে, যেটা করতে উদ্‌গ্রীব হয়ে আছেন?
আমি খুব করে একটা নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় করতে চাই, যা আজও পাইনি। আমাকে দেখে কেউই নেগেটিভ রোলে অভিনয়ের প্রস্তাব দেয় না। সবার কাছ থেকে পজিটিভ, সুইট, মিষ্টি মেয়ে, প্রেম করতে চায়—এই টাইপের চরিত্রের প্রস্তাব পাই। হুমায়ুন ফরীদি যখন পজিটিভ চরিত্রে অভিনয় করতেন, সবাইকে কাঁদিয়ে দিতেন। আবার যখন নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় করতেন, মনে হতো পৃথিবীতে তাঁর চেয়ে খারাপ বা নিষ্ঠুর মানুষ বোধ হয় দ্বিতীয় কেউ নেই। নিষ্ঠুরতার প্রকাশটা আমি এই জীবনে দেখাতে পারিনি। আমি চাই, সবাই আমাকে একটু নিষ্ঠুর ভাবুক।

আপনি যে নিষ্ঠুর চরিত্রে ভালো করবেন, এটা কখনো কেউ বলেছে?
এটা তো একজন ডিরেক্টরের খেলা। মিষ্টি চেহারার পেছনে যে একটা অজগর বা কালনাগিনী লুকিয়ে আছে, এই জিনিসটা পর্দায় তুলে ধরা। এটা পরিচালকই করবেন। আমি বলতে চেয়েছি, নিজেকে ভাঙতে পারি, এই টাইপের চরিত্র আমি পাইনি।

আপনাকে কি কেউ বলেছেন যে আপনি কালনাগিনী টাইপ?
(হাসতে হাসতে) না না না, কেউ বলেনি আজ পর্যন্ত। আমাকে আমার কাছের মানুষ, বন্ধু বা কলিগেরা সব সময় বলেছে, মিষ্টি চেহারার পেছনেও আমি মিষ্টি মানুষ। নিজের প্রশংসা নিজে করছি না। আমার মধ্যে আসলে কোনো ভণিতা নেই। আমি সামনে যা, পেছনেও তা। ভেতরেও যা, বাইরেও তা। তবে আমার মধ্যে যে দুষ্টুমি বাস করে, এটা কেউ বিশ্বাস করতে চায় না। মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার উপস্থাপনার পর অনেকে আমার দুষ্টুমি, মিমিক্রি, কমেডি করার ক্ষমতা টের পেয়েছে। মানুষকে আমি প্রচুর হাসাতে পারি। এটা লোকে আগে জানত না। ঘরোয়া কিছু অনুষ্ঠানে কেউ কেউ সামান্য আঁচ করেছিল। তবে কালনাগিনী টাইপ চরিত্র পেলে ভালো হতো।

default-image

অনেকে বলেন, আপনার আরও অনেক ছবিতে অভিনয় করা উচিত। আপনি কী মনে করেন?
উপস্থাপনার দক্ষতা উন্মোচিত হওয়ার পর অনেকে এমন কথা বলেছেন। এ ধরনের কথা আমি অনেক শুনেছি। অনেক ধরনের ছবির প্রস্তাবও পেয়েছি। কেউ কেউ এমনও বলেছেন, পূর্ণিমাকে দিয়ে নানা ধরনের চরিত্রে কাজ করানো সম্ভব। এ নিয়ে আমার অপূর্ণতাও আছে।

default-image

দেশ বা বিদেশের কোন অভিনয়শিল্পী বা পরিচালকের সঙ্গে কাজ করার স্বপ্ন দেখেন বা করতে না পারার আফসোস আছে?
পাশের দেশ ভারতের বাংলা ছবির যেসব পরিচালকের নাম শুনি, তাঁদের কারও কাজ আমার দেখা হয়নি। যদি বলিউডের কথা বলি, সঞ্জয়লীলা বানসালির কাজ আমার অনেক পছন্দ। তাঁর ডিরেকশনে যদি কোনো কাজ করতে পারি, ভালো লাগবে। সত্যি বলতে তাঁর ছবিগুলো দেখতে মন চায়। যদিও এটা বলার জন্য বলা, কখনো হবে না।

কোন অভিনয়শিল্পীর সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছা করে?
আমার খুব ইচ্ছা ছিল শাবানা ম্যাডামের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করার। আমি যখন চলচ্চিত্রে এসেছি, তখন তিনি জসিম ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করছিলেন। তিনি আমাকে দেখে বলেছিলেন, ‘তুমি নতুন এসেছ ইন্ডাস্ট্রিতে? নতুন নায়িকা? কী নাম তোমার?’ আমি বলেছিলাম, পূর্ণিমা। আমি চলচ্চিত্রে আসার কিছুদিন পর জসিম ভাই মারা গেলেন, আর ওদিকে শাবানা ম্যাডামের লাইফের একটা ঘটনার কারণে তিনিও দেশের বাইরে চলে গেলেন। আমার আর তাঁর সঙ্গে অভিনয় করা হলো না।

জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রথম ফোন করেছিল কে?
(হাসি) সত্যি কথা বলতে… এটা কঠিন প্রশ্ন। তবে এটা জানিয়ে রাখি, আমাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো শুরু হয় ২ জুলাই থেকে। বন্ধুরা অনেকে উপহারও পাঠিয়েছে আগেই।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0