মাহিয়া মাহি
মাহিয়া মাহিখালেদ সরকার
অভিনেত্রী মাহিয়া মাহি এবার অনুষ্ঠান উপস্থাপক। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে প্রথম আলোর ইউটিউব চ্যানেল, ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটে দেখা যাবে মাহির উপস্থাপনায় ‘সিবিএল মানছি চাংকি চক নিবেদিত ভালোবাসার দিনে ভালোবাসার গল্প’ অনুষ্ঠানটি। সম্প্রতি তিনি শেষ করেছেন অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম চরকির ওয়েব সিরিজ ‘মরীচিকা’র শুটিং। এসব ছাড়াও ব্যক্তিগত নানা বিষয়ে কথা হয় তাঁর সঙ্গে।
বিজ্ঞাপন

জীবনে প্রথমবার উপস্থাপনা করে কেমন লাগল? অভিনয় সহজ, নাকি উপস্থাপনা?

উপস্থাপনা আমার জন্য খুবই কঠিন বিষয়। আমার বরং অভিনয়টাই সহজ লাগে। যদিও আমি অভিনয় তেমন পারি না, তবু এটাই সহজ মনে হয়। অনেক ফরমালি কথা বলতে হয়, টক ব্যাক থাকে, এসব আমার কাছে নতুন। তার ওপর আবার ঠিকঠাক কথা বলতে হবে। আমি খুব অগোছালোভাবে কথা বলি। কথা বলতে বলতে মাঝেমধ্যে ভুলেই যাচ্ছিলাম যে টক ব্যাক আছে। পেছন থেকে একজন বলেই চলেছেন, মাহি এটা বলেন ওটা বলেন, আমি শুনছিলাম না। তবে মজা পেয়েছি। নতুন সবকিছুই অনেক মজার হয়। এটাও সে রকম। জীবনের প্রথম উপস্থাপনা, দম্পতি যাঁরা ছিলেন, তারাও খুব মজার। তাঁদের খুনসুটিতে মাঝেমধ্যে ভুলেই যাচ্ছিলাম যে এটা অনুষ্ঠান। তাঁদের প্রশ্ন করে আমি নিজের উত্তরটা বলে দিচ্ছিলাম।

default-image

ওটিটিতে (ওভার দ্য টপ) সিনেমা বা সিরিজ দেখেন?

রেগুলার দেখি। পঙ্কজ ত্রিপাঠী আমার অনেক পছন্দের একজন অভিনেতা। দেশের অভিনেতাদের মধ্যে চঞ্চল চৌধুরীর ‘তাকদীর’ দেখলাম। এসব দেখে এখন আর নায়িকাসুলভ কিছু করতে ইচ্ছে করে না। ইচ্ছে করে, ‘শি’-এর মতো সিরিয়াল করি। আমার মনে হয়, ওটিটি আমাকে এ সুযোগটা করে দেবে।

default-image

‘মরীচিকা’য় অভিনয় করে কতটা তৃপ্ত আপনি?

আমি এখান থেকে অনেক কিছু শিখেছি। এই ঘরানার কাজ যাঁরা করেন, দেখলাম শিল্পীরা গল্প করতে করতে মহড়া করেন, একই মেকআপরুম শেয়ার করেন, এক টেকে শট নেওয়া হয়। সিনেমায় দেখা যেত কেটে কেটে শট দিতাম। মোট কথা ‘মরীচিকা’ করতে গিয়ে ব্যতিক্রম সব অভিজ্ঞতা হয়েছে এবং আমি অনেক কিছু শিখেছি। সহশিল্পীদের কাছ থেকে অভিনয় শিখেছি। শিহাব শাহিন ভাই আমাকে অনেক কিছু ধরে ধরে শিখিয়েছেন। আমার খুব ভালো লেগেছে। আমি এমনিতে অনেক ন্যাকামো করি। প্রতিবারই মনে হয়, পরের ছবিতে ন্যাকামোটা নিয়ন্ত্রণ করব। পরে দেখি সেখানেও ন্যাকামো হয়ে গেছে। এইবার শিহাব ভাই, এর কিছু আগে রায়হান রাফি (স্বল্পদৈর্ঘ্য ‘অক্সিজেন’-এ) ভাই আমাকে এই ন্যাকামো থেকে বের করে এনেছেন। আমি ন্যাকামো করতে গেলেও তাঁরা সেটা করতে দেননি। আমার ভেতর থেকে অভিনয়টা বের করে নিয়েছেন।

default-image

স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্ব নতুন করে দেখবে আপনাকে। বিশ্বসেরা কোনো পরিচালকের কাছ থেকে ডাক পেলে কেমন হবে?

আমি আসলে প্রজেক্ট দেখি, ডিরেক্টর কে, কেন যেন সেটা দেখা হয় না। তবে ‘সেক্রেড গেমস’-এ নওয়াজুদ্দিন, ‘মির্জাপুর’-এ পঙ্কজ ত্রিপাঠীর মতো চরিত্র করতে ইচ্ছে করে। তাঁরা কিন্তু তথাকথিত হিরো না। দেখতে তাঁরা যেমনই হোক কিন্তু অভিনয় অসাধারণ। অনেক সুন্দর দেখতে অনেকেই থাকে অভিনয় জগতে, কিন্তু এখন টিকতে হলে অভিনয় দিয়ে টিকতে হবে। আমার কাজ করার ক্ষেত্রে বড় ডিরেক্টর হতে হবে এমন না, ইয়াং ডিরেক্টররাও এখন অনেক জোস জোস কাজ করছে। যেমন ‘তাকদীর’-এর কথাই ধরেন, খুব ভালো লেগেছে। এই ডিরেক্টরদের সঙ্গে আমি কাজ করতে চাই। আর যদি বাইরের কোনো ডিরেক্টরের কাছ থেকে প্রস্তাব পাই, আমি তো অজ্ঞান হয়ে যাব। ওটা অনেক দূরের স্বপ্ন। ওসব আমি চিন্তাও করতে পারি না। বাংলাদেশের ডিরেক্টররা যদি আমাকে নিয়ে কাজ করার কথা ভাবেন, আমি তাতেই হ্যাপি।

অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পর্দায় দীর্ঘ সময় উপস্থিত থাকার সুপ্ত বাসনা থাকে। ক্যারিয়ারের শুরুতে আপনি ‘অগ্নি’ নামে সে রকম একটা ছবি করেছিলেন। যেখানে আপনিই ছিলেন প্রধান চরিত্র। এখন পর্দায় আপনার উপস্থিতি ভাগ হয়ে যায়। মন খারাপ হয়?

সারাক্ষণ পর্দায় থাকতে হবে, এটা আমি মনে করি না। চরিত্রের প্রয়োজনে যতটা দরকার, সেটা যদি পাঁচ মিনিটও হয়, আমি তাতেও রাজি। তা ছাড়া ‘অগ্নি’ টাইপের সিনেমা তো সব সময় হবে না। ‘পোড়ামন’-এ আমি সাইমন ছিলাম, ‘রোমিও বনাম জুলিয়েট’-এ অঙ্কুশ ছিল, তাতে আমার চরিত্রের গুরুত্ব কমে যায়নি।

সহশিল্পীদের মধ্যে কাকে ঈর্ষা করেন?

কাজের দিক দিয়ে আমার কখনোই কাউকে হিংসা লাগে না। ধরা যাক পরীমনিকে দেখে মাঝেমধ্যে মনে হয়, আল্লাহ, এত সুন্দর, কিন্তু ও এত পাগল কেন? ও যদি একটু সিরিয়াস হতো, আমরা কেউ পাত্তা পেতাম না। ‘স্বপ্নজাল’-এ আমি ওর অভিনয় দেখেছি। এত ভালো অভিনয় জানে, দেখতে সুন্দর, কিন্তু কাজের প্রতি যদি একটু সিরিয়াস হতো, তাহলে ওর জন্য, আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য ভালো হতো। এই যে আমাদের নুসরাত ফারিয়া, এত জোস। আমি তো তাদের মতো হতে পারব না, আমাকে আমার মতো করে এগোতে হবে। তাদের তো কপি করতে পারব না, তাই আমি নিজের সঙ্গেই প্রতিযোগিতা করি। আমি তো আসলে তাঁরা না। আমার নিজেকে অতিক্রম করতে হবে, ন্যাকামো থেকে বের হয়ে আসতে হবে, চরিত্রে ঢুকে যেতে হবে। শিহাব ভাই, রাফি ভাইদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে শিখেছি, শুটিংয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না। তাহলে চরিত্র থেকে বের হয়ে যাব। আমি আসলে নিজের আগের ও পরের সিনেমা দেখে নিজেকে এগিয়ে নিতে চাই।

বিজ্ঞাপন
default-image

আপনাকে নিয়ে বিতর্ক হলে অস্বস্তি হয়?

হয়, তাতে কিছু যায়-আসে না। আমরাও মানুষ। মানুষের জীবনে যেসব ঘটনা ঘটে, মানুষ হিসেবে আমার জীবনেও সে রকম ঘটতে পারে। আমরা বিনোদন অঙ্গনে কাজ করি বলে আমাদেরটা দেখা যায়, রটে যায়, খবর হয়ে যায়। কেউ যদি বিতর্ক সৃষ্টি করে, করুক। আমি চাই লোকে কথা বলুক। বললে যারা আমাকে চেনে না, তারাও চিনবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটু মন্তব্যকারীদের ব্যাপারে মনোভাব কী?

আমি কমেন্ট পড়ি না। কমেন্ট পড়লেই মনে হয় সিনেমা করা ছেড়ে দেব, কেউ আমাকে দেখবে না আর। আসলে এদের কিছু বলার নাই। এসব পারিবারিক শিক্ষা। পরিবার থেকে আমাকে শেখানো হয়নি যে প্রকাশ্যে কাউকে গালিগালাজ করব বা লিখব বা কষ্ট দিয়ে কথা বলব। কারও ওপর রাগ হলে হয়তো মনে মনে বকা দিই, মনে মনে হয়তো গালিও দিই, প্রকাশ্যে নয়।

default-image

অনেক ভক্ত মিষ্টি মন্তব্যও করে, অনুপ্রেরণাও দেয়। তাদের জবাব দেন?

পারি না। খারাপ কমেন্ট এত বেশি থাকে যে মন্তব্যের ঘরে গেলে হতাশ হয়ে যাই। খারাপ কমেন্টের ভিড়ে ভালো মানুষের ভালো কমেন্টগুলো হারিয়ে যায়। তাঁরা আমার রিপ্লাই থেকে বঞ্চিত হন।

default-image

আপনি দেখলাম নিজেই গাড়ি চালান, দুর্ঘটনা ঘটেছে কখনো?

কেন যেন ড্রাইভারদের সঙ্গে আমার হচ্ছে না। যতজন ছিল, কেউ না কেউ কোনো না কোনো ভেজাল করেছে। আপাতত তাই নিজেই চালাচ্ছি। গাড়ি চালাতে আমার ভালোই লাগে। কেন যেন কখনো অ্যাকসিডেন্ট করিনি। অনেক বছর আগে একবার পুকুরে পড়ে গিয়েছিলাম।

ইচ্ছার তালিকায় এ বছর ‘করতেই হবে’ এ রকম কি ইচ্ছে আছে?

এ রকম ইচ্ছা প্রতিবছরই থাকে। যেমন খুব ভালো একটা কনটেন্ট করতে চাই, যেটা আমাকে অ্যাক্টর বানাবে। মানুষের মুখে মুখে থাকব। এটা অবশ্য প্রতিবছরই থাকে, এবার বেশি।

আপনার স্বামী অপু কেমন আছেন? ভালোবাসা কি আগের মতোই আছে, নাকি কমেছে বা বেড়েছে?

ভালোবাসা নেই একদমই। মায়া আছে অনেক বেশি। তাঁকে আমার খালাতো ভাই মনে হয়। সে এখন আমার বন্ধুর মতো। জামাই বা ভালোবাসি, এগুলো ফিল হয় না। পথে সুন্দর কোনো ছেলে দেখলে তাঁকে বলি, দেখ ছেলেটা অনেক সুন্দর না?

default-image
আলাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন