‘পরীমনির ব্যাপারটা জাতীয় পর্যায়ে এসেছে, অন্যদেরটা আমাদের নজরে আসেনি’
গ্রেপ্তারের দুই দিনের মাথাতেই চিত্রনায়িকা পরীমনির সদস্যপদ স্থগিত করে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। কিন্তু সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে, রুবেল, ডিপজল ও আহমেদ শরীফের মতো চলচ্চিত্রশিল্পীরা একাধিক মামলায় অভিযুক্ত আছেন। কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সমিতি! এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর এর সঙ্গে কথা বলে প্রথম আলো। সাক্ষাৎকারটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো।
প্রশ্ন :
আপনাদের সংগঠনের আরও কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার কথা শোনা যাচ্ছে।
একাধিক মামলা আছে, এগুলোর খবর কি আমাদের কাছে আসছে?
প্রশ্ন :
খবর কীভাবে আসতে হবে?
এসব তো আমাদের কাছে আসেনি। কারও পক্ষ থেকে জানানো হয়নি তো।
প্রশ্ন :
আপনারা কি নিজে থেকে কিছুই জানতেন না?
আমরা এগুলো জানি না। রুবেল ও আহমেদ শরীফের বিষয়টা জানিই না। ডিপজল ভাইয়ের ব্যাপারটা জানি। কিন্তু সেটা তো বেকসুর খালাস পেয়ে গেছেন, এটাও জানি। ডিপজল ভাইয়ের মামলাগুলো থেকে খালাস পেয়ে জামিন পেয়েছেন, ওনার কেসের ব্যাপারে এখন আর জানি না।
প্রশ্ন :
রুবেল ও আহমেদ শরীফের ব্যাপার তো জানতেন।
না, আমরা জানি না তো।
প্রশ্ন :
সংবাদমাধ্যমে এসেছে, এরপরও শোনেননি?
কেউ তো আমাদের বলতেছে না। এটা তো আমার কাছে আসতে হবে। জানাতে হবে না?
প্রশ্ন :
সংবাদমাধ্যমে যে এল, তারপরও জানেন না বলবেন? নাকি লিখিতভাবে কেউ জানাতে হবে?
আমাদের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ দেওয়া ছাড়া তো উপায়ই নেই। প্লাস আরও ব্যাপার আছে...। আর পরীমনির ব্যাপারে তো পুরো দুনিয়া জানে।
প্রশ্ন :
পরীমনির ব্যাপারটা দুনিয়া যেমন জানে, রুবেল, আহমেদ শরীফ আর ডিপজলের কথাও তো সবাই জানেন। সংবাদমাধ্যমেও এসেছে। এরপরও জানেন না?
না, রুবেলের ব্যাপারটা আমি ওভাবে জানি না। আমাদের যদি কেউ না জানায়, তাহলে কীভাবে দেখব?
প্রশ্ন :
আপনাদের আসলে আর কীভাবে জানাতে হবে?
সবচেয়ে বড় কথা, কমিটি যদি মনে করে। কেউ লিখিত দিলে তো সেটাও একটা ব্যাপার। তার ওপর পরীমনির ব্যাপারটা তো জাতীয় পর্যায়ে এসেছে, তাই আমরা ভেবেছি, এটার তো আলোকপাতে আসা উচিত। অন্যদেরটা আমাদের নজরে আসেনি।
প্রশ্ন :
পরীমনির সদস্যপদ স্থগিতের ব্যাপারে আপনার সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, জ্যেষ্ঠ শিল্পী আলমগীর, ইলিয়াস কাঞ্চন, সোহেল রানাসহ সবার সঙ্গে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অথচ আলমগীর বলছেন, তাঁর সঙ্গে কেউ কথাই বলেননি। আর ইলিয়াস কাঞ্চনের মন্তব্য, সদস্যপদ স্থগিতের ব্যাপারটা মোটেও ঠিক হচ্ছে না।
আমি তো আলমগীর ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে বলিনি। আমার সঙ্গে তাঁর কথা হয়নি। আলমগীর ভাইয়ের কথা যেহেতু জায়েদ খান বলেছে, এই বিষয়ে তাঁকেই জিজ্ঞেস করা উচিত। আলমগীর ভাইয়ের সঙ্গে কথা না হলেও উজ্জ্বল ভাই এবং সোহেল রানা ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। জ্যেষ্ঠ শিল্পীদের সঙ্গে আমরা কী কথা বলেছি বা বলিনি, সেটা বিষয় নয়। সদস্যপদ স্থগিতের বিষয়টি তো কার্যকরী পরিষদের সিদ্ধান্ত।
প্রশ্ন :
তাহলে সিনিয়র শিল্পীদের নাম জড়াচ্ছেন কেন?
(নীরব)।