২০০১ সালে বিটিভির জন্য ‘শেষ বেলায়’ নামে প্রথম নাটক বানিয়েছিলেন চয়নিকা চৌধুরী। এখন তাঁর টেলিছবি আর এক ঘণ্টার নাটকের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে চার শ। ধারাবাহিক বানিয়েছেন ১৬টি। ২০২১ সালে পরিচালক হিসেবে দুই দশক পার করেছেন এই নির্মাতা। ২০২০ সালে পরিচালক হিসেবে বড় পর্দায় অভিষেক হয়েছে তাঁর। মুক্তি পেয়েছে তাঁর প্রথম সিনেমা ‘বিশ্বসুন্দরী’। প্রথম দিন দুবার ফোন করে পাওয়া গেল না তাঁকে। পরদিন সকালে ফোন উঠিয়েই বললেন, ‘দুদিন ধরে আমি হাসপাতালে।’ কথা হলো এই পরিচালকের সঙ্গে।
default-image
বিজ্ঞাপন

হাসপাতালে কেন?

আমার মামা অসুস্থ। এখন একটু ভালো। আইসিইউ থেকে কেবিনে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রেশার অনেক হাই। ডায়াবেটিস কমে গিয়েছিল। আসলে তাঁকে দেখার তেমন কেউ নেই তো।

২০ বছর আগের চয়নিকা আর এখনকার চয়নিকার ভেতরে পার্থক্য কী?

২০ বছর আগেও আমি সকাল ৬টায় উঠতাম। এখনো তা–ই। সবার আগে সেটে পৌঁছাতাম। চিত্রনাট্য নিয়ে আলাপ করতাম। তখনো যে মমতা নিয়ে কাজ করতাম, এখনো তেমনই। এখনো আমি স্ক্রিপ্ট, সেট, অভিনয় নিয়ে আগের মতোই যত্নশীল। আর পার্থক্য হলো, আমি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।

default-image

‘বিশ্বসুন্দরী’ থেকে আপনার সবচেয়ে বড় পাওয়া কী?

এই করোনাকালেও দর্শকেরা ছবিটি অনেক ভালোবাসেছেন, এটাই সবার ওপরে। করোনাকালে এত মানুষ ছবিটি হলে এসে দেখেছেন যে অনেক শো-ই হাউসফুল গেছে—এটা দারুণ ব্যাপার। সালাহউদ্দিন লাভলু আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন, শেষ কবে যে হলে গিয়ে একটা ভালো সিনেমা দেখে কেঁদেছি, মনে নেই। আপনি একটা বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রেম, ভালোবাসার কাজে আপনি সিদ্ধহস্ত, তবে এসবের পরও যে চমকটা দিলেন, তা দুর্দান্ত। শহীদুল আলম সাচ্চু ভাই ফোন করে সে কী কান্না! বলল, যে কাজটা আরও বড় বড় পরিচালকদের করার কথা ছিল বীরাঙ্গনাদের নিয়ে, সেটা তুই নবীন হয়েও প্রথম ছবিতেই করে ফেললি। সুবর্ণা আপা (সুবর্ণা মুস্তাফা) ফোনে বলেছে, কিরে, ছবি তো লেগেই গেল! আমার বাবা সিনেমাটা দেখেছেন। কেঁদেছেন আর বারবার বলেছেন, এই সিনেমাটা তুমি বানিয়েছ! একজন বৃদ্ধ গৃহিণী তাঁর ছেলের সঙ্গে সিনেমা দেখতে গিয়েছিল। তিনি অনেক আগে থেকেই আমার নাটক দেখতেন। তিনি সিনেমা দেখে বলেছেন, আমিই তো বিশ্বসুন্দরী। তিনি আসলে একজন বীরাঙ্গনা।

default-image

শুনেছি পরীমনি আপনাকে ‘মাম’ বলে ডাকে?

হ্যাঁ। ১৫ ডিসেম্বর পরী আমাকে তার বাসায় নিয়ে গেল। আমাকে বলেছিল, মাম, আমার কিন্তু কোনো ছবি হিট হয়নি। যদিও আমি পরী হয়ে গেছি। তুমি আমার ‘লাক’। আমি প্রথম সিনেমার টাকা দিয়ে আমি একটা হীরার আংটি কিনেছি। সেই আংটিটা আমি তোমাকে দিলাম। আমার তো মা নেই। তুমিই আমার মাম। এই আংটিটা আমাদের মায়ার বন্ধন। তুমি মৃত্যুর আগপর্যন্ত কখনোই খুলবা না। আই লাভ ইউ মাম। এ কথা বলেই আমাকে জড়িয়ে ধরল। দুজনেরই চোখে পানি। সেই থেকে আংটিটা আমার হাতে।

‘বিশ্বসুন্দরী’র বাজেট কত?

বাজেট পার করে ফেলেছি। এটা আমার প্রথম কাজ তো। তাই ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারিনি। প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে।

default-image

আপনি কেবল তারকাদের নিয়ে কাজ করেন কেন?

যাতে কাজটা ভালো হয়, অভিনয়টা ভালো হয়, দিনের কাজ দিনে শেষ করতে পারি। আমি তারকাদের নিয়ে কাজ করি, কথাটা পুরোপুরি ঠিক না। তারকা অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে কাজ করি। বিন্দু, সারিকা, অপূর্বরা ক্যারিয়ারের প্রথম দিকে আমার সঙ্গে কাজ করেছে।

বিজ্ঞাপন

আপনার ছেলেও নাকি পরিচালনা করছে?

হঠাৎ দুদিন আগে সে আমাকে প্রণাম করল। বলল, ছোটবেলায় পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় যেমন আশীর্বাদ করতে, তেমন করে আশীর্বাদ করো। পরে জানলাম, সে একটা বিজ্ঞাপন বানাতে যাচ্ছে। আমাকে বলেছে তার সেটে না যেতে।

এখন কী নিয়ে ব্যস্ততা যাচ্ছে?

ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে একটা নাটক যাবে ‘নোয়াই’ নামে। রিচি দেশে এলে ওকে নিয়ে ‘মন কেমনের দিন’ নামে আরেকটা নাটক বানাব। যদিও সেটি ভালোবাসার নাটক না। ওটিটির জন্য কয়েকটি সিনেমার চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করছি। আর নিজের পরের ছবির চিত্রনাট্যের কাজ এগোচ্ছি।চয়নিকা ও পরীমনি

default-image

ইন্ডাস্ট্রিতে আপনার প্রিয় অভিনয়শিল্পী কারা?

সুবর্ণা মুস্তাফা, আলী যাকের, মাহফুজ আহমেদ, অপূর্ব, অপি, তারিন...আমার তো চঞ্চল চৌধুরীকে মনে হয় ম্যাজিশিয়ান। সে ভালো আঁকে, গায়, অভিনয় করে, আর কী বিনয়ী! মনোজ (মনোজ প্রামাণিক) নামে একটা ছেলে আছে, খুব ভালো অভিনয় করে। নতুনদের ভেতর তাসনিয়া ফারিণকে আমার বেশ লাগে। ওকে দিয়ে হবে। শ্রাবন্তী, রিচি সোলায়মান, তিন্নি, তমালিকাদের আমি খুব মিস করি। তবে সবচেয়ে বেশি মিস করি শিলা আহমেদকে।

আপনার এ পর্যন্ত আসার পেছনে কার অবদান আছে বলে মনে করেন?

আজকে আমি যা, তার জন্য ‘লাইট অ্যান্ড শ্যাডোর’ মজিবুর রহমানের কাছে কৃতজ্ঞ। তিনিই প্রথম আমাকে পরিচালক হিসেবে সুযোগ দিয়েছিলেন। তাঁর হাত ধরে আমি এসেছি। আর আমার ক্যারিয়ারের জন্য আরও তিনটি মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। মাহফুজ আহমেদ, ইমদাদুল হক মিলন আর তমালিকা কর্মকার।

default-image

আপনার ছোট বোন তমালিকা কর্মকার কোথায়?

ও অভিমান করে বছর দুয়েক আগে সব ছেড়েছুড়ে দিয়ে চলে গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। ও বোধ হয় আর ফিরবে না। আমি ওকে ভীষণ মিস করি।

আলাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন