বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জীবনের কোন পর্যায়ে এসে মনে হয়েছে সংগীত প্রার্থনা?

একদম শুরু থেকে, যখন আমি স্কুলে পড়ি। সেই ষষ্ঠ–সপ্তম শ্রেণি থেকে। যতই দিন গেছে, ততই এটা গাঢ় হয়েছে। সংগীতকে মনের মধ্যে লালনপালন বেশি করেছি।

default-image

সংগীতের পথে চলতে গিয়ে পরিবারকে কীভাবে পাশে পেয়েছেন?

গানের ব্যাপারে পরিবার কোনো দিন সাহায্য করেনি। পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই আমি গানের জীবন বেছে নিয়েছি। পরিবার চাইত, ছেলে পড়াশোনা করে বড় হবে, চাকরি–বাকরি করবে, স্যুটেড–বুটেড জীবন যাপন করবে। আগেকার মা–বাবারা যেমনটা চাইতেন আরকি। আমার আব্বা আবার একটু বেশি রাগী ছিলেন। তাই তিনি ভাবতেন, হাতে আবার গিটার–টিটার কিসের! স্কুলে থাকতেই আব্বা আমার গিটার ভেঙে ফেলেন। বন্ধুর উপহার দেওয়া সেই গিটার ভেঙে ফেলায় মন ভীষণ খারাপ হয়ে যায়। যদিও সেই গিটারের অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। আমারও তখন গিটার কেনার সামর্থ্য ছিল না। বাবার কাছেও চাইতাম না। কারণ, তিনি পছন্দ করতেন না। চাইলে যদি আবার রাগটাগ করেন, এই ভয়ে। আমি মনে করি, সেদিন গিটার ভাঙাটা আশীর্বাদ ছিল। আমাকে সংগীতে বেশি আত্মনিবেশ করতে সহযোগিতা করেছে। একটা জিদ কাজ করেছে।

ঈদে নতুন কোনো গান প্রকাশিত হচ্ছে কি?

আমি এখন আগের চেয়ে কাজ বেশি করছি। ঈদের চলচ্চিত্রে গাওয়া গানটি মুক্তি পাবে। এটি আমার গাওয়া প্রথম চলচ্চিত্রের গান।

default-image

চলচ্চিত্রে গান গেয়ে অভিজ্ঞতা কেমন। আগ্রহ কি বেড়েছে?

খুবই চমৎকার অভিজ্ঞতা। সিনেমার গানে কাজ করা ভিন্ন রকম। এটা ঠিক, চলচ্চিত্রে গাওয়ার অনেক প্রস্তাব পেয়েছি, কিন্তু করা হয়নি। একটা পর্যায়ে এসে দেখলাম, ভালো করতে পারলে সিনেমার গান বেঁচে থাকে। বহু সিনেমার গান যুগ যুগ ধরে বেঁচে আছে। নিজের মধ্যে উপলব্ধি হলো, গানের যেকোনো ক্ষেত্রেই একজন মিউজিশিয়ানের কাজ করা উচিত। সিনেমার গান করে যদি আমি ভালো করতে পারি, তাহলে সেটাই আমার সফলতা। আমি মনে করছি, আমাকে দিয়ে আরও নানা ধরনের গান গাওয়ানো সম্ভব। সংগীত পরিচালকেরা আমাকে দিয়ে কাজ করিয়ে নিতে পারবেন।

কেউ কেউ বলে থাকেন, গানের জন্য নাকি আপনাকে খুঁজে পাওয়া যায় না!

এটা মোটেও ঠিক কথা নয়। অনেকে হয়তো ফোন করেন, কিন্তু পরিচিত না হলে ধরা হয় না। প্রয়োজন জানিয়ে এসএমএস করলে আমি কিন্তু ঠিকই কলব্যাক করি। এমনিতে আমি আমার মতো থাকতে পছন্দ করি। এটাও ঠিক, আমার গেল কয়েক বছরে কাজ করা হয়েছে কম। এখন ভালো লাগছে, তাই কাজও করছি বেশি।

গান নিয়ে আপনার স্বপ্নের কথা শুনতে চাই।

আমি আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে কাজ করতে চাই। কিছুটা যদিও করেছি। গানবাংলার মাধ্যমে বিদেশের নামকরা অনেক মিউজিশিয়ানের সঙ্গে কাজ করা হয়েছে। আরও বেশি করতে চাই।

default-image

আন্তর্জাতিক অঙ্গনের তুলনায় দেশের সংগীতের অবস্থান কোথায় মনে করছেন?

আমাদের দেশের শিল্পীদের মেধা আছে, যোগ্যতা আছে। আমাদের দেশে এখন আন্তর্জাতিক শিল্পীরা এসে কাজ করছেন। কোক স্টুডিও এসেছে। তারা এসেছে, এর মানে বাংলাদেশে মেধাবী মিউজিশিয়ান আছেন, আছে ব্যবসায়িক বড় বাজারও। অন্যথায় এত বড় প্ল্যাটফর্ম কিন্তু আমাদের দেশে আসত না। আমরা মেধাবীদের মূল্যায়ন কম করি। এই ধরনের আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম আসার পর সত্যিকারের মেধাবী ও যোগ্য শিল্পীদের চাহিদা বাড়বে।

গানে এককভাবে, নাকি ব্যান্ড নিয়ে এগোবেন?

আমি মঞ্চে শ্রোতাদের সরাসরি গান শোনাতে পছন্দ করি। রেকর্ডিংও করব। আবার দলগতভাবেও এগোব। কারণ, একটা কাঠামোও আছে।

আলাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন