আপনার পরিচালিত গ্রামীণ আবহের ‘রঙের মানুষ’, ‘আলতা সুন্দরী’সহ বেশ কয়েকটি নাটক দর্শকপ্রিয় হয়েছে।

নাটকের মাধ্যমে গ্রামবাংলার জীবনের গল্প বলেছি। সেই গল্পগুলো ছিল জীবনঘনিষ্ঠ। এখন গ্রামের গল্পগুলোয় শহরের ছোঁয়া লাগছে, ধরন পরিবর্তন হচ্ছে। এসব নিয়ে আরও অনেক কাজ করার সুযোগ আছে। নতুন প্রজন্মকে জানানো দরকার গ্রামের মানুষ আগে কত ভালো ছিল, কতটা আন্তরিক ছিল।

এখনকার গ্রামের নাটক কেমন হচ্ছে?

এখন গ্রামের নাটকে রংচং বেশি, রঙিন পোশাক এই, সেই। আমার মনে হয়, গ্রামের বাস্তব কোনো চরিত্র এখন উঠে আসে না। গ্রাম মানেই তারা বানিয়ে ফেলছে কমেডি। গ্রাম মানেই তাদের কাছে হাসির বিষয়। গ্রামীণ জীবনের দুঃখকষ্ট, ভালো লাগা এখনকার নাটকে নেই।

আপনি একই সঙ্গে অভিনয় ও পরিচালনা করেন। কিন্তু সম্প্রতি প্রচার শুরু হওয়া ‘ষন্ডাপান্ডা’য় শুধু পরিচালনা করেছেন, আবার ‘চিরকুমার’ নাটকে অভিনয় করেছেন। আপনার আসল জায়গা কোনটা?

পরিচালনাই আমি সবচেয়ে বেশি উপভোগ করি। কিন্তু এখন ডিরেকশন দিতে ভালো লাগে না। যাদের জনপ্রিয়তা, ক্যারিয়ার গড়ে উঠেছে টেলিভিশন নাটক দিয়ে, তারা এখন টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করতে চান না। অনেকেই সময়মতো সেটে আসেন না। দেখা যায়, ১০ দিনের শুটিংয়ে ৪ দিনই বসে থাকতে হয়। অথচ রঙের মানুষ, ভবের হাট, ঘরকুটুম নাটকগুলোর শত শত পর্ব এসব শিল্পীকে নিয়ে করেছি। এখন তাদের নিয়েই কাজ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশে যারা তারকা, তাদের নিয়ে ধারাবাহিক নাটক বানানো অসম্ভব। কারণ, তারা এখন ওটিটিসহ নানা মাধ্যমে ব্যস্ত।

বিনোদন অঙ্গনে কাজ করতে গিয়ে এমন কোনো ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন, যা আপনাকে কষ্ট দেয়?

আমরা ডেডিকেশন, আন্তরিকতা নিয়ে নাটকের চর্চা শুরু করেছিলাম। এখন আর তা নেই। এটাই কষ্ট দেয়। দ্বিতীয়ত, আমার এত বছরের ক্যারিয়ার, এখন অনেকেই দেখছি হুট করে বড় কিছু হয়ে গিয়েছে, আবার হারিয়েও গেছে। একজন শিল্পী যে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শিল্পী, এই বিশ্বাস তাদের মধ্যে নেই। শিল্পীদের আত্মসম্মানবোধ থাকতে হবে, সবাইকে গুরুত্বও দিতে হবে। কিন্তু অনেকেই শিল্পী হয়েও আন্তরিক নয়। এই কারণে অনেকে জনপ্রিয়তা পেয়েও হারিয়ে গেছে। তারা থাকলে এই অঙ্গনটা আরও বেশি সমৃদ্ধ হতো।

এখন কী নিয়ে ব্যস্ত?

৫–৬টি নাটকে অভিনয় করছি। সামনে দুটি ওয়েব সিরিজ নির্মাণ শুরু করব।