শুভ জন্মদিন, দিনটি কেমন কাটছে?

অনেক অনেক ধন্যবাদ। দিনটি অনেক ভালো কাটছে। এত মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, ফোনে, ফেসবুক স্ট্যাটাসে ভালোবাসা জানাচ্ছেন, আমার স্ট্রাগলসহ নানা কথা লিখছেন, এসবই ইমোশনাল করে দিচ্ছে। এসব প্রাপ্তিতে দিনটা এবার একদমই অন্য রকম ভালো লাগা কাজ করছে।

বাইরে কিছুটা শব্দ হচ্ছে, কোথায় রয়েছেন?

আমি চট্টগ্রামে এসেছি। আরও এক দিন থাকব। স্বামী সনিকে নিয়ে জন্মদিনটা উদ্‌যাপন করতে এভাবে আসা। তা ছাড়া আমারও একটি কাজ রয়েছে।

বিয়ের পর প্রথম একসঙ্গে দিনটি কাটাচ্ছেন?

হ্যাঁ, বিশেষ দিনে বিশেষ মানুষ পাশে রয়েছে, আর কী লাগে? এবার ঢাকার বাইরে এসে দিনটা উদ্‌যাপন করা আমার জন্য খুবই বিশেষ। কারণ, সনিকে নিয়ে খুব একটা ঘোরার সময় পাওয়া যায় না। এবারও একসঙ্গে আসার সুযোগ হতো না। আমার জন্মদিন আর কাজের জন্য সনি (মিমের স্বামী সনি পোদ্দার) এক দিন ছুটি নিয়েছে। এটাই আমার জন্য অনেক বড় কিছু। ওর ব্যাংকে চাকরি তো, এক দিন ছুটি মানেই অনেক কিছু।

ফেসবুকে লিখেছেন, আজকের দিনেই আপনাদের এনগেজ হয়েছিল? বিয়ের পর জীবনটা কেমন?

আজ আমাদের এনগেজ হয়েছিল। আমার জীবনের সেরা একটি দিন। আর বিয়ের পর আসলে জীবনটাই অন্য রকম হয়ে গেছে। আগে তো কেউ না থাকায় এভাবে দিনটি উদ্‌যাপন করা হতো না। জন্মদিনের শুরুতেই সনি আমাকে বিশাল সারপ্রাইজ দিয়েছে। রাতে আমাদের পরিচিত অনেকেই ছিলেন, ভালো লাগছে। কেক কেটেছি, ভোর চারটা পর্যন্ত বারবিকিউ পার্টি করেছি।

জীবনের আরও একটি বছর কেটে গেল? পেছনে তাকালে কী মনে হয়?

জীবন নিয়ে এই সূত্র আমি কখনোই মেনে চলি না। একটি বছর কেটে যাওয়া মানেই সব শেষ নয়। জীবনের প্রতিটা মুহূর্তই আনন্দের। বেঁচে থাকাটাই আনন্দের। খুব একটা পেছনে তাকাই না। জন্মদিনে আমি প্রতিবার নিজের মুখোমুখি হই। আমি সব সময় ভাবি, নিজেকে কীভাবে ছাড়িয়ে যাওয়া যায়।

ব্যবসাসফল ‘পরাণ’–এর পর ‘দামাল’ মুক্তি পেয়েছে, সিনেমাটি থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

‘পরাণ’ তো আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। বলে শেষ করা যাবে না। ‘দামাল’ সিনেমা থেকে অনেক ভালো সাড়া পাচ্ছি। কারণ, ব্যতিক্রমী একটি চরিত্রে অভিনয় করেছি। গল্পটা আমাদের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ফুটবল খেলাকে নিয়ে। চরিত্র নিয়ে দর্শক অনেক প্রশংসা করছেন। চট্টগ্রামের দর্শকেরাও সিনেমাটি পছন্দ করেছেন। অনেক ব্যস্ততা, তারপরও ইচ্ছা আছে, সময় পেলে কোনো একটি হলে যাব। দুটি সিনেমার সফলতার পর শুধু এটাই মনে হচ্ছে, এখন আরও বেছে বেছে কাজ করতে হবে।

‘পরাণ’–এর পর আপনাকে তেমন কোনো সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হতে দেখা যায়নি?

আমি এর মধ্যে ছয়টি সিনেমার প্রস্তাব ফিরিয়েছি। এসব প্রাপ্তির পর এখন ভালো গল্পের সিনেমায় কাজ করতে চাই। যে সিনেমাগুলো এ সময়ের দর্শকেরা পছন্দ করবেন। নিজের পছন্দের বাইরে হয়তো এখন আর কোনো সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হব না।

এক যুগের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে আপনার সেরা প্রাপ্তি কী?

এর মধ্যেই আমি অনেক কিছু পেয়েছি। হুমায়ূন আহমেদ স্যারের সিনেমায় কাজ করেছি। অল্প বয়সে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছি। স্কুলে পড়াশোনা করার সময় ‘চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছি। পরে বিজয়ীও হয়েছি। মিডিয়ায় জায়গা ধরে রাখাটা কঠিন। সেখানে ‘আমার আছে জল’, ‘জোনাকির আলো’, ‘সুলতান’, ‘পরাণ’–এর মতো সিনেমায় অভিনয় করেছি। দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছি, এগুলোই সেরা প্রাপ্তি।

জীবন চালিয়ে নেওয়ায় আপনার কাছে বড় শক্তি কী?

নিজের মতো করে জীবন চালিয়ে নেওয়া। নিজেকে সব সময় বলি, তোমার যেটা ভালো লাগছে, সেটাই করে যাও। নিজের মতো করে জীবনটা উপভোগ করা।