‘নকশি কাঁথার জমিন’ চলচ্চিত্রে আপনি সহশিল্পী হিসেবে পেয়েছেন জয়া আহসানের মতো একজনকে। এটা আপনার অভিনয়ের ক্ষেত্রে সহজ নাকি চ্যালেঞ্জ হয়েছে?

জয়া আপাকে সহশিল্পী হিসেবে পাওয়া আমার জন্য আনন্দ ও সৌভাগ্যের। যখনই শুনেছি জয়া আপা আমার সহশিল্পী, তখন থেকে খুবই এক্সাইটেড ছিলাম। আমি আর জয়া আপা সহশিল্পী হিসেবে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক কাজ করেছি। ‘পুত্র’ চলচ্চিত্রে যেমন করেছি, তেমনি আছে দুটি বড় ধারাবাহিক, এক ঘণ্টার কাজ দুটি। জীবনের প্রথম ধারাবাহিক নাটক ‘৬৯’-এ যখন আমি কাজ করি, তখন থেকেই জয়া আপা আমার সহশিল্পী। তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু জেনেছি, শিখেছি, দেখেছি। বড় শিল্পীর সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই অনেক বেশি প্লাস পয়েন্ট। এতে নিজের কাজও উন্নতি করার সম্ভাবনা থাকে। বড় শিল্পীর সঙ্গে কাজ করলে নিজের কাজও ভালো করার সম্ভাবনা থাকে। আমি সব সময় সবার কাছ থেকে আন্তরিক সহযোগিতা পেয়েছি। আমার কাছেও মনে হয়, বড় শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করলে সব সময় চেষ্টা থাকে আমার কাজটা তাঁদের লেভেলে ওঠানোর।

আপনার ফেসবুকে পোস্ট করা কয়েকটি স্থিরচিত্র থেকে দেখা গেছে, গোয়া চলচ্চিত্র উৎসবে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অনেকের সঙ্গে দেখা হয়েছে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সম্পর্কে তাঁদের সঙ্গে কোনো আলাপ হয়েছে কি বা ধারণাটা কেমন?

আমাদের দেখা হওয়ার বিষয়টি কাকতালীয়। গোয়া চলচ্চিত্র উৎসবে ভারতের প্রিয় অনেক শিল্পীর সঙ্গে দেখা হয়েছে। আমরা একই হোটেলে ছিলাম। লবিতে কারও না কারও সঙ্গে দেখা হয়েছে। আমি যখন বলেছি, বাংলাদেশ থেকে এসেছি, তাঁরা অনেক খুশি হয়েছেন, কথা বলেছেন। আমাদের উইশ করেছেন, কংগ্র্যাচুলেট করেছেন। এমনিতে প্রিয় শিল্পীদের সঙ্গে যখন দেখা হয়, আর কথা বলার সুযোগ থাকে না। প্রিয় শিল্পীর উপস্থিতিটাই উপভোগ করি—আমারও তা–ই হয়েছিল এ আর রহমান ও মণিরত্মমকে দেখে।

একটা সময় নাটকে অভিনয় করতেন, এরপর চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেন। বড় পর্দায় নাম লেখানো স্বপ্ন ছিল? নাকি ব্যাপারটা এমন—অভিনয় করতে করতেই হয়ে গেছে?

প্রথমে বিটিভিতে খবর পড়তাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় এনটিভিতে অনুষ্ঠান উপস্থাপনাও করি। বাংলাভিশনেও কাজ করি। খবর পড়া, অনুষ্ঠান উপস্থাপনা—কোনোটাই কেন জানি ভালো লাগছিল না। এরপর আমার ভাবি, বন্ধু, বড় বোন, যেটাই বলুন, তিনি অ্যানি; তাঁর সঙ্গে শুটিং দেখতে ‘৬৯’–এর সেটে যাই। ওখানে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ভাই অভিনয়ের জন্য অ্যাপ্রোচ করেন। আমি বললাম, করা যায়। এভাবে অভিনয় শুরু। আমি জানতাম, হয় গান, না হয় অভিনয়—এসবের একটায় থাকব। সংস্কৃতির যেকোনো বিষয়ে সব সময় আমার একটা আকর্ষণ ছিল। আমার মনে হতো, এটাতেই থাকব। আমার বিশ্বাস ছিল, চাকরি–বাকরি আমাকে দিয়ে হবে না। তবে অভিনয়ের আসার কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল না। আমাদের পরিবারেও কেউ বিনোদন অঙ্গনে কাজ করেনি। প্রচুর নিষেধাজ্ঞার মধ্যে যতটুকু পেরেছি করেছি। এটা ঠিক, অভিনয় করতে করতে বড় পর্দায় কাজ করার লক্ষ্য স্থির করি। ‘৬৯’ ধারাবাহিকের পর বড় বাজেটের চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাবও পেয়েছিলাম। কিন্তু পরিবার থেকে নিষেধ ছিল। মা–বাবার বক্তব্য ছিল, নাটকে কাজ করো, কিন্তু সিনেমায় করা যাবে না। কারণ, সিনেমা সম্পর্কে মা–বাবার পরিষ্কার কোনো ধারণা ছিল না। অনেক দিন ধরে যখন কাজ করছিলাম, তখন আর সিনেমায় অভিনয়ে আপত্তি কেউ করেনি।

যত দূর জানি, আপনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নৃবিজ্ঞানে পড়েছেন। অভিনয়ে আপনার আগ্রহের পেছনে কোনো বিশেষ ভাবনা কাজ করেছে? অথবা কোন ধরনের ইচ্ছা থেকে অভিনয়ে এসেছেন?

নৃবিজ্ঞানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাস্টার্স করেছি। এখানে পড়ার সময় খবর পড়া, উপস্থাপনা শুরু করি। তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় ‘৬৯’ ধারাবাহিকের কাজও শুরু করি। সে সময় অনেক বিজ্ঞাপনচিত্রেও কাজ করেছি। অভিনয় ভালো লাগত। আমারও ইচ্ছা হয় সুযোগ পেলে ভালো ভালো কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার। তখন আমার কাছে মনে হতে থাকে, যখন আমি ক্যামেরার সামনে অভিনয়ে থাকি, ভালো লাগে। এমনও ভেবেছি, লেগে থাকলে এটাই ভালো হবে। আমি আসলে অভিনয়ই করতে চাই।

অভিনয় নিয়ে আপনার ভবিষ্যতের স্বপ্নটা কী?

আমি খুব একটা স্বপ্ন দেখি না। সব সময় বর্তমানে নিয়েই ভাবতে থাকি। স্বপ্ন দেখি না, কারণ স্বপ্ন ভাঙার কষ্টটা বেশি। তবে অভিনয় ভালো লাগে, অভিনয় করতে চাই। ভালো চলচ্চিত্রে কাজ করতে চাই। বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করবে—তেমন কিছু চলচ্চিত্রে কাজ করতে চাই। এটাই আমার স্বপ্ন, এটাই আমার ইচ্ছা। নিজের যদি যোগ্যতা হয়, চলচ্চিত্র বানাব, মানে প্রযোজনা করব। দেশে বা দেশের বাইরে যদি কোনো ভালো ছবির সঙ্গে যুক্ত হওয়া যায়, সেটাও ইচ্ছা।